ঢাবি হল সম্মেলন
নীতি-আদর্শে যারা অবিচল, তারাই নেতৃত্বে আসবে
প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০১৬, ২০:০২
নীতি-আদর্শে যারা অবিচল, তারাই নেতৃত্বে আসবে
তৌফিক ওরিন
প্রিন্ট অ-অ+

মোতাহার হোসেন প্রিন্স। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সৃষ্ট ঐতিহ্যবাহী ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অন্যতম বৃহৎ শাখা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি)সাধারণ সম্পাদক। ছোটবেলা থেকে লালন করেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ। সে আদর্শের কারণে যুক্ত হন সক্রিয় রাজনীতিতে।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর জিয়াউর রহমান হলে আসন বরাদ্দ পান প্রিন্স। রাজনীতিতে সক্রিয়তার কারণে হল ছাত্রলীগের সদস্য পদে মনোনীত হন। পরবর্তীতে হলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান তিনি। প্রিন্স তার পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, সংযত আচরণ, স্লোগান-বক্তৃতায় পারদর্শী ও কর্মীবান্ধব নেতৃত্বের কারণে দেশব্যাপী আলোচিত হয়েছেন।


হল শাখার রাজনীতি আরও সক্রিয় ও বেগবান করার লক্ষ্যে রবিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাবির হল সম্মেলন। হল রাজনীতির বর্তমান অবস্থা, চ্যালেঞ্জ ও নানান বিষয় নিয়ে সম্প্রতি বিবার্তা২৪ডটনেটের প্রতিবেদকের সাথে আলাপ করেন মোতাহার হোসেন প্রিন্স। তার সাথে দীর্ঘ আলাপের কিছু চুম্বক অংশ বিবার্তার পাঠকদের জন্য তুলে ধরেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক তৌফিক ওরিন।


বিবার্তা : শুরু হতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ইতিহাসের প্রথম হল সম্মেলন। হল কমিটিগুলোতে কেমন ধরনের নেতৃত্ব আসছে বলে আপনি মনে করেন?


মোতাহার হোসেন প্রিন্স : হ্যা, হল সম্মেলন আমরাই প্রথম শুরু করলাম। আশা করি, এ সম্মেলনের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি এক নতুন উদ্যমে পরিচালিত হবে। ঢাবির বিভিন্ন হলের যে সমস্ত জুনিয়র নেতারা ২০১৩, ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে বিএনপি জামাতের আগুন-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন, যাদের স্লোগানে মুখরিত হয়েছে রাজপথ, দলীয় নীতি-আদর্শের প্রশ্নে যারা অবিচল, জননেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবে রূপদানের জন্য দিনরাত যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন তারাই নেতৃত্বে আসবে।



বিবার্তা : নতুন নেতৃত্ব কেমন কাজ করবে বলে আপনি মনে করেন?


মোতাহার হোসেন প্রিন্স : ছাত্রলীগের প্রাণ ও শক্তির আঁধার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল শাখা। শাখাগুলো দক্ষ নেতৃত্ব তৈরির উর্বর ভূমি। সম্মেলনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের একঝাঁক তরুণ ও মেধাবী নেতৃত্ব বেরিয়ে আসবে। তারা নতুন উৎসাহ ও প্রেরণা নিয়ে শেখ হাসিনার রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়ন ও জাতির কল্যাণে কাজ করার গর্বিত অংশীদার হবে ।


বিবার্তা : এবার একটু পেছনে ফিরে যাই। আপনার রাজনীতিতে আসার গল্পটা বলুন?


মোতাহার হোসেন প্রিন্স : ছোটবেলায় বাবা আমাকে মুক্তিযুদ্ধ ও দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হওয়ার গল্প শোনাতেন। এসব গল্প শুনে দেশের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা ও ভালোবাসা তৈরি হয়। বাবার মাধ্যমেই মূলত মাওলানা ভাসানি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ মহান মানুষদের সঙ্গে আমার পরিচয় ঘটে। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বাবার মুখে শোনা গল্পগুলো বঙ্গবন্ধুর প্রতি, তার আদর্শের প্রতি আমাকে দুর্বল করে দেয়। সেই দুর্বলতা থেকে ধীরে ধীরে ছাত্ররাজনীতিতে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত হই।


যখন আমি ক্লাস নাইনে, ওই সময় আমাদের স্কুলে ছাত্রলীগের কমিটি গঠিত হয়। আমি সেই কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলাম। কলেজ জীবনেও সরাসরি যুক্ত ছিলাম ছাত্রলীগের সঙ্গে। তখন থেকেই স্বপ্ন দেখতাম, আমি স্লোগানে-স্লোগানে প্রকম্পিত করব রাজপথ। আমার ভাষণে উদ্দীপ্ত হবে হাজারো ছাত্রজনতা।



বিবার্তা : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়য়ের ছাত্রলীগ শাখার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব আপনি কেমন উপভোগ করছেন?


মোতাহার হোসেন প্রিন্স : এ দায়িত্ব আমার কাছে সত্যিই অনেক উপভোগ্য। কারণ, ছোটবেলা থেকে নীতি-আদর্শের যে জায়গাটা আমি লালন করেছি, সেটা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ। সেই আদর্শেই নিজেকে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি। জাতির জনকের নিজের হাতে গড়া ছাত্রসংগঠনের এই গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব আমার কাছে সর্বদা সুমহান ও কর্তব্যপূর্ণ বলে বিবেচিত।


বিবার্তা : ঢাবি ছাত্রলীগ পূর্বে শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ের পক্ষে অনেক কাজ করেছে। আপনি দায়িত্ব পাওয়ার পর তাদের জন্য কী কী করেছেন?


