‘সত্যিকার গণতন্ত্রের চর্চা এরশাদের আমলেই হয়েছে ’
প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৮:৪৭
‘সত্যিকার গণতন্ত্রের চর্চা এরশাদের আমলেই হয়েছে ’
জাহিদ বিপ্লব
প্রিন্ট অ-অ+

সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রেস ও রাজনৈতিক সচিব সুনীল শুভ রায় শুধু জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্যই নন, তিনি একজন কলামিস্ট ও সাংবাদিকও। তিনি ১৯৮৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি (গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা) মাষ্টার্স কমপ্লিট করেন।


তিনি দৈনিক জনতার সম্পাদক ছাড়াও কার্যনির্বাহী সম্পাদক-দৈনিক ঘোষণা, সম্পাদক- সাপ্তাহিক দেশপত্র, নির্বাহী সম্পাদক- পাক্ষিক শেয়ারবাজার (বিনিয়োগ অর্থনৈতিক পাক্ষিক), নির্বাহী সম্পাদক- পাক্ষিক শিল্পবাজার (অর্থনৈতিক পাক্ষিক) ছিলেন। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক এখনও নিয়মিত কলাম লেখেন তিনি। ১৯৮৭ সালে তিনি জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়, নয়াদিল্লি থেকে সাংবাদিকতায় কলম্বো প্লানের বৃত্তি লাভ করেন। তিনি যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, নেপাল, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, বাহরাইনসহ প্রায় ২০টিদেশ সফর করেছেন। পাশাপাশি লেখক হিসেবেও রয়েছে তার ব্যাপক পরিচিতি। তার রচিত গ্রন্থের মধ্যে-গণতন্ত্রের পথে উত্তরণ, সত্যের তেতো স্বাদ, ছোটদের পল্লীবন্ধু, এরশাদকে নিয়ে সমালোচনার জবাব, নির্বাচিত রাজনৈতিক কলাম প্রতিবাদ, এবং উপন্যাস রেষ্ট হাউজে এক রাত, নিশাচরের নিশিদিন, নষ্ট মেয়ের আত্মকথা, রক্ত কথা বলে উল্লেখযোগ্য।


১৯৫৭ সালের ১ নভেম্বর খুলনার বটিয়াঘাটায় এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে তিনি জন্মগ্রহন করেন।


মঙ্গলবার বিকালে সুনীল শুভ রায় বির্বাতার সাথে এক একান্ত সাক্ষাতকারে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন।


বিবার্তা : দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ণ কী?


সুনীল শুভ রায় : বর্তমানে রাজনীতিতে এক ধরনের থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সত্যিকার অর্থে কোনো রাজনৈতিক দলই সঠিকভাবে রাজনীতি করতে পারছে না বা করছে না। এর পেছনে অহেতুক ভীতি কাজ করতে পারে। প্রতিটি রাজনৈতিক দল যদি নিয়মতান্ত্রিকভাবে রাজনীতি করতে পারতো, তাহলে ভয়-ভীতির কোনো কারণ থাকতো বলে আমি মনে করি না।


এখন যদি কোন দল রাজনীতির নামে সংঘাত, জ্বালাও-পোড়াও বা নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে তাহলে সে ধরনের রাজনৈতিক চর্চার বিপক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ তখন অপরিহার্য হয়ে দাড়াঁয়।


বিবার্তা : আপনার দৃষ্টিতে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন?


সুনীল শুভ রায় : আমি বলবো, সন্তোষজনক নয়। একের পর এক অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেই চলছে। অথচ তার প্রতিকার বা প্রতিরোধের কোন কার্যকর ব্যবস্থা আমরা দেখতে পাচ্ছি না। যেমন রামুর ঘটনার অনুরূপ পরিস্থিতি যখন নাসিরাবাদে সৃষ্টি হলো তখন প্রশাসন অত্যন্ত গুরুত্বহীন ভ’মিকা পালন করেছে। ফলে সেখানে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে, যা দেশবাসীকে হতবাক করেছে।


এরপর ধারাবাহিকভাবে আরও ঘটনা ঘটে গেছে এবং এখনও তা ঘটছে। অথচ প্রশাসনিকভাবে তা প্রতিরোধের কোন ব্যবস্থা আমরা দেখতে পাচ্ছি না। সুতরাং এক কথায় আমরা বলতে পারি, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোটেই সন্তোষজনক নয়।



বিবার্তা : তাহলে আপনি বলতে চাচ্ছেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্রের সঠিক চর্চা হচ্ছে না?


