
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের জেরে জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাশিয়া ও ইরানের তেলের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞায় সাময়িক ছাড় দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এই ছাড়ের মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না বলে জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। মূলত রাশিয়া ও ইরানের থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে ভারতসহ কিছু দেশকে ৩০ দিনের ছাড় দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা ছাড়ের প্রধান সুবিধাভোগী ছিল ভারত, কারণ হরমুজ প্রণালির আশেপাশে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার মধ্যেও নয়াদিল্লি রাশিয়ার তেল কেনা চালিয়ে যেতে পারছিল।
স্থানীয় সময় বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, আমরা রাশিয়ান তেলের ওপর দেয়া সাধারণ লাইসেন্স নবায়ন করবো না এবং ইরানি তেলের ক্ষেত্রেও তা করব না। ১১ মার্চের আগে জাহাজে থাকা তেলের ক্ষেত্রেই এই ছাড় প্রযোজ্য ছিল এবং তা এরইমধ্যে ব্যবহার হয়ে গেছে।
ভারতের সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানায়, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার পর রাশিয়ার কাছ থেকে প্রায় ৩ কোটি ব্যারেল তেল আমদানি করার জন্য অর্ডার দিয়েছে ভারত। এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারতীয় তেল পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান, যেমন রিলায়েন্স, রাশিয়ার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান রসনেফট ও লুকওইলের কাছ থেকে তেল ক্রয় কমিয়ে দিয়েছিল।
মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান দাম ও সরবরাহের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে এরইমধ্যে জাহাজে তোলা হয়েছে, এমন ইরানি তেলের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হচ্ছে।
এই অনুমতির ফলে ২০ মার্চের আগে জাহাজে তোলা ইরানের অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত খালাস ও বিক্রি করা যাবে। আর রাশিয়ার ক্ষেত্রে ১১ মার্চের আগে জাহাজে তোলা তেল ১০ এপ্রিল পর্যন্ত খালাস ও বিক্রির অনুমতি ছিল।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই ছাড়ের ফলে প্রায় ১৪ কোটি ব্যারেল তেল বিশ্ববাজারে পৌঁছাতে পেরেছিল। এতে যুদ্ধের সময় জ্বালানি সরবরাহের ওপর চাপ কিছুটা কমেছিল।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]