আ.লীগ কমিটিতে অভিজ্ঞদের সাথে থাকুক তরুণরাও
প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০১৬, ১২:১৭
আ.লীগ কমিটিতে অভিজ্ঞদের সাথে থাকুক তরুণরাও
সায়েম খান
প্রিন্ট অ-অ+

সম্মেলন শব্দের আভিধানিক অর্থ অনেক। রাজনৈতিক সম্মেলনের ক্ষেত্রে দুটি অর্থ খুব গুরুত্বপূর্ণ। যার একটি হল একত্র হওয়া; আর অন্যটি হল সংযোগ। যদি আমরা রাজনৈতিকভাবে সংজ্ঞায়িত করতে চাই তাহলে বলতে পারি যে, কোনো সংগঠনের অধিকাংশ জন একত্রিত হয়ে সংগঠনটির উপর থেকে নিচ পর্যন্ত সংযোগ ঘটিয়ে সময়ের চাহিদা অনুযায়ী যে নতুন রূপ দান করে সেটাই সম্মেলন। কোনো রাজনৈতিক দল শুধু নয়, যেকোনো সংগঠনের সময়ের চাহিদা অনুযায়ী নতুনভাবে রুপায়নের জন্য নিয়মিত সম্মেলন করা দরকার।  

 

‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’ (বাংলা অর্থ:বাংলাদেশ গণসংঘ) বাংলাদেশের বৃহত্তম এবং যেসব রাজনৈতিক দল মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী তাদের মধ্যে সর্বপ্রাচীন এবং ঐতিহাসিকভাবে এদেশের স্বাধীনতায় নেতৃত্ব দানকারী একমাত্র রাজনৈতিক দল। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন রোজ গার্ডেনে বিকাল ৩টায়  আয়োজিত সম্মেলনে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীকে সভাপতি, আতাউর রহমান খান, শাখাওয়াত হোসেন ও আলী আহমদকে সহ-সভাপতি আর শামসুল হককে সাধারণ সম্পাদক, শেখ মুজিবুর রহমান, খন্দকার মোশতাক আহমদ ও এ কে রফিকুল হোসেনকে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং ইয়ার মুহাম্মদ খানকে কোষাধ্যক্ষ করে তৎকালীন ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’ গঠিত হয়। যা বর্তমানে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’ নামে পরিচিত।

 

আওয়ামী লীগ প্রথম থেকে কৃষক-শ্রমিক বা শ্রমজীবী মানুষের দল ছিল এটা বললে অত্যুক্তি বলা হবে। তৎকালীন যে পূর্ব-পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়েছিল তাদের অধিকাংশই মুসলিম লীগ থেকে বের হয়ে আসা উঠতি পুঁজিপতি বা মধ্যবিত্ত শ্রেণীর প্রগতিশীল অংশ। যারা মধ্যবিত্তের মধ্যে গড়ে ওঠা জাতীয়তাবাদী ধারণা নিয়ে অগ্রসর হতে থাকে।

 

এই জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দলটি ১৯৬৩ সালের পর থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত হতে থাকে। পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের অত্যাচার নিপীড়নের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামের জন্য শেখ মুজিব যখন এদেশের প্রত্যেক মহাকুমা, পাড়া, মহল্লায় ঘুরে ঘুরে মানুষের কাছে পৌঁছেছেন; তখন আওয়ামী লীগ এদেশের সর্বস্তরের মানুষের দল হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের মানুষ তার রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক অধিকারের স্বপ্ন দেখতে থাকে তাদের প্রিয় শেখ মুজিবের চোখে আর আওয়ামী লীগের দৃষ্টিতে।

 

সুতরাং বলা যায়, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগই একমাত্র রাজনৈতিক দল, যা ঐতিহাসিক ও উপাদানগতভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এদেশে যেসব রাজনৈতিক দলের উৎপত্তি, আওয়ামী লীগ থাকা অবস্থায় তারা নস্যি। আর যারা এর পূর্ববর্তী দল, তাদের রাজনৈতিক রসদে ঘাটতি আছে।  

 

