শিরোনাম
চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বপ্ন দেখি
প্রকাশ : ১৮ নভেম্বর ২০১৬, ১৯:৫২
চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বপ্ন দেখি
অভি মঈনুদ্দীন
প্রিন্ট অ-অ+

অভিনয় করার সময় জাহিদ হাসান সত্যিকার জীবনের মোড়ক থেকে বের হয়ে চরিত্র হয়ে ওঠেন। তার অসম্ভব অভিনয়শক্তি দর্শক মহলে এই অভিনেতাকে বারবার আলোচিত করেছে।


টিভি অভিনেতা হিসেবে সুপরিচিত হলেও জাহিদ হাসান অভিনয়ে আসেন মঞ্চে অভিনয় থেকে। ছোট বেলা থেকেই নাটকের প্রতি ঝোঁক ছিল, তাই স্কুলে থাকতেই সিরাজগঞ্জ তরুণ সম্প্রদায় নাট্যদলে যোগ দেন। সেসময় তিনি সাত পুরুষের ঋণ নাটকে নিয়মিত অভিনয় করেন। ১৯৮৪ সালের ১০ অগাস্ট বিটিভিতে এই নাটকটি প্রচারিত হয় এবং জাহিদ হাসান প্রথমবার ছোট পর্দায় উপস্থিত হন।


১৯৮৯ সালে তিনি বিটিভির অডিশনে উত্তীর্ণ হন এবং ১৯৯০ সালে তার অভিনীত প্রথম টিভি নাটক ‘জীবন যেমন’প্রচারিত হয়। ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার যৌথ প্রযোজনার ছবি ‘বলবান’এ অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন।



হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। বর্তমানে তিনি টিভি নাটক পরিচালনাও করছেন। তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠিত মডেল কন্যা মৌ। তাদের দুটি সন্তান রয়েছে। মেয়ের নাম পুস্পিতা এবং ছেলের নাম পূর্ণ। অভিনয়ের বাইরে পরিচালনা করেও জাহিদ দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছেন। এ অভিনেতার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বিবার্তারনিজস্ব প্রতিবেদক অভি মঈনুদ্দীন।


বিবার্তা : নতুন প্রজন্মের অনেকেরই প্রিয় অভিনেতা আপনি। তাদের কারো মাঝে কি নিজের ছায়া খুঁজে পান?


জাহিদ হাসান : এমন করে কখনো ভেবে দেখিনি। তবে অনেকেই তো ভালো করছে। নতুন প্রজন্মের মধ্যে কেউ কেউ পরিশ্রম করে নিজেকে দাঁড় করাতে চাচ্ছে। আবার কেউ কেউ অলস। আসলে একজন ভালো অভিনেতাকে অনেক পরিশ্রম করতে হয়।



বিবার্তা : আপনার একটি স্বপ্নের কথা শুনতে চাই, যা আজো পূরণ হয়নি?


জাহিদ হাসান : একজন নির্মাতার সারাজীবনের স্বপ্ন থাকে একটা চলচ্চিত্র নির্মাণের। আমিও অনেক আগেই সেই স্বপ্নরঙে নিজেকে রাঙিয়েছি। অভিনয় দিয়ে চলচ্চিত্রের উঠোনে হাঁটাহাঁটি করে এবার নির্মাণের কথা ভাবছি। ভালো একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বপ্ন রয়েছে। তবে কাজটা কবে শুরু করতে পারব জানি না। একটা চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে গেলে অনেক টাকার প্রয়োজন।


বিবার্তা্ : এক জীবনে অভিনেতা হিসেবে আপনি অনেক পদক পেয়েছেন। এই প্রাপ্তির মাঝেও কোনো অপ্রাপ্তি কি আপনার ভেতর কড়া নাড়ে?


জাহিদ হাসান : হ্যাঁ। মাঝে মাঝে ভাবি, আমি এখানে যে কাজটি করছি-তা যদি হলিউডে করতে পারতাম, তাহলে এর রেসপন্সই আলাদা হতো। আমাদের নায়করাজ, হুমায়ুন ফরীদি যদি হলিউডে কাজ করতেন, আরও অনেক অনেক নাম করতে পারতেন। আমাদের মেধা থাকা সত্ত্বেও আমরা অনেক কিছু করতে পারছি না।



বিবার্তা : আপনি এরইমধ্যে বেশকিছু চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসিত হয়েছেন। চরিত্র নিয়ে ইচ্ছে মতো খেলা করার স্বাধীনতা কি সব সময়ই পান?


জাহিদ হাসান : আসলে একটা চরিত্র নির্মাণ করেন রাইটার। তিনিই এর কারিগর। অনেক সময় আমি তাতে অনেক কিছু সংযোজন-বিয়োজন করার সুযোগ পাই। আবার অনেক সময় তা পাই না। আমার চেষ্টা একটা ভালো চরিত্র দাঁড় করানোর।



বিবার্তা : গত কয়েক বছরে আপনি যে চরিত্রগুলোতে অভিনয় করেছেন তার মধ্যে আরমান ভাই সিরিজের ‘আরমান’চরিত্রটি আপনাকে সবচেয়ে বেশি আলোচিত করেছে। এই চরিত্র নিয়ে দর্শকের মূল্যায়ন কেমন ছিলো?


জাহিদ হাসান : আসলে একটি চরিত্র যখন দর্শকদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে, তখনই একজন অভিনয় শিল্পী সফল হয়। আমি প্রতিটি নাটকে কাজের আগে চরিত্রটি নিয়ে খুব করে ভাবি। চরিত্রের এপিঠ-ওপিঠ ভালো করে দেখে নিই। চরিত্রটির গন্ধ, রূপ, রঙ-এগুলোকে চেনা-জানার চেষ্টা করি, ভালোবাসতে চেষ্টা করি। এভাবে এক সময় নিজেকে ভুলে যাই। অভিনীত চরিত্রের মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেলি। আরমান ভাই চরিত্রের সময়ও আমি একইরকম খেলায় মেতেছিলাম। দর্শক আমাকে যে আরমান ভাই হিসেবে গ্রহণ করেছেন, আমি তাতে অনেক খুশি।


বিবার্তা/অভি/কাফী

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com