সারাদেশ
দৌলতপুরে ‘পীর’ শামীম হত্যা: একমাস পার হলেও ধরা পড়েনি আসামিরা
প্রকাশ : ১২ মে ২০২৬, ২০:১৬
দৌলতপুরে ‘পীর’ শামীম হত্যা: একমাস পার হলেও ধরা পড়েনি আসামিরা
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ‘পীর’ শামীম জাহাঙ্গীর ওরফে আব্দুর রহমান হত্যাকাণ্ডের ঘটনা একমাস পার হলেও ধরা পড়েনি মামলার প্রধান আসামিসহ এজাহার নামীয় অপর ৩ আসামি। উদ্ধার হয়নি দরবার বা আস্তানা থেকে লুট হওয়া সামগ্রী। তবে পুলিশের দাবি পীর হত্যাকাণ্ডের তদন্ত অনেকটা এগিয়েছে। ঘটনার দিনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে ভিডিও বিশ্লেষণ, গ্রেফতার হওয়া আসামিদের রিমান্ডে এনে জিঞ্জাসাবাদে তদন্তে অনেকটা অগ্রগতি হয়েছে।


এদিকে মামলার প্রধান আসামি ইসলামী ছাত্র শিবির কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাবেক সভাপতি ও দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য খাজা আহম্মেদ (৩৬) উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিনে রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে পুলিশের কাছে আগাম জামিনের কোন তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। পলাতক রয়েছেন মামলার এজাহার নামীয় অপর দুই আসামি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ দৌলতপুর উপজেলা শাখার সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ (৪৮) ও সিহাব (সাফি) (৪৫)


এরআগে ৩০ এপ্রিল রাতে পীর হত্যা মামলার ৩ নম্বর এজাহার নামীয় আসামি রাজিব মিস্ত্রি (৩২) ওরফে কিলার রাজিব কে রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থানা রোডের নাসিম হেয়ার ড্রেসার এর সামনে থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।


হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার করা হয় ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের তছিকুল ইসলামের ছেলে দশম শ্রেণীর স্কুলছাত্র আলমগীর হোসেন (১৬), দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামের নাহারুল মন্ডলের ছেলে বিপ্লব হোসেন (২৬) ও রবিউল ইসলামের ছেলে আলিফ ইসলাম (২৩) কে। বিপ্লব হোসেন ও আলিফ ইসলামকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। সে তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত ও অভিযান চলামান রেখেছে। স্কুলছাত্র আলমগীর হোসেন রয়েছে কিশোর সংশোধনাগারে।


পীর শামীম হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দৌলতপুর থানার ওসি (তদন্ত) শেখ মোহাম্মদ আলী মর্তুজা জানান, মামলার তদন্তে অনেকটা অগ্রগতি রয়েছে। হত্যাকান্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে। তবে মামলার প্রধান আসামি খাজা আহম্মেদ উচ্চ আদালত থেকে জামিনে রযেছেন এমন তথ্য তাদের কাছে নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে এখনও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।


এরআগে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগ এনে ১১ এপ্রিল দুপুর আড়াইটার দিকে দৌলতপুর উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামে বিভিন্ন বয়সী শতাধিক বিক্ষুব্ধ জনতা পীর শামীম জাহাঙ্গীরের আস্তানা বা দরবারে হামলা চালায়। এসময় কিলার রাজিব মিস্ত্রিসহ হামলাকারী যুবকরা পীর শামীমকে তার কক্ষ থেকে টেনে হেঁচড়ে বের করে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে তাকে দোতলা থেকে নীচে ছুড়ে ফেলে। এরপর হামলাকারীরা সংগবদ্ধভাবে আস্তানায় আগুন জ¦ালিয়ে ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাটের তান্ডলীলা চালায়।


হত্যাকান্ডের ৩দিন পর ১৩ এপ্রিল রাতে নিহতের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক ফজলুর রহমান সান্টু বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৮০-২০০ জনকে আসামি করা হয়। এজাহার নামীয় আসামিদের মধ্যে রয়েছে ইসলামী ছাত্র শিবির কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাবেক সভাপতি ও দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য খাজা আহম্মেদ (৩৬)। তাকে ১নম্বর প্রধান আসামি করা হয়। মামলার অপর ৩ আসামি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ দৌলতপুর উপজেলা শাখার সভাপতি ও হোসেনাবাদ বিশ্বাসপাড়া গ্রামের মৃত এরশাদ আলীর ছেলে আসাদুজ্জামান আসাদ (৪৮), ফিলিপনগর এলাকার গাজী মিস্ত্রির ছেলে জামায়াত সমর্থক গ্রেফতার হওয়া রাজিব মিস্ত্রি (৩২) এবং স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষক ও ফিলিপনগর ইসলামপুর গ্রামের সিহাব উদ্দিন ওরফে সাফি (৪৫)।



বিবার্তা/শরীফুল/এসএম


সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com