ছবি তুলে কী হবে? পরে বলবে এআই দিয়ে বানানো
প্রকাশ : ০২ মে ২০২৬, ২৩:৫৯
ছবি তুলে কী হবে? পরে বলবে এআই দিয়ে বানানো
জয়দেব (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

দুই ঘণ্টার বৃষ্টিতে আবারও জলাবদ্ধতায় ভুগেছে চট্টগ্রাম নগর। শনিবার বিকেলে মাত্র ৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতেই প্রবর্তক মোড়, পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা, কাতালগঞ্জ ও পাঠানটুলীসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যায়। এতে দুর্ভোগে পড়েন পথচারী ও যাত্রীরা।


আবহাওয়া অধিদপ্তরের আমবাগান কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৩টা ৪০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত ৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এর আগে শুক্রবার রাত ১২টা থেকে সকাল ছয়টার মধ্যে ১১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়।


সরেজমিনে দেখা যায়, পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার সড়ক সন্ধ্যা ছয়টার দিকে কোমরসমান পানিতে তলিয়ে যায়। এই সড়কে দুটি হাসপাতাল, তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, একটি সরকারি কর্মকর্তাদের বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট ও বিভাগীয় কর্মকর্তাদের বাসভবন রয়েছে। আশপাশে রয়েছে বেশ কয়েকটি বহুতল ভবন।


একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মরত মাহমুদ হোসেন বলেন, খালে বাঁধ দিয়ে উন্নয়নকাজ চলার কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যাচ্ছে। অনেক সময় বৃষ্টি না থাকলেও সড়কে পানি স্থির থাকে।


প্রবর্তক মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, বিকেল পৌনে ছয়টার দিকে পানির উচ্চতা মানুষের কোমর ছুঁয়েছে। অনেকেই উঁচু আইল্যান্ড দিয়ে হেঁটে রাস্তা পার হন, আবার কেউ কেউ রিকশা ও ভ্যানে চড়ে চলাচল করেন।


এ সময় এক পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ছবি তুলে কী হবে? পরে বলা হবে এগুলো এআই দিয়ে বানানো। তাঁর এই বক্তব্যে স্থানীয়দের হতাশা ও ক্ষোভ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।


কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকার বাসিন্দা মাসুদ ফরহান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, এটি এই মুহূর্তের চট্টগ্রামের ছবি পুরোনো নয়। অন্যদিকে পাঠানটুলীর গায়েবি মসজিদ এলাকার এক চা দোকানদার দিদার বলেন, বৃষ্টির সময় গোড়ালি পর্যন্ত পানি উঠে, তবে বৃষ্টি থামলে ধীরে ধীরে নেমে যায়।


এর আগে গত সপ্তাহেও তিন দফা জলাবদ্ধতায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী। তখন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জলাবদ্ধতার বিষয়টিকে ‘ভুয়া খবর’ বলে মন্তব্য করেছিলেন, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়।


চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রকল্পটি চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের হলেও বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেড। তবে প্রকল্পের অগ্রগতি সত্ত্বেও সামান্য বৃষ্টিতেই নগরবাসীর দুর্ভোগ কমেনি।


বিবার্তা/জয়দেব/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com