সারাদেশ
দৌলতপুরে ‘পীর’ হত্যা : আসামি হওয়ার ভয়ে স্কুলছাত্রের আত্মহত্যা
প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৬, ২৩:২৬
দৌলতপুরে ‘পীর’ হত্যা : আসামি হওয়ার ভয়ে স্কুলছাত্রের আত্মহত্যা
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ‘পীর’ শামীম হত্যা মামলায় আসামি হওয়ার ভয়ে লাম (১৪) নামে এক স্কুলছাত্র গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।


শনিবার (১৬ মে) দুপুরে ঢাকার আশুলিয়ায় তার খালার বাসায় সে আত্মহত্যা করে। নিহত লাম দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলামপুর হঠাৎপাড়া গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে এবং পিএসএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্র।


নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, ‘পীর’ শামীম জাহাঙ্গীর ওরফে আব্দুর রহমান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত স্কুলছাত্র লামের বড় ভাই আলিফকে ২৬ এপ্রিল রাতে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে দৌলতপুর থানা পুলিশ।


বড় ভাই গ্রেফতার হওয়ার পর মা বাবার বকুনি খেয়ে এবং হত্যা মামলার আসামি হওয়ার ভয়ে লাম ঢাকার আশুলিয়া তার খালা সীমা ও খালু কোরবান আলীর বাড়িতে পালিয়ে আশ্রয় নেয়।


সেখানেও খালা খালু তাকে বকুনি দিলে আত্মভয়ে লাম শনিবার দুপুরে খালুর বাড়িতে গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করে। খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে আজ রবিবার দুপুরে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করলে তারমরদেহ নিজ গ্রামে নেওয়া হয়। সেখানে রাত ১১টায় জানাজা শেষে ফিলিপনগর-ইসলামপুর কবরস্থানে স্কুলছাত্র লামের দাফন সম্পন্ন করা হয়।


দৌলতপুর উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামে বিক্ষুব্ধ জনতার হামলায় পীর শামীম জাহাঙ্গীর নিহত হয়। ঘটনার সময় লাম ও তার বড় ভাই আলিফ দেখতে গেলে তা ক্যামেরায় ধরা পড়ে। ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা বিশ্লেষন করে পুলিশ আলিফকে গ্রেফতার করে। আলিফ গ্রেফতার হওয়ার পর তার বাবা-মা লামকে বকা-ঝকা করে খালার বাসায় পাঠিয়ে দেয়।


এরআগে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগ এনে ১১ এপ্রিল দুপুর আড়াইটার দিকে দৌলতপুর উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামে বিভিন্ন বয়সী শতাধিক বিক্ষুব্ধ জনতা পীর শামীম জাহাঙ্গীরের আস্তানায় হামলা চালায়। এসময় কিলার রাজিব মিস্ত্রিসহ হামলাকারী যুবকরা পীর শামীমকে তার কক্ষ থেকে টেনে হেঁচড়ে বের করে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে তাকে দোতলা থেকে নীচে ছুড়ে ফেলে। এরপর হামলাকারীরা সংগবদ্ধভাবে আস্তানায় আগুন জ¦ালিয়ে ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাটের তান্ডবলীলা চালায়।


হত্যাকাণ্ডের ৩দিন পর ১৩ এপ্রিল রাতে নিহতের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক ফজলুর রহমান সান্টু বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৮০-২০০ জনকে আসামি করা হয়।


এজাহার নামীয় আসামিদের মধ্যে রয়েছে ইসলামী ছাত্র শিবির কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাবেক সভাপতি ও দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য খাজা আহম্মেদ (৩৬)। তাকে ১নম্বর প্রধান আসামি করা হয়। মামলার অপর ৩ আসামি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ দৌলতপুর উপজেলা শাখার সভাপতি ও হোসেনাবাদ বিশ্বাসপাড়া গ্রামের মৃত এরশাদ আলীর ছেলে আসাদুজ্জামান আসাদ (৪৮), ফিলিপনগর এলাকার গাজী মিস্ত্রির ছেলে জামায়াত সমর্থক রাজিব মিস্ত্রি (৩২) এবং স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষক ও ফিলিপনগর ইসলামপুর গ্রামের সিহাব উদ্দিন ওরফে সাফি (৪৫)। এরমধ্যে কিলার রাজিব মিস্ত্রি র‌্যাবের
অভিযানে রাজশাহী থেকে গ্রেফতার হয়।


বিবার্তা/শরীফুল/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com