মত ও পথের ভিন্নতা থাকতেই পারে, শত্রুতায় যেন রূপ না নেয়: প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৩০
মত ও পথের ভিন্নতা থাকতেই পারে, শত্রুতায় যেন রূপ না নেয়: প্রধানমন্ত্রী
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা বা অযথা বিতর্ক নয়, বরং জাতীয় ঐক্য ও সহনশীলতাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, মত ও পথের ভিন্নতা থাকতেই পারে, কিন্তু সেই ভিন্নতা যেন কখনো শত্রুতায় রূপ না নেয়।


বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্তদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি ও বর্তমান রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও এ সময় বিস্তারিত বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় নেতাদের অবদান যথাযথ সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করা জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং ইতিহাস কাউকেই ক্ষমা করবে না। ঐতিহাসিক সত্য মেনে নিতে অনীহা দেখানোকে তিনি হীনমন্যতার পরিচয় হিসেবে উল্লেখ করেন।


তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, দেশের স্বার্থবিরোধী একটি চক্র এখনো সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। তাই জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা এবং অভ্যন্তরীণ বিভাজন এড়িয়ে চলা সময়ের দাবি।


শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা।’ রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও তা যেন শত্রুতায় পরিণত না হয় এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।


বক্তব্যে তিনি জানান, মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, চিকিৎসা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, পল্লী উন্নয়ন, সমাজসেবা ও জনপ্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতি বছর স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করা হয়। চলতি বছর ১৫ জন বিশিষ্ট নাগরিক ও ৫টি প্রতিষ্ঠানকে এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। পুরস্কারপ্রাপ্তদের তিনি জাতির গর্ব উল্লেখ করে দেশ ও জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।


বাংলাদেশের অর্জন ও চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অসংখ্য শহিদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা অর্জনের ৫৫ বছর পর দেশ অনেক দূর এগিয়েছে, তবে এখনো অনেক অপূর্ণতা রয়ে গেছে। একটি স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে সম্মিলিতভাবে কাজ করার বিকল্প নেই।


দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, দুর্নীতি, দুর্বল শাসন কাঠামো এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতির মধ্য দিয়েই নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করে জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।


তিনি আরও বলেন, দেশের বৃহৎ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এখন বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক, যুগোপযোগী ও কর্মমুখী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। অতীতে শিক্ষা খাতে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে ইতোমধ্যে সরকার বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com