কেউ শোনে না কম্পিউটার ব্যবসায়ীদের কান্না
প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০১৬, ১৫:৫৬
কেউ শোনে না কম্পিউটার ব্যবসায়ীদের কান্না
উজ্জ্বল এ গমেজ
প্রিন্ট অ-অ+

তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতির সুবাদে ক্রেতাদের লাইফস্টাইলের সাথে প্রতিনিয়তই যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন গ্যাজেট। আগে দরকার হতো কম্পিউটার। এখন ট্যাব, ল্যাপটপ বা স্মার্টফোন হলেই চলে। তবে সামগ্রিকভাবে চিন্তা করলে এখনো প্রচুর কম্পিউটার বিক্রি হচ্ছে। আগে একজন শিক্ষক বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কম্পিউটার কিনতেন। কিন্ত এখন সরকারই তাদের হাতে কম্পিউটার পৌঁছে দিচ্ছে। সরকারিভাবে প্রচুর কম্পিউটার কেনার বলে ছোট ব্যবসায়ীরা কম্পিউটার বিক্রি করতে পারছেন না। লাভবান হচ্ছেন বড় বড় ব্যবসায়ীরা, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ছোটরা।


সম্প্রতি রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের মাল্টিপ্ল্যান সেন্টারের সি অ্যান্ড সি ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের কার্যালয়ে বিবার্তাকে কথাগুলো বলেন মাল্টিপ্ল্যান সেন্টার মালিক সমিতির জেনারেল সেক্রেটারি, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির জেনারেল সেক্রেটারি ও সি অ্যান্ড সি ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী ইঞ্জিনিয়ার সুব্রত সরকার।


হার্ডওয়্যার ব্যবসার বর্তমান হালচাল, দেশকে ডিজিটাল দেশে রূপান্তরিত করতে হলে কি কি বিষয়ের উপর জোর দিতে হবে, এই সকল বিষয় উঠে আসে তার সাথে একান্ত আলাপে। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বিবার্তার প্রতিবেদক উজ্জ্বল এ গমেজ


বিবার্তা : দেশে কম্পিউটার ব্যবসার বিপ্লবটা আসে কীভাবে ?


সুব্রত সরকার : বাংলাদেশে কম্পিউটার ব্যবসার বিপ্লবটা শুরু হয় ১৯৯১ সালের পর থেকে। এর আগে হাতেগোণা কয়েকজন এই ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন। পরে ধীরে ধীরে হার্ডওয়্যার ব্যবসার পরিধি বাড়তে থাকে। বেক্সিমকো দেশে প্রথম আইবিএম কম্পিউটার এনে হার্ডওয়্যার ব্যবসার গোড়াপত্তন করে। বেক্সিমকো তখন আইবিএম পিসি এনে বিভিন্ন জায়গায় সাপ্লাই দিতো। লিজড কর্পোরেশন ও ফ্লোরার মতো কম্পানিগুলো শুরুতে ব্যবসার যাত্রা শুরু করে ট্রেনিং দিয়ে। প্রথম দিকে বড় প্রতিষ্ঠানগুলো কম্পিউটারের ট্রেনিং দিয়েই হার্ডওয়্যারের ব্যবসা শুরু করে।


এর দুই বছর পরে স্পেয়ার পার্টস হিসেবে যে কম্পিউটার তৈরি বা অ্যাসেম্বলিং করা যায়, এই কাজটা প্রথম শুরু করে সুপিরিয়র ইলেকট্রনিকস। এই প্রতিষ্ঠানটি শুরুতে ছোট একটা দোকানে কম্পিউটারের কার্ড, র‌্যাম, প্রসেসর, ক্যাসিং, মনিটরসহ খুচরা যন্ত্রাংশ আনতো। এর সাথে সথে ইনফোটেক, ইন্টারপ্রেটাররাও এসব যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আনা শুরু করে। বাইরে থেকে কম্পিউটারের এক্সোসরিজ আমদানি করে দেশে বসে যে অ্যাসেম্বলিং করা যায় - এই ভাবনাটার শুরু রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড থেকেই। তখন এই রোডের চারিদিকে ছোট ছোট দোকানে কম্পিউটার অ্যাসেম্বলিং করা হতো। বিষয়টি হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ীদের মধ্যে আলোড়ন তোলে। এর প্রভাব পড়ে কম্পিউটার হার্ডওয়্যারশিল্পে। ১৯৯৬ সালে এই অ্যাক্সেসরিজ মার্কেটকে নিয়ে হার্ডওয়্যার ব্যবসা করার উদ্দেশ্যে রাজধানীর আগারগাঁও আইডিবি ভবনে শুরু হয় কম্পিউটার মার্কেট। এই মার্কেটে কম্পিউটার মেলা উদ্বোধন করতে আসেন ওই সময়কার আওয়ামীলীগ সরকারের অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া। তখন তার কাছে ব্যবসায়ীরা কম্পিউটার ও হার্ডওয়্যারের উপর থেকে কর প্রত্যাহারের দাবি জানালে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি উত্থাপন করেন। তার কথায় প্রধানমন্ত্রী এককথায় রাজি হয়ে যান। এভাবেই করমুক্ত হয় কম্পিউটার ও হার্ড্ওয়্যারশিল্প।