সুনীল শুভ রায় : এ প্রশ্নের উত্তর দিতে হলে আমাকে একটু পেছনে যেতে হবে। বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থে গণতন্ত্রের চর্চা যদি কিছু হয়ে থাকে তা জাতীয় পার্টির আমলেই হয়েছে। এ পার্টি সৃষ্টিই হয়েছিলো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। গণতান্ত্রিক শাসনের ব্যর্থতার কারণেই গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একজন রাষ্ট্রপতিকে এদেশে সামরিক আইন জারি করতে হয়েছিলো। সেই সময়কার সেনাপ্রধানকে রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়েছে।


একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, সামরিক অভ্যুত্থান ও সামরিক আইন জারি এক বিষয় নয়। সামরিক অভ্যুত্থানে রক্তক্ষয় হয়, পৃথিবীর ইতিহাস তা-ই বলে। সামরিক আইন জারি হয় দেশের প্রয়োজনে। এটি অনাকাক্সিক্ষত হলেও বাস্তবতার নিরিখে কখনও কখনও তা মেনে নিতে হয়। তেমনিভাবে বিচারপতি সাত্তারের সামরিক আইন জারি এবং তৎকালীন সেনাপ্রধান এরশাদের ক্ষমতা গ্রহণ ছিলো অনিবার্য পরিস্থিতির ফসল। তবে তিনি ক্ষমতা গ্রহণ করে মাত্র দুবছরের মধ্যেই দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে এনে সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু তৎকালীন রাজনৈতিক দলসমূহ ওই নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ায় সামরিক আইন আরো দুবছর স্থায়ী হয় এবং ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টি গঠনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুণঃপ্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা নেয়া হয়। এদল গঠনের মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই দেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং সেই নির্বাচনের মাধ্যমে যে সংসদ গঠিত হয় সে সংসদেই ১৯৮৬ সালের ১০ নভেম্বর সামরিক আইন প্রত্যাহারের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক শাসন পুণঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।


সেদিন যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো সেই ধারাবাহিকতা আজও বহাল রয়েছে। কিন্তু গণতন্ত্র চর্চার ক্ষেত্রে বর্তমানে অনেক ব্যত্যয় ঘটেছে। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার অন্যতম উপাদান হচ্ছে বাকস্বাধীনতা, অন্যের মতামতকে মূল্য দেয়া এবং সহনশীলতা। অথচ দুঃখের বিষয়, ১৯৯০-পরবর্তী সময় থেকে আজ পর্যন্ত এর প্রত্যেকটি উপাদানে ঘাটতি রয়েছে।


বিবার্তা : নির্দিষ্ট সময়ের আগে সরকার নির্বাচন দেবে বলে আপনার মনে হয়?


সুনীল শুভ রায় : আমি কোন আগাম বা মধ্যবর্তী নির্বাচনের সম্ভাবনা দেখছি না এবং এটা হওয়া উচিতও নয়। সাংবিধানিক পন্থায় যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত।


বিবার্তা : জাপাকে অনেকে সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট বিরোধীদল বলে, এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?


সুনীল শুভ রায় : জাতীয় পার্টি নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি করে। আমরা হরতাল বা ধ্বংসাত্মক এবং আগুন সন্ত্রাসে বিশ্বাসী নই। তথাকথিত বিরোধীদল হতে হলে সংসদে ক্যামেরা ভাঙ্গতে হয়, ফাইল ছুড়ে ফেলতে হয়, অশ্লীল গালাগাল করতে হয়। জাতীয় পার্টি সে ধরনের রাজনীতি করে না বলে কেউ যদি আমাদের সরকার নিয়ন্ত্রিত বিরোধীদল বলে তাতে আমাদের দুঃখ নেই। আমরা নিয়মতান্ত্রিক ও সাংবিধানিকভাবে এবং গণতান্ত্রিক পন্থায় রাজনীতি করি। এটা যদি কারো ভালো না লাগে তাহলে আমাদের বলার কিছু নাই।


বিবার্তা : বিএনপি যদি নির্বাচনে আসে সেক্ষেত্রে আপনাদের অবস্থান কি হবে? বিরোধীদলে থেকেই নির্বাচন করবেন নাকি আবার সেই মহাজোট ?


সুনীল শুভ রায় : বিএনপি নির্বাচনে আসা বা না আসার সঙ্গে আমাদের রাজনৈতিক কমর্কাণ্ডপরিচালনার কোনোসম্পর্ক নেই। বিএনপি হচ্ছে নির্বাচন বর্জনে পারদর্শী একটি দল। তারা ১৯৮৪ সালে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়ে তার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে ১৯৮৬, ১৯৮৮ এবং সর্বশেষ ২০১৪ সালে। সুতরাং তারা কি করবে না করবে, এটা তাদের ব্যাপার।


বিবার্তা : আগামী নির্বাচনে বিরোধীদলে থেকেই নির্বাচন করবেন নাকি আবার সেই মহাজোট ?


সুনীল শুভ রায় : দেশ ও জাতির একান্ত প্রয়োজনে মহাজোট গাঠত হয়েছিলো। আবার যদি সেরকম প্রয়োজন দেখা দেয় তখন সময়ের দাবিতে জাতীয় পার্টি উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেবে।


বিবার্তা/ বিপ্লব/হুমায়ুন/মৌসুমী


সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com