বাবার লাশ দাফনে সন্তানদের বাধা, ভাই-বোনদের মারামারি
প্রকাশ : ২০ জুন ২০২৬, ২২:৪৬
বাবার লাশ দাফনে সন্তানদের বাধা, ভাই-বোনদের মারামারি
প্রিন্ট অ-অ+

ভোলা প্রতিনিধি


জীবদ্দশায় সম্পত্তি নিয়ে যে বিরোধের সূচনা হয়েছিল, মৃত্যুর পরও তার অবসান হলো না। সম্পত্তির লোভ আর পারিবারিক কলহের জেরে জন্মদাতা বাবার লাশ দাফন করা নিয়ে সন্তানদের মধ্যে চরম উত্তেজনা, বাগ্‌বিতণ্ডা ও হাতাহাতির মতো এক লজ্জাজনক ঘটনা ঘটেছে। স্বজনদের বাধার মুখে দুই-দুইবার কবর খোঁড়া হলেও দীর্ঘ সময় দাফন করা সম্ভব হয়নি মৃত বাবার লাশ।


শনিবার (২০ জুন) দুপুর ২টার দিকে চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণ থানাধীন রসুলপুর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নিহত জলিল পণ্ডিতের বাড়িতে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জলিল পণ্ডিত জীবদ্দশায় চারটি বিয়ে করেছিলেন। বর্তমানে তার দুই স্ত্রী ও সাত ছেলে-মেয়ে রয়েছে। শনিবার ভোরে তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পর অসিয়ত মতে নির্ধারিত জমিতে তাকে সমাহিত করার জন্য কবর খোঁড়া শুরু হলে কবরের স্থান ও জমির ভাগ ভাটোয়ারা নিয়ে জলিল পন্ডিতের সন্তানদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। তাদের অভিযোগ, মৃত্যুর আগে জলিল পণ্ডিত তার সম্পত্তির একটি বড় অংশ ছোট স্ত্রীর মেয়ে খাদিজা আক্তারের নামে দলিল করে দিয়েছেন। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল।


অভিযোগ রয়েছে, সেই বিরোধের জের ধরেই কয়েকজন সন্তান বাবার লাশ দাফনে বাধা দেন। প্রথমে পারিবারিক কবরস্থানে কবর খোঁড়া হলেও সেখানে লাশ দাফন করতে দেয়া হয়নি। পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়লে পরিবারের অন্য সদস্যরা বাড়ির উঠানে দ্বিতীয়বার কবর খোঁড়েন। কিন্তু সেখানেও আপত্তি জানানো হয়। একপর্যায়ে লাশ বাড়ির উঠানে রেখে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক, ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দাফনকে কেন্দ্র করে কয়েক ঘণ্টা ধরে উত্তেজনা বিরাজ করে। লাশ দাফন নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে একাধিক দফায় বাগ্‌বিতণ্ডা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এমনকি লাশ বাড়ির উঠানে রেখে ভাই-বোনদের মধ্যে মারধরের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।



খবর পেয়ে শশীভূষণ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। তবে পুলিশের উপস্থিতিতেও কয়েক দফা উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসী উভয় পক্ষকে শান্ত করার উদ্যোগ নেন।


দীর্ঘ আলোচনার পর স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় বিরোধের অবসান ঘটে। পরে বাড়ির উঠানে নামমাত্র জানাজা শেষে জলিল পণ্ডিতের লাশ দাফন করা হয়।


শশীভূষণ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ আহমেদ বলেন, বর্তমানে জলিল পন্ডিতের ২ স্ত্রী রয়েছে। তার ১০ সন্তান। সন্তানদের মধ্যে মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধের জেরেই এ ঘটনার সূত্রপাত। পরবর্তীতে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার সন্তানদের শান্ত করেছে। পরে মরদেহটি দাফন করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ পাইনি।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com