বিবার্তা : দেশের কম্পিউটার এক্সেসরিজ ব্যবসার বর্তমান অবস্থা কি?


সুব্রত সরকার : দেশের আইসিটি সেক্টরের প্রধান ব্যবসায়ী হলেন কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ীরা। সফটওয়্যার, ই-কমার্স, অনলাইন বিজনেস যাই বলেন না কেন, এসব ব্যবসা লিমিটেড। খুবই কমসংখ্যক লোক এই ব্যবসা করে। কিন্তু হার্ডওয়্যার ব্যবসার বাজার অনেক বড়। এই ব্যবসা করতে অনেক বড় অংকের ক্যাপিটাল লাগে। কিন্তু সফওয়্যার ব্যবসায় এতো বড় ক্যাপিটালের দরকার হয় না। সারা দেশে ঘুরে বিভাগীয় শহরগুলোতে সফটওয়্যার ফার্ম যদি পাঁচটা থাকে, তাহলে হার্ডওয়্যারের দোকান পাওয়া যাবে এক শ’। শুধু রাজধানীতেই সফটওয়্যারের ফার্ম যদি থাকে তিন শ’, তাহলে হার্ডওয়্যারের ফার্ম পাওয়া যাবে তিন হাজার। দেশে হার্ডওয়্যারের ফার্ম এই পরিমাণে সাপোর্ট দিচ্ছে। অথচ সরকার এই সেক্টরের ডেভলপমেন্টের ব্যাপারে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না। নব্বই দশকে শাহ কিবরিয়ার পরে কেউ এখনও এ খাতের উন্নয়নে ভূমিকা রাখেনি। সরকারিভাবে যত উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে সবই সফওয়্যার ব্যবসার সম্প্রসারণের জন্য। সব সাপোর্ট দেয়া হচ্ছে সফটওয়্যার ব্যবসায়ীদের। অথচ তিন লাখের বেশি ব্যবসায়ী হার্ডওয়্যার ব্যবসার সাথে জড়িত। এই সেক্টর থেকে সরকারকে যে পরিমাণ ট্যাক্স দেয়া হয় তা অন্য কোনো সেক্টর থেকে দেয়া হয় না।


বিবার্তা : হার্ডওয়্যারশিল্পকে গুরুত্ব দিতে হবে কেন?


সুব্রত সরকার : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বর ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য তিনি ২০১১ সালে আইসিটি মন্ত্রণালয় গঠন করেছিলেন। সে সময় আইসিটি অর্থাৎ তথ্যপ্রযুক্তি কি জিনিস সে কথাই অনেকে বুঝেননি। এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ কি কাউকে বিস্তারিত বলার প্রয়োজন হয় না। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে দুইটি পণ্য সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। সেগুলো হলো হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার। বাংলাদেশে সফটওয়্যারশিল্পের তুলনায় অনেক পিছিয়ে আছে হার্ডওয়্যারশিল্প। প্রয়োজনীয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যার আমাদের আমদানি করতে হয়। এই আমদানি কমানোর জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে কাজ করা হচ্ছে। তরুণ সফটওয়্যার ডেভেলপাররা তৈরি করছেন প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার। ফলে দেশের চাহিদা কিছুটা হলেও মিটছে। তারপরও এখনো আমাদের হার্ডওয়্যার শিল্প পুরোপুরি আমদানিনির্ভর। অথচ গ্রামীণ জনগণের জন্য স্বল্পমূল্যে তথ্যপ্রযুক্তি নিশ্চিত করতে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয়ভাবে হার্ডওয়্যার পণ্য তৈরির বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি। অনেকগুলো কারণে নিজস্ব পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব হয় না, তবে সব কিছু মিলিয়ে বর্তমানে দেশে হার্ডওয়্যার পণ্য উৎপাদন করার মতো সম্ভাবনাময় পরিবেশ রয়েছে।



বিবার্তা : আপনি বলেছেন, অনেকগুলো কারণে দেশীয় পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণগুলো কী?


