‘প্রয়োজনে জনগণের অর্থে ডা. আবদুল্লাহর বেতন-ভাতা রাষ্ট্রকে ফেরত দেওয়া হবে’
প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৬, ০০:২৬
‘প্রয়োজনে জনগণের অর্থে ডা. আবদুল্লাহর বেতন-ভাতা রাষ্ট্রকে ফেরত দেওয়া হবে’
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

নিরাপদ ঔষধ চাই- প্রতিষ্ঠানটি গভীর বেদনা, উদ্বেগ, বিস্ময় ও ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ্য করেছে যে দেশের অন্যতম, উপমহাদেশের প্রখ্যাত ও শ্রেষ্ঠ চিকিৎসাবিদ, শিক্ষক, গবেষক ও মানব সেবক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহকে ইমেরিটাস অধ্যাপক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর প্রাপ্ত বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।


শুক্রবার (২৬ জুন) প্রতিষ্ঠানটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি সাধারণ সম্পাদক মো. আবু বক্কর সিদ্দীক প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আমরা নিরাপদ ঔষধ চাই- প্রতিষ্ঠান বিশ্বাস করি, একটি জাতি শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অবকাঠামো কিংবা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মহান হয়ে ওঠে না; একটি জাতি মহান হয়ে ওঠে তার গুণী, জ্ঞানী, সৎ ও নিবেদিতপ্রাণ মানুষদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে।


অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের একজন, যাঁর জীবন, কর্ম ও অবদান বাংলাদেশের চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা এবং স্বাস্থ্যসেবার ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোত ও গভীরভাবে জড়িত।


দীর্ঘ অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে তিনি চিকিৎসা পেশা, চিকিৎসা শিক্ষা এবং মানবসেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত। দেশের হাজার হাজার চিকিৎসক তাঁর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ছাত্র। তাঁর লেখা পাঠ্যপুস্তক ও গবেষণাকর্ম দেশে-বিদেশে চিকিৎসা শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জনের সহায়ক হয়েছে। তিনি শুধু চিকিৎসক তৈরির কারিগর নন, তিনি একটি প্রজন্মের নৈতিকতা, মানবিকতা ও পেশাগত উৎকর্ষেরও শিক্ষক।


বাংলাদেশের অসংখ্য সাধারণ মানুষ সাক্ষ্য দেবেন যে, অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ সবসময় সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থেকেছেন। বর্তমান সময়ও সামান্য ৩০০ টাকায় ফি কিংবা অনেক ক্ষেত্রেই মানবিক বিবেচনায় তিনি রোগীদের সাধ্যের মধ্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করে যাচ্ছেন। তাঁর কাছে চিকিৎসা ছিল শুধু পেশা নয়, মানবসেবার একটি মহান ব্রত। এ কারণেই তিনি লক্ষ কোটি মানুষের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।


নিরাপদ ঔষধ চাই- প্রতিষ্ঠান আমরা মনে করি, কোনো প্রশাসনিক বা প্রক্রিয়াগত জটিলতা থাকলে তার সমাধান অবশ্যই ন্যায়সংগত, স্বচ্ছ ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হওয়া উচিত। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ার ফলাফল যেন এমন না হয়, যা দেশের একজন বরেণ্য শিক্ষক, চিকিৎসক ও মানব সেবকের দীর্ঘ জীবনের অবদানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বা তাঁর প্রাপ্য মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করে।


আজ আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে প্রশ্ন রাখতে চাই- যদি একজন অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ, যিনি তাঁর সমগ্র জীবন জাতির কল্যাণে উৎসর্গ করেছেন, তিনি তাঁর কর্মজীবনের শেষ প্রান্তে এসে এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, তাহলে আগামী দিনের মেধাবী চিকিৎসক, গবেষক, শিক্ষক ও জনসেবকদের কাছে আমরা কী বার্তা পৌঁছে দিচ্ছি? গুণিজনদের যথাযথ সম্মান না দিলে একটি জাতির মূল্যবোধ দুর্বল হয়ে পড়ে। আমরা আশঙ্কা করি, এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে অনেক মেধাবী তরুণ চিকিৎসক ও গবেষকদের নিরুৎসাহিত করতে পারে। যারা দেশ ও মানুষের সেবায় নিজেদের জীবন উৎসর্গ করার স্বপ্ন দেখেন, তাদের কাছে এটি হতাশার কারণ হতে পারে। এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব দেশের চিকিৎসা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর পড়বে। শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের সাধারণ মানুষ, যারা একজন মানবিক ও নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসকের সেবা পাওয়ার অধিকার রাখেন।


নিরাপদ ঔষধ চাই-প্রতিষ্ঠানটি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর প্রতি দেশের মানুষের যে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও আস্থা রয়েছে, তা কোনো প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। তিনি শুধু একজন ব্যক্তি নন; তিনি বাংলাদেশের চিকিৎসা জগতের একটি ইতিহাস, একটি প্রতিষ্ঠান, একটি প্রেরণার নাম।


আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বিনীত কিন্তু দৃঢ় আহ্বান জানাচ্ছি- বিষয়টি মানবিক, নৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও জাতীয় স্বার্থের আলোকে পুনর্বিবেচনা করা হোক এবং দেশের এই কৃতী সন্তানের মর্যাদা ও সম্মান অক্ষুণ্ন রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। একই সঙ্গে, যদি কোনো কারণে তাঁর প্রাপ্ত বেতন-ভাতা রাষ্ট্রকে ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল থাকে, তাহলে প্রয়োজনে নিরাপদ ঔষধ চাই সংগঠন দেশের সাধারণ মানুষ, তাঁর অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী, শুভানুধ্যায়ী এবং সচেতন নাগরিকদের সহযোগিতায় একটি বিশেষ জন-উদ্যোগ গ্রহণ করবে। জনগণের অংশগ্রহণে একটি তহবিল গঠন করে উক্ত অর্থ সংগ্রহপূর্বক রাষ্ট্রের কোষাগারে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, একজন গুণী মানুষের সম্মান শুধু তাঁর ব্যক্তিগত বিষয় নয়; এটি জাতির সম্মানের বিষয়। অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর সম্মান রক্ষা মানে বাংলাদেশের চিকিৎসা শিক্ষা, মানবসেবা, জ্ঞানচর্চা এবং মানবিক মূল্যবোধের ঐতিহ্যকে সম্মান জানানো।


আজ আমরা তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছি শুধু একজন ব্যক্তির জন্য নয়; আমরা দাঁড়িয়েছি একটি মূল্যবোধের পক্ষে, গুণিজনদের মর্যাদা রক্ষার পক্ষে, মানবিক বাংলাদেশের পক্ষে।


গুণিজনের সম্মান রক্ষা হোক, জাতির মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকুক। এটা নিরাপদ ঔষধ চাই- সংগঠনের আমাদের নিরপেক্ষ ও নিরাপদ বার্তা।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com