পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী ঘোষণা ওআইসির
প্রকাশ : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭, ১১:৩৩
পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী ঘোষণা ওআইসির
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী ঘোষণা করেছে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে বিপজ্জনক বলে তা প্রত্যাখ্যান করেছে মুসলিম দেশগুলোর নেতারা এবং তাদের পদক্ষেপকে স্বীকৃতি দিতে বিশ্ববাসীকে আহ্বান জানিয়েছে।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার এক সপ্তাহ পর তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে বুধবার ওআইসির বিশেষ জরুরি শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় এবং সেখানেই মুসলিম নেতারা ফিলিস্তিনকে স্বাধীন দেশ ও পূর্ব জেরুজালেমকে তার রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানান।


সম্মেলন শেষে এক কড়া বিবৃতিতে ওআইসির নেতারা বলেছেন, ৫৭ জাতির এ জোট দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের বিষয়ে ন্যায্য ও পূর্ণাঙ্গ শান্তির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে।


সংস্থাটি ফিলিস্তিনের ওপর থেকে ইসরাইলের দখলদারিত্বের অবসান ঘটাতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি ট্রাম্প যদি তার অবৈধ সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসেন তাহলে সমস্ত পরিণতির জন্য তাকে দায়ী থাকতে হবে সতর্ক করা হয়েছে।


ওআইসির নেতারা তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, আমরা মনে করি এটা বিপজ্জনক এক ঘোষণা যার লক্ষ্য হচ্ছে জেরুজালেমের আইনগত মর্যাদা পাল্টে দেয়া। ট্রাম্পের এ ঘোষণা বাতিল করা হলো এবং এর কোনো বৈধতা নেই।


ওআইসির বর্তমান চেয়ার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান জরুরি এই সম্মেলেনের ডাক দেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ইসরাইল একটি দখলদার ও সন্ত্রাসী রাষ্ট্র।


যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোটের অন্যতম সদস্য তুরস্ক ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে বলেছে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ বিশ্বে এমন এক আগুন জ্বালাবে, যা শেষ হবে না।


ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রকে ধিক্কার জানান। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, জেরুজালেমকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি না দেয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে ‘কোন ধরনের শান্তি ও স্থিতিশীলতা’ আসবে না।


আব্বাস বলেন, জেরুজালেম আজীবনের জন্য ফিলিস্তিনের রাজধানী হবে। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা আসবে না। এর আর কোন বিকল্প নেই। ট্রাম্পের ঘোষণাকে সরাসরি ইসরায়েলের পক্ষাবলম্বন হিসেবে দেখছেন আব্বাস। তিনি সম্মেলনে ভাষণে বলেন, এরপর আর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় থাকার অধিকার নেই।


ওআইসির জরুরি শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেননি সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ কিংবা যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমান। এ সম্মেলনে সৌদি সরকার এমনকি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকেও পাঠাননি। এতে পাঠানো হয়েছে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন সিনিয়র কর্মকর্তাকে। অথচ সৌদি আরবেই রয়েছে ওআইসি'র সদরদপ্তর। এছাড়া মিশরসহ অন্য আরো কয়েকটি আরব দেশ তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাঠিয়েছে।


ওআইসির জরুরি শীর্ষ সম্মেলন ডাকায় তুরস্ককে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। তিনি বলেছেন, এই সম্মেলন ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে মুসলিম বিশ্বে আশা সঞ্চার করেছে।


রুহানি বলেন, ওআইসির শীর্ষ সম্মেলন থেকে যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে মুসলিম দেশগুলোকে সে ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। মুসলিম দেশগুলো কঠোর অবস্থান নিলে মার্কিন সরকার তার সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে পারবে না।


ইস্তাম্বুল সম্মেলনে বেশিরভাগ মুসলিম দেশের সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধানরা উপস্থিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেন, এই উপস্থিতি ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে মুসলিম বিশ্বের ঐক্যমত্য ফুটিয়ে তুলেছে। ফিলিস্তিনিদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে এই ঐক্যমত্য কাজে লাগবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সূত্র: আল জাজিরা ও রেডিও তেহরান


বিবার্তা/জাকিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com