কোরবানির ঈদ সামনে রেখে হাটে তোল হচ্ছে পশু
কুষ্টিয়ায় ২ লক্ষাধিক কোরবানির পশু প্রস্তুত, লাভের আশায় খামারিরা
প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৬, ০১:৪৯
কুষ্টিয়ায় ২ লক্ষাধিক কোরবানির পশু প্রস্তুত, লাভের আশায় খামারিরা
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

কোরবানির ঈদে সবসময়ই কুষ্টিয়ার গরুর বাড়তি চাহিদা থাকে। আর ক্রেতাদের চাহিদার যোগান দিতে কুষ্টিয়া জেলায় এ বছর ২লক্ষাধিক পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রাকৃতিক উপায়ে ও দেশীয় পদ্ধতিতে গরু লালন পালন এবং মোটাতাজা করেছেন খামারিরা। তাই লাভের আসায় শেষ মুহূর্তে পশুর পরিচর্যায় ব্যস্ত রয়েছেন তারা। আবার অনেকে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পশুর হাটে ও খামারিদের কাছে খামারে পালন করা গরু বিক্রয় করে লাভের মুখও দেখেছেন। তবে দেশের বাইরে থেকে পশু আমদানি না করার আহ্বান খামারিদের।


গরু লালন-পালন কুষ্টিয়ার ঐতিহ্য। আর এ ঐতিহ্যের প্রশার ঘটাতে এবং কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এবছরও জেলার প্রায় ১৯ হাজার খামার ও কৃষকের বাড়িতে ২ লক্ষাধিক বিভিন্ন প্রজাতির কোরবানির পশু মোটাতাজা বা হৃষ্টপুষ্ট করা হয়েছে। যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হবে। বিভিন্ন পর্যায়ের প্রান্তিক খামারি ও পশু পালনকারীরা বলছেন-পশু খাদ্যের দাম বেড়েছে, তাই বাড়তি দামে পশু বিক্রয় করতে না পারলে লোকসান গুনতে হবে, হারাতে হবে পুঁজি। আবার দেশের বাইরে থেকেও যেন পশু আমদানি না করা হয় এমন দাবি তাদের।


জেলার সীমান্তবর্তী দৌলতপুর উপজেলার সাদীপুর গ্রামের ক্ষুদ্র খামারি জিয়াউল ইসলাম বলেন, আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এ বছর সে ৫টি গরু পালন করেছেন। গো-খাদ্যসহ পশু পরিচর্যার সবকিছুর দাম বেড়েছে। তাই গরু পালনে খরচওবেড়েছে। পরম যত্নে লালন-পালন করা গরুর ন্যায্য দাম না পেলে পুঁজি হারাতে হবে। আবার গরুর খামারে কাজ করে অনেকের কর্মসংস্থান হয়েছে।


দীর্ঘদিন খামারে কাজ করে তাদের সংসারে সচ্ছলতাও ফিরেছে। তাই পরম যত্নে লালন-পালন করা পশুগুলি কোরবানির পশুর হাটে নেওয়ার জন্য দিন-রাত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বলে জানিয়েছেন পশু পরিচর্যকারী তমাল হোসেন।


বুধবার বিকালে কুমারখালী উপজেলার আলাউদ্দিন নগর পশুর হাটে কথা হয় ঢাকার এক ক্রেতা বা ব্যাপরীর সাথে। তিনি জানান, আজকের এ হাট থেকে ১০টি গরু ক্রয় করেছেন। সর্বনিম্ন দামে যে গরুটি ক্রয় করেছেন তার দাম পড়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। যা গত বছর ছিল ১ লক্ষ টাকার নিচে। ২ লাখ টাকার ওপরেও তিনি গরু করেছেন। এবছর গরুর বাজার চড়া বলে তিনি উল্লেখ করেন।


কুষ্টিয়া জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আল মামুন হোসেন মন্ডল জানান, এবছর জেলায় ছোট-বড় প্রায় ১৯ হাজার খামারে দুই লক্ষাধিক গরু লালন-পালন করা হয়েছে। কোন ক্ষতিকর ও ভেজাল খাদ্য ছাড়াই দেশিয় পদ্ধতিতে খাবার খাইয়ে গরু মোটাতাজা বা হৃষ্টপুষ্ট করা হয়েছে। যা জেলার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের সরবরাহ করা হচ্ছে। খামারিদেরপরামর্শ সহ সব ধরনের সহযোগিতার কথা জানিয়েছেন তিনি।


কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে লাভের আশায় দৌলতপুরসহ কুষ্টিয়া জেলার ছোট বড় খামারিরা দীর্ঘ একটি বছর বা তারও বেশী সময় ধরে পশু পালন করে থাকেন। দিন-রাত পরিশ্রম ও পরম যত্নে লালন পালন করা পশুটি বিক্রয়ে লোকসান হলে পশু পালনে আগ্রহ হারাবেন তারা।


বিবার্তা/শরীফুল/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com