
কক্সবাজার পর্যটন জোনে অবস্থিত ‘আল্-গণি রেস্টুরেন্টে’ নামে একটি হোটেলের খাবার খেয়ে অন্তত অর্ধশত পর্যটক অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে অবস্থায় জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন অন্তত ৩৫ জন।
বিষয়টি আলোচনায় আসার পর শনিবার (১৬ মে) বিকেলে প্রতিষ্ঠানটিতে যৌথ অভিযান চালিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। কলাতলীর পর্যটন জোনস্থ ‘আল-গণির’ সুগন্ধা পয়েন্ট শাখাকে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি ও ভোক্তা অধিকার আইন লঙ্ঘনের দায়ে অর্ধলাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা শুভ্র দাশ বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে আল-গণিতে যৌথ অভিযান চালানো হয়। প্রপার হাইজিনিং মেইনটেইন না করার প্রমাণ মেলায় এবং খাবার তৈরির স্থান অপরিচ্ছন্ন থাকায় রেস্টুরেন্টটিকে সতর্ক করার পাশাপাশি অর্ধলাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার রাতে আল-গণির সুগন্ধা পয়েন্ট শাখায় খাবার গ্রহণ করেন রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে শিক্ষা সফরে আসা অর্ধশত পর্যটক। খাবারের মেন্যুতে ছিল বারবিকিউ, খাবার শেষে সবাই একে একে অসুস্থতাবোধ করলে হাসপাতালে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. তানবী জান্নাত জানান, রাত সাড়ে ১১টার পর থেকে একে একে আক্রান্ত পর্যটকরা হাসপাতালে আসতে শুরু করেন, সব মিলিয়ে একটি গ্রুপের ৩০-৩৫জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তারা বমি, ডায়রিয়া ও তীব্র পেটব্যথার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসেন। ফুড পয়েজনিংয়ের কারণে এমনটা হয়েছে। তাদের মাঝে ১২ জনকে ভর্তি করে পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা শেষে শনিবার দুপুরের দিকে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর ভোরেই ছেড়ে দেওয়া হয়।
চিকিৎসা নেওয়া পর্যটকদের মাঝে ছিলেন, মাসুম বিল্লাহ, আনোয়ার, সাবাব উল্লাহ, জাহির, আমিনুল ইসলাম, মাসুম উল্লাহ, আজহারুল আলী, গোলাম মোর্শেদ, মাহবুব আলম, আব্দুল মোমিন, মৌ, রুমা, আসমানী, মরিয়ম, মোমেন, মশিউর রহমান, কামরুজ্জামান, গীতা বালা ধর, আয়ান, আবু বকর ও আব্দুল মঈন।
রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজের শিক্ষক মাসুম বিল্লাহ জানান, আমাদের কলেজ থেকে ১৩০জনের একটি দল শিক্ষা সফরে কক্সবাজারে যায়। শুক্রবার রাতে আল-গণিতে আমরা ৩০-৪০ জন বারবিকিউ খাই। কিছু সময় পর থেকেই সবাই কম-বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে চিকিৎসা নিই।
পর্যটন শহর হিসেবে কক্সবাজারের রেস্তোরাঁগুলোতে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পরিবেশন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করা জরুরী বলে উল্লেখ করেন ভুক্তভোগী পর্যটক মাহবুব আলম, আব্দুল মোমিন, মৌ, রুমা, আসমানী, মরিয়ম, মোমেন প্রমুখ।
তবে আল-গণি রেস্টুরেন্টের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা মাসরুর আলম অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, তাদের বারবিকিউ নয়; বরং সৈকত এলাকায় অন্য খাবার খেয়ে পর্যটকরা অসুস্থ হয়েছেন।
অন্যদিকে, একইদিন হোটেল সী প্যালেসের রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়ে অর্ধলাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]