
কোনো প্রধান বিচারপতির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হওয়ার দরকার নেই বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
রবিবার (১৭ মে) বিকেলে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং গুমসংক্রান্ত আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে অংশীজন সভায় তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামন বলেন, আইন কমিশন সৃষ্টির পরে ২২টা ল-এর রিকমেন্ডেশন করেছেন মনে হয়, ৮টা ল তার থেকে নেওয়া হয়েছে। এটার বিনিময়ে ১৬৫ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। আর এর চেয়েও বড় ক্ষতি হয়েছে প্রতিষ্ঠানের। সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতি, উনি চিন্তা করেন আমার রিটায়ারমেন্টের পরে ওই জায়গাটা আমার জন্য কীভাবে নেওয়া যায়। কোনো প্রধান বিচারপতির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হওয়ার দরকার নেই।
তিনি আরও বলেন, আপনি প্রধান বিচারপতিকে কেয়ারটেকার গভর্মেন্টের প্রধান করতে চাবেন, উনি রিটায়ারমেন্টের পরে হিসাব কষা শুরু করবেন। আমরা এই জায়গাগুলো রিথিঙ্ক করি। এই এপিসোড আমরা দেখেছি। আমরা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদেরকে রিটায়ারমেন্টের পরে বিভিন্ন জায়গায় বসানোর চিন্তা করছি ওদেরকে জুডিশিয়াল ফাংশনটা আরও বেশি মোর ইফেক্টিভলি অ্যান্ড ইন্ডিপেনডেন্টলি করার জন্য আমরা পেভমেন্ট তৈরি করে দিই, রাস্তা তৈরি করি, সেটাই আমাদের জন্য মনে হয় ভালো হবে।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, অনুসন্ধান চ্যাপ্টারটা বাদ রেখে সরাসরি তদন্তে দিয়েছি। কারণ অনুসন্ধান করে একটা প্রাইমারি স্যাটিসফ্যাকশন নিয়ে আবার তদন্ত করে আরেকটা প্রাইমারি স্যাটিসফ্যাকশন নেবেন, তত দিনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার যিনি হন, তার কমিশনের পিছনে দৌড়াতে দৌড়াতে পায়ের তলা ক্ষয় হয়ে যাবে। ওইটা আমরা একটা স্টেজ, একটা স্টেপ আমরা ই করেছি, স্কিপ করেছি। থার্ড হলো, আমরা একটা ফোরাম রেখেছি, যে কমিশনের ভেতর থেকে ধরেন পাঁচজনের কমিশনার, একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হবে তুমি ইনভেস্টিগেশনটা কগনিজেন্স নিবা এবং ইনভেস্টিগেশনটা দেখভাল করবা। ফলে ওনার রেসপন্সিবিলিটি তদন্তে পাঠিয়ে দেওয়া। কমিশনের ফরমাল মিটিং ৩০ দিন পর পর হবে, সেটার জন্য অপেক্ষা করতে আমরা রাখি নাই।
তিনি আরও যোগ করেন, তিনি যদি কোনোটা স্কিপ করে বা রিজেক্ট করে, ১৫ দিনের মধ্যে যদি কোনো স্টেপ না নেয়, আমরা সেটার বিরুদ্ধে রিভিউয়ের ব্যবস্থা রেখেছি। যাতে কমিশনের পাঁচজনের সামনে বিষয়টা চলে যায়, উনি স্কিপ করলে। প্রাইমারি তদন্ত রিপোর্টে তিনি যদি কোনো জায়গায় গাফিলতি করেন, সেটার ব্যাপারেও আমরা রিভিউয়ের ব্যবস্থা রেখেছি।
এ সময় প্রস্তাবিত নতুন আইনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ক্ষমতা কোনোভাবেই খর্ব বা সীমাবদ্ধ করা হবে না, বরং প্রতিষ্ঠানটিকে আরও শক্তিশালী ও স্বাধীন করা হচ্ছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এটি আমরা সঠিক বিবেচনা থেকেই বাদ দিয়েছি। কোনো পাবলিক পলিসি বা আইনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সব ইনস্ট্রুমেন্ট উল্লেখ করার আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। এটি আইনের কার্যকারিতা বা ইনফোর্সমেন্টের ক্ষেত্রে কোনো অন্তরায় বা দুর্বলতা তৈরি করবে না।’
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা বাছাই কমিটিতে থাকতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। বিচারিক কাজে অত্যন্ত ব্যস্ত থাকার কারণে তারা অপরাগতা প্রকাশ করছেন।
উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘তথ্য কমিশনের বাছাই কমিটির জন্য আমরা দেড় মাস ধরে চিঠি পাঠিয়ে রেখেছি, কিন্তু উনাদের ব্যস্ততার কারণে এখনো কমিটিই গঠন করা সম্ভব হয়নি।’
মন্ত্রী আরও যোগ করেন, ‘আমরা পার্লামেন্ট বা আইন মন্ত্রণালয়কে একেবারে উপেক্ষা করতে পারি না, কারণ এগুলো একেকটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। তবে আপনারা যদি এর চেয়ে ভালো কোনো বিকল্প ও নিরপেক্ষ মেকানিজম বা পদ্ধতির প্রস্তাব দেন, আমরা অবশ্যই তা বিবেচনা করব।’
সভায় গুমের অভিযোগ ও তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন একজন প্রতিনিধি। এই উদ্বেগের জবাবে আইনমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, ‘বাহিনী প্রধানের রিপোর্ট যদি কমিশনের কাছে গ্রহণযোগ্য না হয়, তবে কমিশন তার নিজস্ব ক্ষমতাবলে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। এছাড়া কোনো বাহিনীর প্রধান যদি তার অধীনস্থ কাউকে বাঁচাতে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন, তবে তাকেও জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে, যা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি ও আইনি পরিণতি ডেকে আনবে।’
গুমসংক্রান্ত বিষয়ে আইনের খসড়া নিয়ে মোটেই সন্তুষ্ট নন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গুম বিষয়ক যে অধ্যাদেশটি আনা হয়েছিল, তাতে অপরাধীরাই বেশি সুযোগ পেতো। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং গুমসংক্রান্ত আইন খুব শিগগিরই জনগণের সামনে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা অভিযোগ করেন, অতীতে রাজনৈতিক নেতাদের সাজা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এক ধরনের রাজনৈতিক নিপীড়ন চালানো হয়েছিল। সন্ধ্যা বা রাতের বেলা মোমবাতি জ্বালিয়ে তড়িঘড়ি করে ১০ থেকে ২০ জন সাক্ষী নিয়ে এক রাতেই সাজা দেওয়ার নজির তৈরি করা হয়েছিল, যা স্পষ্টতই মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]