
বরিশালের মুলাদীতে পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আল আমিন হাওলাদার (২৩) নামের এক যুবককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (১৭ মে) দুপুরে উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের উত্তর বালিয়াতলী গ্রামে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহত আল আমিন হাওলাদার ওই ইউনিয়নের দক্ষিণ বালিয়াতলী গ্রামের হানিফ হাওলাদারের ছেলে। তিনি এলাকায় ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাতেন। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে নোমান পন্ডিত ও আজিজুল সরদার নামের দুই ব্যক্তি আল আমিনের বাড়িতে যান। তারা আল আমিনকে তার পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে বাড়ির বাইরে ডেকে নেন এবং নিজেদের মোটরসাইকেলে করে নোমান পন্ডিতের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে নোমান পন্ডিত, আজিজুল সরদার, কাওসার আকন, শাহাবুদ্দিন ঘরামীসহ কয়েকজন মিলে আল আমিনকে এলোপাতাড়ি মারধর ও ছুরি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। একপর্যায়ে আল আমিনকে মৃত ভেবে তারা পার্শ্ববর্তী একটি বিলের মধ্যে ফেলে রেখে যান।
ঘটনাটি দেখতে পেয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তি আল আমিনের ভাই আসিফ হাওলাদারকে মুঠোফোনে জানান। পরে স্বজনেরা গিয়ে বিলের পাশ থেকে আল আমিনকে উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. কামরুল হাসান তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ভাই আসিফ হাওলাদার বলেন, 'আমার ভাই ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাতেন। প্রায় ১৫ থেকে ২০ দিন আগে তিনি একটি মাদক মামলায় জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়ি ফেরেন। আল আমিন বিভিন্ন সময়ে নোমান পণ্ডিত, আজিজুল সরদার, কাওসার আকন, শান্ত হাওলাদারসহ কয়েকজনকে প্রায় ১০ লাখ টাকা ধার দিয়েছিলেন। কারাগার থেকে ফেরার পর টাকার প্রয়োজন হওয়ায় তিনি নোমানসহ অন্যদের কাছে সেই টাকা ফেরত চান। আজ পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলেই তাঁরা আল আমিনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছেন।'
এদিকে আল আমিনকে উদ্ধারের সময় তার স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা ধাওয়া করে ঘটনাস্থল থেকে নোমান পন্ডিত ও আজিজুল সরদারকে আটকে রেখে পুলিশে সোপর্দ করেন। পরে সফিপুর ফাঁড়ির পুলিশ ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে শাহাবুদ্দিন ঘরামী নামের আরেক অভিযুক্তকে আটক করে।
মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]