শিরোনাম
আজাইরা হাউকাউ
প্রকাশ : ২১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০:০৭
আজাইরা হাউকাউ
চৌধুরী নূরজাহান মঞ্জুর সেতু
প্রিন্ট অ-অ+

ক’দিন থেকেই পত্রপত্রিকা ও টিভিতে দেখছি, সুলতান সুলেমান নিয়ে টানাহেঁচড়া চলছে। ব্যাপার কী জানার জন্য আমি একটি পর্ব দেখলাম। আমি এতে আতংকিত হবার কিছুই দেখছি না এবং এ নিয়ে এত হাউকাউ কিসের, তাও বুঝলাম না।


এই গেলো সুলতান সুলেমান ধারাবাহিকের কাহিনী। এবার অন্য দিকে চোখ দেই। গত ক’বছরে আমাদের নাটক-সিনেমাগুলো কেউ কি ভালো করে দেখেছেন? দু-একটা সিনেমা ছাড়া সবগুলোই মুম্বাই কিংবা কলকাতার সিনেমার কাট-কপি-পেস্ট। এতে কি আমাদের ঐতিহ্য ক্ষুন্ন হচ্ছে না? এমন তো না যে আমরা আগে মানসম্মত সিনেমা বানাতে পারতাম না। এমন সব সিনেমা আমাদের দেশে বানানো হয়েছে যে এর সুনাম ছড়িয়েছিল দেশ থেকে দেশের বাইরে।


নাটকের জন্যও বেশি দূরে তাকাতে হবে না। কয়েক বছর আগে ভিন্নধারার কিছু নাটক প্রচারিত হয়েছিল - fnf, হাউজফুল, আরমান ভাই সিকুয়্যালসহ আরো কিছু মানসম্মত নাটক দর্শক সমাদৃত ছিল। আমার এখনো মনে পড়ে, আমার সাহেব যখন ইউএন মিশনে যাচ্ছিল, তখন ল্যাপটপ ভরে দেশী নাটক ও সিনেমা নিয়ে গিয়েছিল।


স্টার জলসা, কালারস বাংলা কিংবা জি বাংলা স্টাইলের নাটক কি আমাদের খুব বেশি দরকার ছিল? নাকি এগুলো ছাড়া আমরা খুব বেশি ব্যাকডেটেড হয়ে গিয়েছিলাম? আজকাল দেখি আমাদের নাটকগুলো ভারতীয় নাটকের চেয়েও এক কাঠি বাড়তি। উদ্ভট সাজপোশাক আর সাউন্ডের গমগমানিতে আসল কাহিনী কি, তা-ই বোঝা ভার। একেকটা নাটক দেখি আবার হাজার পর্বও পার করছে কাহিনীর কোনো সামঞ্জস্য না রেখেই।


এবার গানের কথায় আসি। ক’দিন আগে মুক্তি পাওয়া একটা সিনেমার গান ‘ঢাকাই শাড়ি’তে নায়িকার পরনে ঢাকাই শাড়ির বদলে ছিল ইন্ডিয়ান শাড়ি। গানের কথা আর বাস্তব আসলেই আকাশ-পাতাল তফাৎ।


দিন দিন আমরা মিউজিক ভিডিওর দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ছি, এটা অবশ্যই খারাপ না, কিন্তু ভিডিওগুলো যে আমরা চোখ-কান বুঁজে নকল করে যাচ্ছি, সেটা কি কেউ খেয়াল করেছি?


এবার আসি আমাদের পোশাকের কথায়। ভারতীয় শাড়ীর দাপটে আমরা ভুলতেই বসেছি যে আমাদের জামদানি, টাঙ্গাইল ও পাবনাই শাড়ি আছে। অথচ প্রতি ঈদ কিংবা যে কোনো উৎসবে চলছে বিভিন্ন ভারতীয় সিরিয়ালে দেখা কাপড় কেনার মচ্ছব। আর কাপড় কিনে দিতে না পারলেই হয় কারো ঘর ভাঙছে, নয়তো বা কেউ জীবনও দিয়ে দিচ্ছে।


এসবের জন্য কিন্তু কেউ আন্দোলন করছে না। করছে শুধু ওই ‘সুলতান সুলেমান’ প্রদর্শন বন্ধ করার জন্য। যার জন্য কিন্তু এখনো কোনো জীবন যায়নি কিংবা আমরা শুনিনি সুলতান সুলেমান দেখতে না দেয়ায় কোনো স্ত্রীর আত্নহনননের খবর।


ডাবিং করা সিরিয়াল আগেও আমাদের দেশে প্রচারিত হতো। তখন কারো কোনো সমস্যা হয়নি। কেননা তখন আমাদের প্রযোজক-পরিচালকদের আত্মবিশ্বাস ছিল প্রবল। তারা জানতেন, তাদের মাথায় কিছু না কিছু আছে, যা দিয়ে দর্শক ধরে রাখতে পারবেন।


আমাদের ছোটবেলায় ছিল শুধু বিটিভি। তখন প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো ডাবিং করা সিরিয়াল প্রচারিত হতো। আর একটামাত্র চ্যানেল পুরো দেশের দর্শকদের ধরে রাখতে নিশ্চয়ই কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। এখন তো আর সেই সমস্যা নেই। এসেছে অনেক চ্যানেল, পরিবর্তন হয়েছে অনেক কিছুরই, চাইলেই আমরা এখন দেশের এখানে-সেখানে শুটিং সেট ফেলতে পারছি। আর শিল্পীও আছে প্রচুর, সেই সাথে প্রযুক্তির উন্নতি। তাই আসুন, এই সব আজাইরা হাউকাউ বাদ দিয়ে দেশের সংস্কৃতিটাকে বাঁচাই। এতে দেশ বাঁচবে, আমরা সাধারণ দর্শকরাও বাঁচবো।


লেখক : সমাজকর্মী


বিবার্তা/মৌসুমী/হুমায়ুন

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com