‘ইংরেজি শিক্ষার মান বাড়াতে দক্ষ শিক্ষক চাই’
প্রকাশ : ১১ নভেম্বর ২০১৬, ১২:৪২
‘ইংরেজি শিক্ষার মান বাড়াতে দক্ষ শিক্ষক চাই’
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

ইংরেজি শিক্ষা ব্যবস্থা ও ইংরেজি শিক্ষার মান নিয়ে সম্প্রতি নানা প্রশ্ন উঠেছে। দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের ইংরেজিতে ফেলের কারণে এই শিক্ষার মান নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। ইংরেজি শিক্ষার মান বাড়াতে সরকারের করণীয় এবং শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি করা পাঠ্যক্রমের বিষয়ে কথা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. ফখরুল আলমের সাথে। তিনি মত দেন, ইংরেজি শিক্ষার মান বাড়াতে হলে প্রথমেই লাগবে দক্ষ ইংরেজি শিক্ষক। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বিবার্তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আশিকুর রহমান লাভলু


বিবার্তা: মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে পাসের সংখ্যা বাড়লেও ইংরেজি শিক্ষার মান বাড়েনি। এক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা কোথায়?


ফখরুল আলম: দেশে বিদ্যামান কমিউনিটি শিক্ষা ব্যবস্থা থাকলেও মুখস্থ বিদ্যার কারণে শিক্ষার্থীদের ইংরেজির প্রতি আগ্রহ বাড়েনি। কোচিং সেন্টারের দৌরাত্ম্য এক্ষেত্রে প্রধান বাধা হিসেবে কাজ করে। শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল করে গড়ে তুলতে না পারলে ইংরেজি শিক্ষার মান বাড়বে না। এর থেকে বেরিয়ে আসতে হলে আমাদের নির্দিষ্ট সিলেবাস আর পাঠ্যবইকেন্দ্রিক পড়ালেখার বাইরে যেতে হবে।



বিবার্তা: শিক্ষার মান বাড়াতে শিক্ষকদের ভূমিকা কি?


ফখরুল আলম: ইংরেজি শিক্ষার মান বাড়াতে প্রয়োজন দক্ষ ও জ্ঞানী শিক্ষক। আমাদের দেশের শিক্ষকদের নিজেদের মান যতদিন ঠিক না হবে ততদিন শিক্ষার মান বাড়বে না। ইংরেজি শিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের সৃজনশীলতাই মুখ্য ভূমিকা পালন করে। শিক্ষক যতবেশি সৃজনশীল হবেন, শিক্ষাব্যবস্থা ততবেশি ফলপ্রসূ হবে।


বিবার্তা: কমিউনিকেটিভ ইংরেজির সুফল কতটুকু পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা?


ফখরুল আলম: আমি যতটুকু জানি ঢাকার বাইরের বেশিরভাগ স্কুল-কলেজে কোয়ালিফাইড শিক্ষকের অভাব রয়েছে। যার ফলে শিক্ষার্থীদের মাঝে এক ধরনের গ্যাপ তৈরি হচ্ছে। আর কমিউনিকেটিভ শিক্ষাব্যবস্থায় ইংরেজিতে স্পিকিং যতটুকু হওয়ার কথা গ্রামাঞ্চলের প্রতিষ্ঠানে তা হয় না। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা ইংরেজিতে কথা বলতেও পারছে না।


বিবার্তা: ইংরেজি শিক্ষার মান উন্নয়নে সরকারের করণীয় কি?


ফখরুল আলম: দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। আর পাঠ্যক্রম শিক্ষার্থীদের মানানুসারে কিছুটা পরিবর্তন করতে হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে মুখস্থবিদ্যা থেকে সরে আসে তার জন্য সিলেবাস পদ্ধতিতে কিছুটা পরিবর্তন করতে পারে। শিক্ষানীতি যে উদ্দেশ্যে করা হয়েছে তা ভাল উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেই সমস্যা।


বিবার্তা: সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠে ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজিতে ফেলের কারণে পাসের হারও কমেছে। এই বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখছেন?


ফখরুল আলম: হ্যাঁ, এটা ঠিক ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় পাসের হার অনেক কমেছে। আমাদের প্রশ্ন পদ্ধতিতে মেধা যাচাইয়ের প্রকৃত পদ্ধতি। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের জিপিএ ফাইভ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ফেলের কারণ ইংরেজি। তবে আমাদের ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের বাদ দেয়ার জন্য নেয়া হয়। তীব্র প্রতিযোগিতায় টিকে থাকে কেবল প্রকৃত মেধাবীরাই।


বিবার্তা: ইংরেজি শিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের করণীয় কি?


ফখরুল আলম: আমাদের দেশের অভিভাবকরা শিক্ষার্থীদের পিঠে শুধু বইয়ের বোঝা চাপিয়ে দেয়। কোচিং আর হোম টিউটর দিয়ে সারাদিন ব্যস্ত রাখে শিক্ষার্থীদের। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা ও ক্রিয়েটিভ কাজের সুযোগ পাচ্ছে না। ফলে শিক্ষার্থীদের মেধা বৃদ্ধিতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পড়াশুনা মানেই চিন্তা করে নিজে জ্ঞানার্জন করে পড়াশুনা। শিক্ষার্থীদের মুখস্থ করতে বাধ্য করার নাম পড়াশুনা নয়।


বিবার্তা/লাভলু/প্লাবন/জিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com