এত দীর্ঘ বাহাসের উপলক্ষ হলো আওয়ামী লীগের আসন্ন সম্মেলন। আগামী ২২-২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের ২০তম সম্মেলন। ঐতিহাসিকভাবে দীর্ঘ যাত্রাপথে বাংলাদেশে হয়তো আওয়ামী লীগই একমাত্র রাজনৈতিক দল বিশেষ দুরবস্থা ব্যতীত যারা নিয়মিত বিরতিতে সম্মেলনের ব্যবস্থা করে থাকে।

 

বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীনতায় নেতৃত্ব দানকারী আওয়ামী লীগ; জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একবিংশ শতাব্দীর ২য় দশকে এসে পৌঁছে গেছে অনন্য উচ্চতায়। শেখ হাসিনা কাল্পনিক বিষয় বাদ দিয়ে বাস্তব বিষয়ের দিকে লক্ষ্য নিবদ্ধ করেছেন। আর এতে একটু আধটু শাস্ত্রসম্মত বিধি-বিধানের বিচ্যুতি বিশেষ কিছু নয়; এটা চাণক্যই বলেছেন। তাইতো তিনি অনেকের গণতন্ত্রের জন্য মায়াকান্নার দিকে নজর না দিয়ে বাস্তবসম্মত উন্নয়ন দর্শনের দিকে হেঁটেছেন। যা বিশ্বে প্রশংসিত।

 

শুরু থেকে শেষ, ধাপে ধাপে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বা রুপায়নে পরিবর্তন আসলেও একটা জায়গায় পরিবর্তন আসেনি। আর সেটা হল এদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার সাথে তাল মিলিয়ে চলা। সময়ের সাথে বদলেছে মানুষের চিন্তাভাবনা; তারই সাথে বদলেছে আওয়ামী লীগ। কিন্তু লক্ষ্যস্থির- মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ।

 

অনেক ঘাত-প্রতিঘাত থামাতে পারেনি আওয়ামী লীগের এগিয়ে চলা। তাই যখনই আওয়ামী লীগ এ দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে তখনই এদেশের মানুষের স্বপ্নের সারথি হয়েছে। তাই আওয়ামী লীগের সম্মেলন আসলে সবস্তরের মানুষের মাঝে এক ধরনের উত্তেজনা দেখা দেয়। ফল স্বরূপ দেখা যাচ্ছে, কিছুদিন ধরে এই সম্মেলন কেন্দ্রিক কথাবার্তাই হয়ে উঠেছে ‘টক অব দ্য টাউন’।

 

আওয়ামী লীগ সবসময়ই নতুন সম্মেলনের মাধ্যমে এক ঝাঁক নতুন নেতৃত্ব উপহার দিয়ে থাকে। কমিটি হয়ে থাকে একটি সমন্বিত রূপ। নতুন পুরাতনের মিশেলে থাকে অভিজ্ঞতার সাথে তারুণ্য। এটা তার প্রথম সম্মেলন থেকেই লক্ষ্যণীয়। ৬৯ বছরের ভাসানী যেমন ছিল, ছিল ৩১ বছরের শামসুল হক, ছিল ২৯ বছরের শেখ মুজিব প্রমুখ। এই সম্মেলনে এরূপ মিশেল খুব জরুরি বলে আমার কাছে মনে হচ্ছে।

 

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের ইশতেহারে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’র ঘোষণা তরুণদের আকৃষ্ট করে। আর তরুণদের ভোটেই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। বাংলাদেশ তার জনসংখ্যার সোনালি ধাপে রয়েছে। অর্থাৎ তার জনসংখ্যার অধিকাংশই তরুণ। তাই অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি তরুণদের সাথে রয়েছে বা তরুণদের সাথে খাপ খাইয়ে চলতে পারে নেতৃত্বে বড় একটা অংশ এমন হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। সর্বোপরি তৃণমূল থেকে সবাই হয়তো প্রত্যাশা করে কর্মীবান্ধব নেতৃত্বের আবির্ভাব ঘটুক। প্রত্যাশা করি সবকিছু মিলিয়ে এই সম্মেলন সুন্দর, সফল ও সার্থক হয়ে উঠুক। 

 

লেখক: যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ

 

বিবার্তা/নিশি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com