তাজা মুরগির সঙ্গে মরা মুরগি মিশিয়ে বিক্রি, ব্যবসায়ীর স্বীকারোক্তি
প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৬, ০০:০৭
তাজা মুরগির সঙ্গে মরা মুরগি মিশিয়ে বিক্রি, ব্যবসায়ীর স্বীকারোক্তি
নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার নন্দীগ্রাম হাট সংলগ্ন নতুন বাজারের দুই মুরগি ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে তাজা মুরগির সঙ্গে মরা মুরগি মিশিয়ে জবাই করে বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ ও ফাস্ট ফুডের দোকানে সরবরাহ করার অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত মুরগি ব্যবসায়ী উজ্জ্বল হোসেন ও শামীম হোসেন অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন।


জানা গেছে, উজ্জ্বল হোসেন ও শামীম হোসেন যৌথভাবে নন্দীগ্রাম হাট সংলগ্ন নতুন বাজারে দীর্ঘদিন ধরে মুরগির ব্যাবসা করে আসছেন। তাদের কোনো ট্রেড লাইসেন্স নেই বলেও তারা স্বীকার করেছেন।


শনিবার (১৬ মে) এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ এই প্রতিবেদকের হাতে আসে। পরে রবিবার (১৭ মে) প্রতিবেদক তাদের দোকানে গিয়ে এ বিষয়ে জানতে চাইলে উজ্জ্বল হোসেন বলেন, বেশি মরা মুরগি জবাই করিনি, মাত্র দুটি মরা মুরগি তাজা মুরগির সঙ্গে মিশিয়েছিলাম। এখন আর এসব করিনা। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ আর কোনো দিন করব না।


ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, গত ২১ মার্চ ভোর রাত প্রায় ৪টার দিকে দোকানে জীবিত মুরগির পাশাপাশি আগে থেকে মারা যাওয়া মুরগিও জবাই করা হচ্ছে। পরে দিনের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ ও ফাস্ট ফুডের দোকানে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।


ফুটেজটি নন্দীগ্রাম হাট সংলগ্ন নতুন বাজারের ব্যবসায়ী তোতা মিয়ার দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। তোতা মিয়া বলেন, উক্ত মুরগি ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে এই কাজ করছে। ঈদুল ফিতরের পরের দিন ভোর রাতের একটি ঘটনা আমার ক্যামেরায় ধরা পড়ে। বিষয়টি তাদেরকে জানালে তারা উল্টো আমাকে হুমকি দেয়। এরপরও তাদেরকে একই কাজ করতে দেখে সাধারণ মানুষের স্বার্থে ফুটেজটি সবার কাছে পাঠিয়েছি। তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই, যাতে মানুষকে আর মরা মুরগি খেতে না হয়।


নন্দীগ্রাম শহরের কয়েকটি ফাস্ট ফুডের দোকান ও হোটেল মালিকের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, তারা উজ্জ্বল ও শামীমের দোকান থেকে মুরগি কেনেন। তবে তাদের দাবি, তারা মুরগি কেনার সময় সরাসরি দেখে জবাই করিয়ে নেন।


একই বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী ও পোলট্রি ফার্ম সমিতির সভাপতি বিটল জানান, আমিও ওই সিসিটিভি ফুটেজ দেখেছি। এর আগেও তাদের বিরুদ্ধে মরা মুরগি বিক্রির অভিযোগ উঠেছিল। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।


দোকানে উপস্থিত শাহীন নামের এক ক্রেতা বলেন, আমরা সাধারণ মানুষ কী খাচ্ছি? তাজা মুরগির সঙ্গে মরা মুরগিও বিক্রি করছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। ফলে নন্দীগ্রামের বিভিন্ন হোটেল ও ফাস্ট ফুডের দোকানে পরিবার নিয়ে খাওয়া-দাওয়া এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।


নন্দীগ্রাম মনসুর হোসেন ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক রাব্বি হোসাইন বলেন, মরা মুরগি জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। নতুন বাজার একটি উদিয়মান বাজার এই বাজার থেকে মুরগির বিক্রিও ভাল হয় যা আমরা দেখতে পাই। তবে মরা মুরগি বিক্রয় একটি ন্যক্কারজনক ঘটনা। নন্দীগ্রামে সন্ধ্যার পরে বিভিন্ন ফাষ্ট ফুডের দোকানে মুরগির গ্রিল ও ফ্রাই ব্যাপকভাবে বিক্রি হয়। আমরাও সেখানে খাই। সেখানে যদি মরা মুরগি ব্যবহার হয়ে থাকে তাহলে সেটা আমাদের স্বাস্থ্যার জন্য চরম হুমকি। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি সেই সাথে এ ধরনের অপকর্মের সঙ্গে জড়িত মুরগি ব্যবসায়ী, ফাস্ট ফুডের দোকান ও হোটেল মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গহনের জোর দাবি জানাচ্ছি।


স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাটি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নিয়মিত বাজার তদারকি এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কল্পনা রানী রায় বলেন, মরা মুরগি বিক্রি বা বাজারজাত করা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। লিখিত অভিযোগ বা ভিডিও ফুটেজ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আরা বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিলনা। এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনায় কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। দ্রুত তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


বিবার্তা/মনিরুজ্জামান/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com