
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসনমূলক কর্মকাণ্ডে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সরাসরি জড়িত ছিল এবং এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এমন অভিযোগ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে তিনি এই অভিযোগ করেন।
বৈঠকে ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে, আমাকে বলতেই হচ্ছে যে ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনমূলক কর্মকাণ্ডে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরাসরি জড়িত ছিল। যখন ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসী যুদ্ধ শুরু হয়, তখন তারা (সংযুক্ত আরব আমিরাত) এর নিন্দা জানাতেও অস্বীকার করেছিল।’
তিনি বলেন, ‘আগ্রাসনের একেবারে প্রথম দিনেই (২৮ ফেব্রুয়ারি) মিনাবের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হওয়া নৃশংস হামলারও আমিরাতের কর্মকর্তারা নিন্দা করেননি; যে হামলায় ১৭০ জনেরও বেশি নিরীহ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছিল। আগ্রাসনের মূল নীতির নিন্দা না করার পাশাপাশি, সংযুক্ত আরব আমিরাত পরবর্তীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলি সরকারকে সামরিক ঘাঁটি, আকাশসীমা, জমি এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে এই আগ্রাসী কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে।’
সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানি জনগণের ওপর হামলা চালানোর জন্য ইসরাইলি ও আমেরিকানদের সব ধরনের গোয়েন্দা সুবিধা ইত্যাদি সরবরাহ করেছে বলেও সমালোচনা করেন আরাঘচি।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘যদিও তারা (সংযুক্ত আরব আমিরাত) আমাদের প্রতিবেশী এবং আমরা তাদের ভাই ও বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী হিসেবে বিবেচনা করি, দুর্ভাগ্যবশত তারা এই আগ্রাসনে ইসরাইলি ও আমেরিকানদের পক্ষ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তবে, ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর হামলা করেনি। আমরা কেবল সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছি, যেগুলো দুর্ভাগ্যবশত সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতেই অবস্থিত। আমরা মার্কিন বাহিনী ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করেছি এবং তারা যত বেশি আমাদের ওপর হামলা করেছে, আমরাও তত বেশি আত্মরক্ষা করেছি।’
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]