পঞ্চগড়ে সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলা
সাবেক এমপি নাইমুজ্জামানের স্ত্রী ও যুব মহিলা লীগ নেত্রী কারাগারে
প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৬, ১৮:২৭
সাবেক এমপি নাইমুজ্জামানের স্ত্রী ও যুব মহিলা লীগ নেত্রী কারাগারে
পঞ্চগড় প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

পঞ্চগড়ে সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও পঞ্চগড়-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাইমুজ্জামান ভূঁইয়া মুক্তার স্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত মেজর কাজী মৌসুমী এবং জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান নিলুফার ইয়াসমিনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।


সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে পঞ্চগড় জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মাহবুব আলী মুয়াদ তাদের জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। এ সময় শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অংশ নেন।


মামলা সূত্রে জানা যায়, সরকার কর্তৃক দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও গোপনে সংগঠিত হয়ে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে ২০২৫ সালের ২০ জুলাই পঞ্চগড় সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মানিক মিয়া বাদী হয়ে ৪৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১১০-১২০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১২ মে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর সব ধরনের দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এরপরও ২৩ জুন পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের মিলন বাজার এলাকায় সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নাইমুজ্জামান ভূঁইয়া মুক্তার কাজীপাড়ার খামারবাড়িতে আওয়ামী লীগের ৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়। ২৬ জুন ওই অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।


পুলিশের তথ্যমতে, ওই অনুষ্ঠানে যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কাজী মৌসুমীর নেতৃত্বে প্রায় ১১০ থেকে ১২০ জন নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। সেখানে কেক কাটা, ‘জয় বাংলা’ ও ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান, খাবার বিতরণ এবং নগদ অর্থ প্রদান করা হয়। এছাড়া নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে দলীয় কর্মীদের উসকানি ও উৎসাহ দেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে আরও বলা হয়, অভিযুক্তরা দলীয় কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি সরকার উৎখাত, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিলেন। অনুষ্ঠানের ভিডিও ধারণ করে ‘আওয়ামীলীগ নিউজ বিডি’ নামের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেজে প্রচার করা হয়, যা জনমনে বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।


শুনানি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী মির্জা সারোয়ার হোসেন দাবি করেন, মামলার অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি এবং জামিনযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও আসামিদের জামিন দেওয়া হয়নি।


অন্যদিকে, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মির্জা নাজমুল ইসলাম কাজল বলেন, আদালত আইন ও তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতেই ন্যায়বিচার করেছেন।


বিবার্তা/গোফরান/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com