
বাঙালি জাতিসত্তা ও হাজার বছরের গৌরবময় ঐতিহ্যকে ধারণ করেঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদের (ডিইউসিএস) উদ্যোগেবর্ণিল আয়োজনেউদ্যাপিত হলো'বর্ষবরণ উৎসব ১৪৩৩' ।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি প্রাঙ্গণে) দিনব্যাপী আয়োজনে লোকজ ঐতিহ্য ও আধুনিক সাংস্কৃতিক পরিবেশনা সমন্বয়ে বর্ষবরণ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। মুখ্য আলোচক হিসেবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। এই আয়োজন তরুণদের সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক চর্চাকে উৎসাহিত করবে।
অনুষ্ঠানটি উদ্বোধনের সময় মাননীয় উপাচার্য ড.এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, এই আয়োজনের মাধ্যমে আমরা আমাদের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে চাই।শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, চিন্তা ও অংশগ্রহণই এই উদ্যোগের মূল শক্তি। আমরা বিশ্বাস করি, এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতে আরও ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
এই বর্ষবরণ উৎসব ১৪৩৩ নিয়ে সংগঠনের সভাপতি আতিকুর রহমান ত্বহা বলেন, সাংস্কৃতিক উত্থান-পতনের এক দশকে, আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদ ছিলাম নিজেদের লক্ষ্যপূরণে অটল, সেই যাত্রাকে ধরে রাখতে আমাদের এই আয়োজন।
সাধারণ সম্পাদক স্মীতা পুরকায়স্থ বলেন, একটি আধুনিক ও ঐতিহ্যমন্ডিত প্রজন্মের মেলবন্ধন ঘটানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর মাঝে বাংলার সংস্কৃতির চেতনা সমৃদ্ধ করা ও তার চর্চায় অনুপ্রাণিত করার এই লক্ষ্যে দেশের সকল সংস্কৃতিমনা মানুষকে আমাদের সারথী হওয়ার আহ্বান জানাই।
সভাপতির বক্তব্যে সংগঠনের মডারেটর ড.রাশেদা রওনক খান বলেন, আমরা চাই প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন উৎসবের আমেজে নিজেদের শেকড়ের সাথে এক গভীর সংযোগ অনুভব করতে পারে এবং প্রতিটি সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ টিএসসিকে খুঁজে পায় তাদের এক অতিপরিচিত প্রিয়াঙ্গন হিসেবে।
বর্ষবরণ উৎসব ঘিরে সকাল থেকে ছিল লোকজ মেলা, ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী আয়োজন এবং মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। গ্রামীণ আবহে সাজানো মেলায় ছিল বৈশাখী পোশাক, অলংকার, হস্তশিল্প ও দেশীয় খাবারের নানা স্টল। পাশাপাশি নাগরদোলা, পুতুল নাচ, বায়োস্কোপ ও পুঁথিপাঠের মতো বাঙালির চিরায়ত সংস্কৃতির বিভিন্ন অনুষঙ্গ নগরজীবনে ফিরিয়ে আনে গ্রামবাংলার চিরচেনা আবহ।
উৎসব উপলক্ষে মিডিয়া পার্টনার ছিল বিবার্তা২৪ ডট নেট সহ বিভিন্ন গণমাধ্যম।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]