সুব্রত সরকার : হার্ডওয়্যারশিল্পে বিনিয়োগের জন্য নিরাপত্তার ঝুঁকি সম্পর্কে অস্পষ্টতা একটা বড় কারণ। যারা বিনিয়োগ করতে আগ্রহী, তারা অবশ্যই ঝুঁকিমুক্ত থাকতে চান। এজন্য প্রথমে আসে রাজনৈতিক স্থিতিশীল পরিবেশ এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি। রাজনৈতিক পরিবেশ শান্ত থাকা চাই। যোগাযোগব্যবস্থা নির্বিঘ্ন হওয়া চাই। অনলাইন প্রযুক্তির ব্যবহারের জন্য নেটওয়ার্ক কানেক্টিভিটি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন থাকা দরকার। সর্বোপরি চাই বিপণন সুযোগ-সুবিধা এবং পণ্য বিক্রির নিশ্চিত বাজার ব্যবস্থা। এ সকল সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে দেশে সহজলভ্য তথ্য-উপাত্ত থাকা দরকার এবং সেটাও হালনাগাদ রাখার একটি মেকানিজম থাকা দরকার। এজন্য তথ্যপ্রযুক্তিগত গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র থাকাও খুবই জরুরি। কিন্তু সেটা এখনও বাংলাদেশে আশানুরূপ নেই। ফলে বিনিয়োগকারিগণ স্পষ্টভাবে ঝুঁকিমুক্ত হতে পারে না এবং শঙ্কার মধ্যে থাকেন বলেই বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হন না।


বিবার্তা : হার্ডওয়্যার ব্যবসাকে এগিয়ে নিতে সরকার কী করতে পারে?


সুব্রত সরকার : প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জন্য এই সেক্টরের প্রতি অনেক ইন্টারেস্টট। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জন্য তিনি অনেক কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন এবং বেশিরভাগই বাস্তবায়ন করেছেন। এক্ষেত্রে অন্যান্য সেক্টরের চেয়ে হার্ডওয়্যারের প্রয়োজনটা যে কত বেশি বিষয়টা তেমনভাবে কেউ বুঝার চেষ্টাও করে নাই বা কোনো উন্নয়নমূলক কাজ করছে না। সরকারের পক্ষ থেকে হার্ডওয়্যার সেক্টরের কোনো সমস্যার কথা শুনেনি। আজকে আমাদের মাল্টিপ্ল্যান সেন্টারের কম্পিউটার ব্যবসায়ীদের জন্য যদি সরকার ওয়ারেন্টি পলিসি করে এইচপি, ডেল, প্যানাসনিক, তোশিবা সব কম্পানিকে বলে দেয়া হয় যে, তোমার কম্পানির সার্ভিস সেন্টার অবশ্যই থাকতে হবে, অন্যথায় তুমি এখানে ব্যবসা করতে পারবা না। সারা বিশ্বে তাদের সার্ভিস সেন্টার আছে। শোরুম থেকে যে কোনো কেনা পণ্যে সমস্যা দেখা দিলে সাথে সাথেই কাস্টমার সার্ভিস সেন্টারে যায়। কাস্টমার কেন সাফার করবে তাদের সার্ভিস নিয়ে? একজন কাস্টমার ডেলের প্রোডাক্ট কিনবে, সমস্যা হলে ডেলের সার্ভিস সেন্টারে যাবে। সমস্যার সমাধান না করতে পারলে তো ওই ল্যাপটপটি ফেলে দিতে হবে।


যেমন সরকার সারা বাংলাদেশে হাইস্কুল ও কলেজে শেখ রাসেল ডিজিটাল কম্পিউটার ল্যাব চালু করেছে। কিন্তু হার্ডওয়্যার ট্রেনিং ল্যাব তো করা হয়নি। এসব কম্পিউটারে সমস্যা দেখা দিলে সার্ভিসিং করবে কিভাবে? নষ্ট হলে তো ফেলে দেয়া ছাড়া পথ থাকবে না। তখন তো ওই ল্যাবই বন্ধ হয়ে যাবে। এতে সরকারের বিশাল অংকের অর্থ নষ্ট হবে। মাল্টিমিডয়া ক্লাসরুম চালু করা হয়েছে। প্রজেক্টর নষ্ট হলে কোথায় নিয়ে যাবে? আর ঠিকমতো না চললে ক্লাস নেবে কিভাবে? এসব সমস্যা সমাধানের জন্য হার্ডওয়্যারের ট্রেনিং ও সার্ভিসিং সেন্টার দরকার। একই সাথে কানেক্টিভিটির জন্য সব জায়গায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এক রকম না। তাই সব জায়গায় সোলার প্যানেল সিস্টেম রাখা বাধ্যতামূলক করা দরকার।



বিবার্তা : এসব সমস্যা সমাধানের উপায় কি?