মোতাহার হোসেন প্রিন্স : গত বছরের ১৮ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করি। কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আবিদ আল হাসান। দায়িত্ব গ্রহণের পর পূর্বসুরিদের মতো আমরাও সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদাই ও তাদের সর্বোচ্চ স্বার্থ রক্ষায় নিজেদের নিয়োজিত রেখেছি। কমিটি ঘোষণার পর শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ১৯ দফা দাবি উপাচার্যের কাছে জমা দিয়েছি।শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট, খাদ্য সমস্যা, যাতায়াতের সমস্যা, উন্নত আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নতুন নতুন শিক্ষা উপকরণের ব্যবস্থা করার জন্য কাজ করছি। এর অংশ হিসেবে প্রায় প্রতিটি হলে ইতোমধ্যেই উন্নত মানের ওয়াইফাই সংযোগ দেয়া হয়েছে। ক্যাম্পাসে ব্যানার-ফেস্টুনসহ দৃষ্টিকটু প্রচারণা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ঢাবির প্রতিটি আবাসিক হলের ক্যান্টিনে যাতে কেউ দুর্নীতির মাধ্যমে ফ্রি খেতে না পারে, প্রতিটি ক্যান্টিনে ভাল খাবারের ব্যবস্থা হয় সেক্ষেত্রে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।



বিবার্তা : ছাত্রলীগ বিভিন্ন সময়ে কর্মী কবা অনুপ্রবেশকারীদের অপকর্মের জন্য সমালোচিত হয়েছে। এ বিষয়ে আপনার মতামত কি?


মোতাহার হোসেন প্রিন্স : কারো ব্যক্তিগত অপকর্মের দায়ভার সংগঠন নেবে না। আর শৃঙ্খলাভঙ্গকারীদের বিষয়ে আমাদের অবস্থান সবসময় স্পষ্ট। আমদের কোনো কর্মী যদি অপরাধে অভিযুক্ত হয়, তবে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের হাতে কলম তুলে দিয়েছেন পড়াশুনা করার জন্য, অপরাধ করার জন্য নয়।


বিবার্তা : অনেক দিন ধরে ডাকসু অকার্যকর। ডাকসু নির্বাচন সম্পন্ন করতে আপনারা কি কাজ করছেন?


মোতাহার হোসেন প্রিন্স : ডাকসু নির্বাচনের জন্য সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আসতে হবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আহ্বান জানাচ্ছি যেন অচিরেই ডাকসু নির্বাচন দেয়া হয়। নির্বাচন দিলে নিজেই প্রার্থী হতে পারতাম। কারণ, আমি এখনো ঢাবির অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র। ডাকসু নেই কিন্তু তার আদলেই বাংলাদেশ ছাত্রলীগ রাজনীতি করে যাচ্ছে। সারা দেশের সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে এমনকি ছাত্ররা সমস্যার মুখোমুখি হলে সমাধানের জন্য ছুটে যাচ্ছি।



বিবার্তা : বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষার্থীরা ছাত্ররাজনীতি নিয়ে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন। তাদের উদ্দেশ্যে কি বলবেন?


মোতাহার হোসেন প্রিন্স: এই প্রজন্মের অনেকে ছাত্ররাজনীতি নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করে থাকে, সেটা সত্যি। তবে ছাত্ররাজনীতি সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণাটি ঠিক নয়। ফেসবুকে লক্ষ্য করেছি অনেক শিক্ষার্থী ‘অ্যাই হেইট পলিটিক্স’ উল্লেখ করে থাকেন। আমি মনে করি, এই দেশ সকলের। দেশের কল্যাণের জন্যই শিক্ষার্থীদের দেশ, ইতিহাস, ভাষা আন্দোলন, ৬ দফা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানতে হবে। দেশকে এগিয়ে নিতে শিক্ষার্থীদের সবার আগে সচেতন হতে হবে। ছাত্রলীগের রাজনীতিতে নিয়মিত শিক্ষার্থীরাই অংশগ্রহণ করে থাকে, এখানে মেধার মূল্যায়ন হয়। তাই রাজনীতিতে মেধাবীরা আসলে দেশ এগিয়ে যাবে, সমৃদ্ধ হবে।


বিবার্তা : রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে পরবর্তীতে নিজেকে কোথায় দেখতে চান?


মোতাহার হোসেন প্রিন্স : আজকে আমি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছি। এটা আমার অনেক বড় প্রাপ্তি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশ, মা, মাটি ও মানুষের জন্য কাজ করেছিলেন, নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। আজকে জাতির পিতার অসমাপ্ত স্বপ্ন পূরণে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা তাঁর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার জন্য নিরালস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আমার রাজনীতিতে অভিষ্ঠ কোনো উদ্দেশ্য নেই। রাজনীতিতে আমার উদ্দেশ্য, দলের জন্য কাজ করে যাবো। দল যদি আমাকে যে দায়িত্ব দেবে, সেই জায়গা থেকে আমি আমার যথাযথ কাজ সমাপ্ত করবো। আর একটাই লক্ষ্য তা হলো, জাতির পিতার সফল স্বপ্ন বাস্তবায়নের মাধ্যমে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করা।


বিবার্তা/ওরিন/মৌসুমী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com