তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপরে: গঙ্গাচড়ায় পানিবন্দী প্রায় ৩ শতাধিক পরিবার
প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৬, ২২:০৩
তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপরে: গঙ্গাচড়ায় পানিবন্দী প্রায় ৩ শতাধিক পরিবার
রংপুর প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

উজানের টানা ভারী বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ফুলে-ফেঁপে উঠেছে তিস্তা নদী। গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলগুলোতে হু-হু করে ঢুকছে বন্যার পানি। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন নদী তীরবর্তী এলাকার হাজারো বাসিন্দা।


সরেজমিনে দেখা গেছে, আকস্মিক বন্যায় তলিয়ে গেছে এলাকার শতাধিক ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট।


সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, উপজেলার ৫ নং লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের ইচলী বাগেরহাটের আশ্রয়ন প্রকল্পসহ আশেপাশের বেশ কয়েকটি গ্রাম সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়েছে। আকস্মিক এই ঢলে এলাকার প্রায় তিন শতাধিক পরিবার পুরোপুরি পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।


বসতবাড়িতে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি ওঠায় গৃহপালিত পশুপাখি নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন বানভাসি মানুষ। রান্নার চুলা তলিয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবারে জ্বলছে না উনুন। দেখা দিয়েছে তীব্র বিশুদ্ধ পানি ও শুকনা খাবারের সংকট। ঘরের ভেতর পানি ঢুকে পড়ায় অনেকেই উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। দুর্গত এলাকায় শিশু এবং বৃদ্ধদের নিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পরিবারগুলোকে।


স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, হুট করেই পানি বাড়তে থাকায় তারা আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ারও সময় পাননি।


লক্ষিটারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ্ আল হাদী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন,হঠাৎ করেই তিস্তার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় আমার ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের ইচলী বাগেরহাট আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ চরাঞ্চলের প্রায় ৩০০ পরিবার পুরোপুরি পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। অনেক ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে গেছে। আমরা ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখছি।উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি এবং দ্রুত সরকারি ত্রাণ সহায়তার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি।


বাপাউবো (রংপুর) নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান,উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারাজের সবগুলো জলকপাট (স্লুইস গেট) খুলে রেখে পানির প্রবাহ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।পানি নামতে শুরু করেছে আর ইতিমধ্যে যে সকল এলাকায় পানি উঠেছে সেগুলোও ধীরে ধীরে নেমে যাবে বলে আশা করছি। আর তাৎক্ষণিক ভাঙ্গন পরিস্থিতি মোকাবেলায় জিওব্যাগ প্রস্তুত রেখেছি।


বিবার্তা/নাহিদ/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com