ভূতের স্কুল!
প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০১৬, ১৭:১৫
ভূতের স্কুল!
সাব্বির আহমেদ সুবীর
প্রিন্ট অ-অ+

হাসান খেলা শেষে বাড়ি ফিরছে। বাড়ির পাশেই খেলার মাঠ। তবে ছোট্ট একটা খাল পার হয়ে যাতায়াত করতে হয়। খালের পাশেই দাঁড়িয়ে আছে শত বছরের পুরনো একটা বটগাছ। এই গাছটা দেখলেই হাসানের মনে ভয় জাগে।


হাসান যখন আরো ছোট ছিল, তখন ওর দাদু ভূতের ভয় দেখিয়ে ঘুম পাড়াতেন। আর সেই ভূতটার বাসা কি না এই বটগাছে! সেই থেকে বটগাছটার পাশে এলেই হাসানের মনে ভয় জাগে। আজও ভয় চেপে বসল তার মনে। হঠাৎ কী যেন ভেবে দিল এক দৌড়। এক দৌড়ে বাড়ির আঙ্গিনায় পৌঁছেই জ্ঞান হারাল সে।


সেদিনের পর হাসান খুব কমই খেলার মাঠে যায়। যখনই যায় কাউকে সঙ্গে নিয়ে যায়। কখনো একা যেতে চায় না। বটগাছটির পাশ দিয়ে একা হাঁটলে হাসানের মনে হয় কে যেন ফিসফিস করে কিছু বলছে।


কিছুদিন পর হাসান বেড়াতে গেল মামার বাড়ি। সেখানে গিয়ে সে জানতে পারল নতুন এক খবর। মামার বাড়ির পাশেই কি না ভূতের এক স্কুল আছে। যে স্কুলে ভূতের বাচ্চারা রাতে আবছা আলোতে পড়ালেখা করে। শুনে তো হাসানের আক্কেল গুড়ুম! এখানে যে আরো এক ধাপ এগিয়ে আছে ভূতেরা। বায়না ধরে সে, মামার সঙ্গে সেই স্কুলে যাবে।


রাত তখন প্রায় ১০টা। মামার সঙ্গে হাসান সেই স্কুলে এসেছে। সত্যিই অবাক হলো সে। আবছা আলোতে ভূতের বাচ্চাদের কেউ খেলা করছে, কেউ বই পড়ছে। কী সাংঘাতিক কাণ্ড রে বাবা! পাশে দাঁড়িয়ে আছেন মামা। চুপচাপ। ভাগ্নের গতিবিধি লক্ষ্য করছেন। হঠাৎ এগিয়ে এসে হাসান জানতে চাইলো-আচ্ছা মামা, ওরা কি আমাকে একা পেলে মারবে?
আমি তো জানি না। তুমি তাদের জিজ্ঞাসা কর।


ওরে বাপ রে...। কথা শেষ না হতেই হাসান যেন শুনতে পেল হাসান, তুওওম্মি ভঅয় পাআচ্চছো কেএন্নও?


এবার হাসান সত্যিই চমকে ওঠলো। ভাবল, ভূত তা হলে সত্যিই মানুষের সঙ্গে কথা বলে! সাহস করে হাসান বলল, কই, না তো! ভয় পাচ্ছি না।


তাআ...হঅল্লে ভেএত্তরেএ আআসসো...। বই পড়তে হবে না?


হাসান মামার পরামর্শ জানতে চাইলে তিনি বললেন, আমি কী বলব? যেতে চাইলে যাও। মামার কথা শুনে সে সাহস করে স্কুল ঘরের ভেতরে গেল। তারপর ভূতের বাচ্চাদের সঙ্গে অনেকক্ষণ গল্প করল, বই পড়ল। এদিকে মামা বাইরে দাঁড়িয়ে মুচকি হাসছেন।


ভাবছেন শিশুরা কল্পনায় কোথায় না যেতে পারে। যে ঘরে আসলে কিছুই নেই, সেখানে ভাগ্নের কতো গল্প!


হাসান বাড়ি ফিরে বন্ধুদের সেই রাতের গল্প শোনালো। গল্প শুনে বন্ধুরা সেই স্কুলে যেতে চাইল। এখন আর হাসান ভূতদের ভয় পায় না। একাই বটগাছতলা দিয়ে খেলার মাঠে খেলতে যায়। সময় পেলে বটগাছে থাকা তার কল্পনার ভূতদের সঙ্গে কথা বলে।


বিবার্তা/সুবীর/কাফী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com