
ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেল নিতে এসে অপ্রীতিকর ঘটনার পাশাপাশি ঘটছে নানা রকম মজার ঘটনাও। মাঝে মাঝে তা ঝগড়া থেকে শুরু করে পৌঁছাচ্ছে হাতাহাতির পর্যায়েও। আবার তেল নিতে এসে শারীরিক অসুস্থতা থেকে শুরু করে ঘটছে মৃত্যুর ঘটনাও।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে ফিলিং স্টেশনটিতে গেলে হঠাৎ চোখে পড়ে একটি বেওয়ারিশ মোটরসাইকেল। মোটরসাইকেলটি টিভিএস কোম্পানির মেট্রো প্লাস মডেলের। যার রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার রংপুর মেট্রো-হ ১১-০৫৭২।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মোটরসাইকেলটি গত ৫ এপ্রিল তেল নিতে এসে রেখে গেছেন এক চালক। এরপর ১১দিন অতিবাহিত হলেও দেখা মেলেনি মোটরসাইকেল মালিকের। এখন সঠিক মালিকের হাতে মোটরসাইকেলটি তুলে দিতে পারলেই দায়মুক্ত হন ফিলিং স্টেশনের বিক্রয় কর্মীরা।
ইউনিক ট্রেডার্স সিন্ডিকেট এলপিজি ও কনভার্সন ফিলিং স্টেশনের বিক্রয় কর্মী আলমগীর ইসলাম বলেন, ‘গত ৫ এপ্রিল তেল বিক্রি শুরু হলে দেখি লাইনে একটি মোটরসাইকেল রাখা কিন্তু চালক নাই। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও গাড়িটির মালিক না আসায় লাইনে সমস্যা তৈরি হয়। অন্য চালকদের অসুবিধা হওয়ায় আমরা সবাই মিলে সেটিকে সরিয়ে রাখি। গভীর রাতে পাম্প বন্ধ করে বাড়ি ফেরার সময়ও দেখি মোটরসাইকেলটি সেখানেই আছে। এমনকি পরদিন সকালেও সেখানেই ছিল মোটরসাইকেলটি। পরে আমরা পাহারাদারদের জিম্মায় রাখি গাড়িটিকে। তবে ১১ দিন পেরিয়ে গেলও কোনো মালিককে পাওয়া যাচ্ছে না।’
ফিলিং স্টেশনটির আরেক কর্মচারী বিপ্লব ইসলাম বলেন, ‘আমরা সিসিটিভিতে অনেক খোঁজার চেষ্টা করছি চালক কে। কিন্তু সমস্যা হলো ওই চালক এমন জায়গায় গাড়িটি রেখেছিল যে আমাদের সিসিটিভি ওই পর্যন্ত ক্যাপচার করতে পারেনি।’
তিনি বলেন, ‘১১ দিন পার হলেও কোনো মালিক না পাওয়ায় আমরা বিপাকে পরেছি। এখন সঠিক মালিকের হাতে গাড়ি তুলে দিতে পারলেই বাঁচি।’
ইউনিক ট্রেডার্স সিন্ডিকেট এলপিজি ও কনভার্সন ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মিজানুর রহমান মিজান জানান, এটি একটি বিষ্ময়কর ঘটনা। মোটরসাইকেলটি নিয়ে অসুবিধার মধ্যে আছেন তারা। সঠিক মালিক খুঁজতে গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারও চালাচ্ছেন তারা।
এদিকে মোটরসাইকেল নিয়ে অপেক্ষমাণ চালকরা বলছেন, প্রতিদিনই ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হয়, মাঝে মাঝে লাইনে দাঁড়িয়েও মেলে না তেল। এর চেয়ে মোটরসাইকেল না চালানোই ভালো। যে ব্যক্তি গাড়ি রেখে গেছেন সে হয়তো অনেক বিরক্ত হয়েই এই কাজ করেছেন।
রংপুর পেট্রোল পাম্প ডিলারর্স, এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আজিজুল ইসলাম মিন্টু বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন চাহিদার তুলনায় অর্ধেক তেলও পাচ্ছি না। রংপুরে ৪৮ টি পাম্প থাকলেও তেল সংকটের কারণে প্রায় ৩০ টি পাম্পই প্রতিদিন বন্ধ থাকছে। একইসঙ্গে বাইরের জেলাগুলোতে তেল সরবরাহ একেবারেই না থাকায় জেলার বাইরে থেকেও চালকরা আসছে রংপুরে যে কারণে, সংকট আরও বাড়ছে।
তিনি আরও বলেন, সব পাম্পেই প্রতিদিন যদি কিছু করে তেল দেয়া যেত তাহলে সংকট অনেকটা কেটে যেত।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]