
আমি উত্তরাধিকার সূত্রে
শুধু জন্মই পেয়েছি।
কোন সম্পত্তি নয়,
বাড়ি নয়, গাড়ি নয়,
সুদৃঢ় ভবিষ্যৎ নয়।
শুধু পেয়েছি
কয়েকটি হীরকখণ্ড বর্ণমালা।
আমার জন্মে
খুশি হয়নি কেউ।
আনন্দের কোন ঢেউ
লাগেনি কোথাও।
বড় অবহেলায়
বেড়ে উঠা এক শিশু।
গায়ের রঙ কালো বলে
বাড়তি বোনাসও ছিলো।
তবে মামুলি
আর দশটা শিশুর চেয়ে
বুদ্ধি একটু বেশীই ছিলো ঘটে।
তাই কথা বললেই
থামিয়ে দিত দাদা,
খনার বচন দিচ্ছো বলে
তিরস্কারও খুব পেয়েছি বটে।
পুরুষতান্ত্রিক সমাজ
এখনো বুদ্ধিমান নারী
ধারণ করার জন্যে
তৈরী হতে পারেনি।
তাই তাদের বৈরী বাতাসে
টিকে থাকার লড়াই ছাড়িনি।
হীরের টুকরো অক্ষর ক'টা
দেখিয়ে দিল পথ,
কেমন করে চলছে মানুষ
চলছে এ জগত।
পড়াশোনায় স্কুলবেলাতে
পেরে উঠেনি কেউ,
তাই নানাছলে আটকাতে তা
তুলতো বিয়ের ঢেউ।
বুঝতে পেরে তাদের ফাঁদে
দিইনি কভু পা,
আজ আমায় দেখে ধন্য বলে
গর্বে নাচে গাঁ।
মেয়ে শোন,
আমার পিছে
মামা-চাচা নেই কোন।
মগজে যতটুকু ঘিলু ছিলো,
সেটাই নিংড়ে নিয়ে ছিনু,
আর এই
কাজের দু'টি হাত,
অষ্ট প্রহর খেটে খেটে
খুলেছে বরাত।
হ্যাঁ যুদ্ধ বেধেছে পদে পদে,
ডিঙিয়ে চলেছি একে একে,
সফলতাই জানে শুধু লোকে,
পথের কষ্ট ক’জনই বা দেখে!
জিরিয়েছি ক্লান্ত হলে,
থামিনি কোনদিন,
পথে পেয়েছি অনেকের ভালোবাসা
তাঁদের কাছে
আমার অনেক ঋণ।
সেই তো হাঁড়িই ঠেলতে হবে
এতো পড়ে কী বা কাজ!
মেয়ে মানুষ থাকবে ঘরে
সংসার ধর্মই মাথার তাজ।
মেয়েদের হয় না বাড়ি,
হয়তো বাবার, নয়তো স্বামীর,
নয়তো শেষে ছেলেরটাই।
তাই ঠিক করেছি
নিজেই করবো,
নিজের মাথা গুঁজার ঠাঁই।
দেখুক সমাজ, দেখুক লোকে
নারীর নিজের বাড়িও হয়!
চাইলে নারীও হতে পারি,
আরও দু'চারজনের স্নেহাশ্রয়।
চলতে পারি নিজের পায়ে
বলতে পারি কথা,
কোথায় আমার আনন্দ
আর কোথায় দুঃখব্যথা।
সম্বল শুধু
মায়ের শিক্ষা,
দয়া ভিক্ষা করো না কারো,
পরিশ্রম করলেই জয়ী হতে পারো,
সততার সাথে যদি থাকে মনোবল,
তোমাকে ঠেকায় কে
নিজের লক্ষ্যে থেকো অবিচল।
মা বলতো,
কর্মকে ধর্ম জ্ঞান করে,
সততাকে আঁকড়ে অন্তরে,
পরিশ্রমকে করো যদি পুঁজি,
সুখ-শান্তি-সম্মান
তোমারেই ফিরিবে খুঁজি।
মেয়ে শোন,
রূপে তোমার কৃতিত্ব নেই কোন,
রূপ বিধাতার দান।
যদি কর্মে তোমার
বাড়াতে পার গুণ,
তবেই বাড়বে সম্মান।
মর্যাদার জন্যে
জিম্মি রেখেছি আরাম,
হারাম কাজ করিনি কখনো,
সততার জন্যে স্বেচ্ছায়
নিয়েছি বন্ঞ্চনা
মিথ্যের সাথে আপস
করিনি কোন।
সম্মানের জন্যে
জীবন রেখেছি বাজি,
রাজি হইনি শত প্রলোভনে,
আমার জীবন
আমিই চালাব বলে,
পরজীবি হয়নি কোনক্ষণে।
শোন মেয়ে,
অনেক কেঁদেছো,
কেঁদোনা আর।
এখনই সময় ঘুরে দাঁড়াবার।
তোমার হাত আছে?
পা ও আছে,
মাথাও আছে ঠিক!
তবে তুমি কেন অন্যের
বোঝারও অধিক!
অথবা পুতুল তুমি
চাবি দিলেই নাচো,
আত্মসম্মান বিকিয়ে দিয়ে
অন্যের দয়ায় বাঁচো।
শোন মেয়ে,
অন্যের কাঁধ থেকে নামো,
নিজের পায়ে ভর করে
মাটিতে দাঁড়াও।
কর্ম কর, নড়চড়,
অন্যের কাজেও দু'হাত বাড়াও।
ছাড় পরজীবি ভাবনাও।
তুমিও মানুষ হবে
নিজে যদি চাও,
ভালোবাসো মানুষেরে
দু'হাত বাড়াও।
জগতের সকল কর্মজীবী , জীবন যোদ্ধা নারীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]