শিরোনাম
বিজয়ের এই বেলায় কেন এই জাত-পাতের হিসেব
প্রকাশ : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৮:২৬
বিজয়ের এই বেলায় কেন এই জাত-পাতের হিসেব
হায়দার মোহাম্মাদ জিতু
প্রিন্ট অ-অ+

অনেক রক্ত ঝরিয়ে পাওয়া বিজয় যেন কোনোভাবে নস্যাৎ না হয় - এ নিয়ে অনেকে অনেক লম্বা ফিরিস্তি গাইবেন কিংবা বড় বড় অনুষ্ঠানের আয়োজনে বৃহৎ কর্ম পরিকল্পনা জাহির করবেন। কিন্তু ক্ষুদ্র এই মগজ কিছু ক্ষুদ্র সমস্যার দিকে ঈষৎ ইঙ্গিত করতে চায়। সেই চেষ্টায় এই ক্যানভাস ।


ভৌগোলিক ভূপ্রশান্তি খুঁজলে তা হয়তো ভূমণ্ডলের যে কোনো প্রান্তে বসেই অনুভব করা সম্ভব। তবে আপনার বাসনা যদি শুধুই প্রযুক্তিগত (কলের) সুখ লাভের হয়, তবে আপনাকে আপাতভাবে ভীষণ উন্নত দেশগুলোর কাছেই আত্মসমর্পণ করতে হবে । আত্মসমর্পণ বলার কারণ নিজ ভূমি ছেড়ে পরদেশের কাছে কিছু চাওয়া বা তার দিকে হাত বাড়ানো আত্মসমর্পণের সামিলই।


বিশ্বমোড়লরা একদা এই দেশকে হতদরিদ্র দেশের তালিকায় রেখেছিলেন। কিন্তু আজ এই দেশ তার আপন গরিমায় সকল কালো ছায়া থেকে বেরিয়ে সম্ভাবনার আলোকময় পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে এতদূরে এসেছে। শুধু তাই নয়, ওরা হয়তো জানেও না আমরা এখন ওদের দেশের অর্থনীতির চাকাকে আরো গতিশীল করতে নিজ নিজ ভূমি অনবরত বিক্রি করে চলছি।


এ প্রসঙ্গে বলতে গেলে তুলে আনতে হবে কিছু অপ্রিয় সত্য গল্প ও সময়কে। পিতৃপুরুষের সমস্ত নাম-নিশানা মুছে, ভিটে-মাটি বিক্রি করে এই বাংলার গুটিকয়েক মানুষ এখন পরগাছার বেশে পরদেশে যাচ্ছেন। সেখানে সামান্য ভূমি কিনে বসত গড়ছেন অর্থাৎ দেশের অর্থসম্পদের বিনিয়োগ ঘটছে ভিনদেশের মাটিতে, যা যুক্ত হচ্ছে তাদের সমগ্র অর্থনীতিতে।


প্রবাদ আছে, পরের ঘরের পোলাও-মাংসের চেয়ে নিজ ঘরের নুন-ভাতও ভালো। কারণ যা পর তা পরই। আর যা আপন তা আপনই। কিন্তু এরপরও দেখা যায়, ভিন্ন একটি দেশের জাদুটোনায় পড়ে এখানকার কিছু মানুষ সেখানে গিয়ে তৃতীয় স্তরের নাগরিক হিসেবে জীবনযাপন করছেন এবং দেশের টাকা ঢালছেন বিদেশের মাটিতে।


ভাষার জন্যে শহীদ হওয়া দেশের একালের জনতার ভাষার প্রতি উদাসীনতা এবং আত্মঅহংবোধের গল্পে শহীদরাও হয়তো আঁতকে উঠবেন। রাজধানী ঢাকার স্বনামধন্য একটি মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক তার মেয়েকে একটি স্বনামধন্য স্কুল (বাংলা মিডিয়াম ) থেকে ফেরত নিয়ে এসেছিলেন কেবল তার কম্পাউন্ডারের মেয়েও সেখানে পড়ে বলে। তার ভাষ্য ছিল, এই কম্পাউন্ডারের মেয়ে বাংলায় পড়লে আমার মেয়ের তো ইংলিশ মিডিয়ামে পড়া উচিত !


অস্ত্রসজ্জিত পাকিস্তানের সাথে স্পর্ধার লড়াইয়ে কোনো জাতপাত ছিল না, ধর্মের বৈষম্য ছিল না। সর্বস্তরের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একই পাতে খেয়ে না খেয়ে লড়াই করেছিলেন। তবে আজ বিজয়ের এ বেলায় কেন এই জাতপাতের হিসেবে নিজেকে ‘জাতে’ তোলার চেষ্টা ?


বাংলার মেহনতি মানুষের কণ্ঠস্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শোষণহীন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন। জাতির পিতার সেই চিরসবুজ স্বপ্নকে বাস্তবায়নের জন্যে তাই নিজ নিজ ভূমির প্রতি সর্বোচ্চ ভালোবাসার স্ফুরণ এবং ভেদাভেদের উনুনে জল ঢেলে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে কাঁধে কাঁধ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। এগিয়ে যাক বাংলাদেশ।


লেখক : সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়


বিবার্তা/মৌসুমী/হুমায়ুন

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com