
ফেনীর সাতটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে জেলার সদর উপজেলার দুটি, দাগনভূঞা উপজেলার দুটি, ফুলগাজী উপজেলার একটি, পরশুরাম উপজেলার একটি ও সোনাগাজী উপজেলার একটি খাল রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কাগজে-কলমে ২ হাজার ৭৭৮ জনের বেশি শ্রমিক দিয়ে এসব প্রকল্পের কাজ পরিচালনার কথা থাকলেও বাস্তবে খনন চলছে কয়েকটি এক্সকাভেটর দিয়ে। এতে সরকারি কর্মসংস্থান কর্মসূচির উদ্দেশ্য ভেস্তে যাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় দরিদ্র শ্রমিকেরা কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের নজরদারিতেই এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
প্রায় সাড়ে ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই সাতটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজে নির্ধারিত গভীরতা ও প্রস্থ বজায় রাখা হয়নি। আবার প্রকল্পে শ্রমিক ব্যবহার না করে অর্থ লুটসহ নানা অনিয়মের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে দেশব্যাপী জনগুরত্বপূর্ণ খালগুলো খনন, পুনঃখনন এবং খালপাড়ে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এর আওতায় ফেনীর ছয় উপজেলার ১২টি খাল অগ্রাধিকার দিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে সাতটি খাল অনুমোদিত হয়েছে, যার মোট দৈর্ঘ্য ৪৯ কিলোমিটার।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রকল্প শুরুর আগে থেকে অনেকের কাছ থেকে কাজ দেওয়ার কথা বলে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সংগ্রহ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রকল্প উদ্বোধনের পর তাদের কাউকেই কাজে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে যাদের নামে ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট করা হচ্ছে বা হয়েছে, বাস্তবে ওইসব ব্যক্তির স্বাক্ষরের সঙ্গে মাস্টার রোলের স্বাক্ষর বা টিপসইয়ের কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যাবে না। প্রকল্পের অর্থ লুটপাটের উদ্দেশ্যে শ্রমিকের এসব ভুয়া অ্যাকাউন্ট ও মাস্টার রোল তৈরি করা হচ্ছে বা হয়েছে।
ফেনী সদর উপজেলার শর্শদিতে ইউএনও সুলতানা নাসরীন পরিদর্শনে যাবেন, তাই তড়িঘড়ি করে এক দিনের শ্রমিক বানানো হলো স্থানীয় ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ইউনিয়ন বিএনপি কর্মীদের। অথচ দ্রুত কাজ শেষ করে অধিক উল্টাপাল্টের জন্য শ্রমিকের পরিবর্তে নামমাত্র কাজে লাগানো হয়েছে ছয়টি ভেকু মেশিন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, 'অবশ্যই প্রকল্পের শর্ত মেনে ওয়েজ ও নন-ওয়েজ দুভাবেই কাজ করতে হবে। কীভাবে করা হচ্ছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউএনওদের সঙ্গে কথা বলে জানাতে পারব।'
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]