
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে আরো একজনকে বিএসএফ পুশইনের চেষ্টা করলে বিজিবি তা রুখে দিয়েছে।
রবিবার (১৪ জুন) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চল্লিশপাড়া সীমান্ত দিয়ে তাকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভারতের পশ্চিবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার জলঙ্গী থানার জলঙ্গী সীমান্ত দিয়ে শাহাবুদ্দিন (৫৫) নামে একজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে। এসময় ১৫৭ সীমান্ত পিলার সংলগ্ন চল্লিশপাড়া সীমান্তে ৪৭ বিজিবির চল্লিশপাড়া বিওপির টহল দল তাতে বাঁধা দিলে সে ভারত ভূ-খন্ডে ফেরত চলে যায়। তার বাড়ি বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলার নাজিরনগর গ্রামে এবং সে একই গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে।
অপরদিকে পুশইন হতে যাওয়া শিশুসহ ১২ জন নারী-পুরুষ সীমান্তের শূন্যরেখায় ৩দিন ধরে খোলা আকাশে নীচে মানবেতর অবস্থানে রয়েছে। প্রখর রৌদ্র ও ভ্যাপসা গরমের পাশাপাশি মশার কামড়ে শিশু সন্তানসহ বাবা-মা সকলে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এদের মধ্যে আড়াই বছরের শিশু সামাদ প্রচন্ড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিজিবির সহায়তায় স্থানীয় একজন চিকিৎসক ঘটনাস্থলে গিয়ে অসুস্থ শিশুসহ সকলকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন।
ঘটনাস্থল থেকে ফিরে স্থানীয় চিকিৎসক শহিদুল ইসলাম বলেন, মানবিক কারণে তাদের খোঁজ নিতে গিয়ে দেখি ৪জন শিশু রয়েছে। এরমধ্যে আড়াই বছরের একটি শিশু উচ্চ জ্বরে আক্রান্ত। এছাড়াও বিভিন্ন বয়সের আরও ৩টি শিশু সর্দি, কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত। আমি প্রাথমিক চিকিৎসা ও ওষুধ দিয়ে এসেছি। অসুস্থ শিশুদের বাবা-মাসহ সকলে সর্দি জ্বরে ভুগছেন। আক্রান্তরা জানিয়েছেন তারা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে গোসল করতে পারেননি এবং খোলা জায়গায় মাানবেতর জীবন-যাপন করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ ঘটনায় শনিবার দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবি-বিএসফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই তা শেষ হলে সীমান্তে অবস্থান করা ৩ পরিবারের সদস্যরা কুল কিনারাহীন হয়ে অনিশ্চয়তার প্রহর গুনছেন।
এরআগে শুক্রবার (১২ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ১৪৯ সীমান্ত পিলার সংলগ্ন দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের চরবিলগাতুয়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে শিশু, নারী ও পুরুষসহ ১২ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি এবং স্থানীয় জনসাধারণের প্রতিরোধ ও তৎপরতায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
বিজিবি ও স্থানীয়দের বাঁধার মুখে ১২জনকে ১৪৮/৩-এস সীমান্ত পিলার সংলগ্ন প্রাগপুর সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৫০গজ ভারতের অভ্যন্তরে পাঠিয়ে দিলে সেখানে তারা ৩দিন ধরে অবস্থান করছেন। তবে তারা নিজেদের বাংলাদেশি নাগরিক বলে দাবি করেছেন।
তাদের দাবি অনুযায়ী ৩ পরিবারের ১২ জনের মধ্যে রয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার বাথানপাড়া গ্রামের মৃত ওয়াসেদ আলীর ছেলে উজির আলী (৫০), তার স্ত্রী জয়নুর বেগম (৩৫), ছেলে শিহাদ (১৭), ইনজামুল (৮) এবং আড়াই বছরের শিশু সামাদ। এছাড়াও সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রফিকুল গাজীর পরিবারের ৩সদস্য এবং খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আফরোজা খাতুনের পরিবারের ৪ সদস্য রয়েছেন। এদের ভারতের কেরালা রাজ্য থেকে আটক করা হয়। পরে বিএসএফ তাদের দৌলতপুরের চরবিলগাতুয়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএসএফ পুশইনের অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয়টি তদন্তের জন্য সময় চেয়েছে। বর্তমানে ১২ জন ব্যক্তি শূন্যরেখার প্রায় ৫০ মিটার ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন। সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট যেকোনো বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিবার্তা/শরীফুল/এসএম
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]