সুব্রত সরকার : হার্ডওয়্যারশিল্পের এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হলে সরকারের পক্ষে যারা এই সেক্টর দেখভাল করেন তাদের ব্যবসায়ীদের সাথে বসতে হবে। কীভাবে ডেভলপ করা যায় বিষয়গুলো বুঝতে হবে, ব্যবসায়ীদের হার্ডওয়্যারের ট্যাক্স, ভ্যাট, ওয়ারেন্টি, লাইসেন্স সম্পর্কিত সে সমস্ত সমস্যা রয়েছে তাদের সমস্যার কথা শুনতে হবে। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে একটা স্ট্যান্ডার্ড ওয়ারেন্টি পলিসি করতে হবে। বড় বড় প্রোগ্রামে শুধু সফওয়্যার ব্যবসায়ীদের ডাকা হয়, তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়, এখানে হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ীদেরও কথা বলার সুযোগ দিতে হবে। সব ব্র্যান্ডিং কম্পানিকে বাধ্যতামূলক সার্ভিস সেন্টার চালু করাতে হবে। না করলে ব্যবসা বন্ধ করতে হবে। তাহলে কাস্টমারদের আর পণ্য কিনে সার্ভিসিংয়ের জন্য দুর্ভোগ পোহাতে হবে না।


এছাড়া ছোট ছোট উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে লোন দিতে হবে। সরকার উদ্যোক্তাদের ব্যাংকিং সুবিধা দিলে তারা আইসিটিতে উন্নয়ন করতে পারবে। শুধু নির্দিষ্ট কিছু ব্যাংক লোন না দিয়ে সকল ব্যাংককে লোন দিতে বলতে হবে। উদ্যোক্তা বাড়লে উন্নয়ন সম্ভব হবে।


বিবার্তা : দেশের প্রেক্ষাপটে এই সেক্টরের সম্ভাবনা কেমন দেখছেন?


সুব্রত সরকার : আমাদের দেশে অনেক ভালো মানের কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার রয়েছে। অসংখ্য দক্ষ ও ট্যালেন্টেড ছেলেমেয়ে রয়েছে। এরা মেধা ও দক্ষতার দিকে চীনের ছেলেমেয়েদের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। এদের শুধু আরো ভালো করে ট্রেনিং দিয়ে কম্পিউটার সার্ভিসিং শিক্ষায় শিক্ষিত করলে এরাই বিদেশে গিয়ে মিলিয়ন ডলার আয় করতে সক্ষম হবে।


তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলায় সফটওয়্যার শিল্পের পাশাপাশি হার্ডওয়্যার শিল্পকে সমান্তরালভাবে এগিয়ে নিতে হবে। সরকারের লক্ষ্য রয়েছে ২০১৮ সালের মধ্যে আইসিটি রপ্তানি আয় অন্তত এক বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া। শুধু সফটওয়্যার রপ্তানি করে এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব না। দেশীয় ব্রান্ডের হার্ডওয়্যার পণ্য উৎপাদন করতে সক্ষম হতে হবে। এ সব পণ্য দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশে রপ্তানি হবে। তখন বাংলাদেশের উৎপাদিত পণ্যের গায়ে লেখা থাকবে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’।


বিবার্তা : দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে আইসিটি পণ্য পৌঁছে দেয়ার জন্য কী করতে হবে?


সুব্রত সরকার : কেন মানুষ কম্পিউটার ব্যবহার করবে তা মানুষকে আগে বুঝাতে হবে। সবার মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। সরকারকে আরও বেশি করে এই সেক্টরের এগিয়ে আসতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি সকলের প্রচেষ্টায় সর্বস্তরের মানুষের কাছে আইসিটি পণ্য পৌঁছানো সম্ভব।


বিবার্তা/উজ্জ্বল/হুমায়ুন/মৌসুমী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com