
নরসিংদীর মাধবদীতে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে এক কিশোরীকে তার সৎ বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের মায়ের করা মামলায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে ওই কিশোরীর মা বাদী হয়ে নয়জনকে আসামি করে মামলা করলে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।
নিহত কিশোরী মাধবদীর বিলপাড় এলাকায় পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকত। সে তার মায়ের প্রথম পক্ষের সন্তান এবং তার সৎ বাবার বাড়ি বরিশালে।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, মামলা দায়েরের পর চার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে। তবে তদন্তের স্বার্থে গ্রেফতারকৃতদের নাম-পরিচয় জানাতে অস্বীকার করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
এর আগে, নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন চন্দ্র সরকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অপরাধীদের খুঁজে বের করার আশ্বাস দিয়েছিলেন।
স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা যায়, বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সৎ বাবা তার কর্মস্থল থেকে ফিরে মেয়েটিকে নিয়ে খালার বাড়িতে রেখে আসতে যাচ্ছিলেন। পথে বড়ইতলা এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় বখাটে নূরার নেতৃত্বে পাঁচ থেকে ছয়জন মিলে সৎ বাবার কাছ থেকে মেয়েটিকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরিবারের লোকজন বেশ কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে বাড়ি ফিরে যান।
পরে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে মাধবদীর কোতালিরচর দড়িকান্দী এলাকার একটি সরিষাক্ষেত থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। খবর পেয়ে স্বজনরা গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, ১৫ দিন আগে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে বখাটে নূরার নেতৃত্বে পাঁচ থেকে ছয়জনের একটি দল মেয়েটিকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মহিষাশুরা ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আহমদের নেতৃত্বে মীমাংসা করা হয়। মূলত এই ধর্ষণের ঘটনাটি ধামাচাপা দিতেই মেয়েটিকে ছিনিয়ে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি স্বজনদের।
বিবার্তা/কামালএমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]