চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত স্কুলছাত্রী রেশমীর মৃত্যু
প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৬, ২০:৪৫
চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত স্কুলছাত্রী রেশমীর মৃত্যু
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামীর রউফাবাদ কলোনিতে সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রেশমী আক্তার (১১) মারা গেছে। কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ের পর বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।


চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তাসলিম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


পুলিশ ও পরিবার সূত্র জানায়, গত ৭ মে রাতে রউফাবাদ কলোনির শহীদ মিনার গলিতে গোলাগুলির সময় একটি গুলি রেশমীর বাম চোখে লাগে। পরে সেটি মাথার ভেতরে ঢুকে যায়। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হলেও আইসিইউ শয্যা না থাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। পরে তাকে আবার চমেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।


চিকিৎসকেরা জানান, গুলিটি চোখ ভেদ করে মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে আটকে যাওয়ায় অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হয়নি। শুরু থেকেই তার অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল।


পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রেশমী ছিল সবচেয়ে ছোট। স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ছিল সে। বেশির ভাগ সময় বাসাতেই থাকত।


পরিবারের দাবি, অপ্রয়োজনে বাইরে যেত না রেশমী। ঘটনার দিন মা তাকে ২০ টাকা দিয়ে পান আনতে পাঠিয়েছিলেন। দোকানে পৌঁছানোর আগেই গোলাগুলির মধ্যে পড়ে যায় শিশুটি।


স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ওই রাতে কয়েক মিনিট ধরে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়া হয়। আশপাশের লোকজন নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেলেও রেশমী নিজেকে রক্ষা করতে পারেনি। একই ঘটনায় রাজু (২৪) নামে এক যুবক ঘটনাস্থলেই নিহত হন।


এ ঘটনায় ৯ মে রেশমীর মা সখিনা বেগম বাদী হয়ে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন।


পুলিশ বলছে, ঘটনার পেছনে পূর্ববিরোধের জের রয়েছে। গত ২৬ এপ্রিল রাউজানের কদলপুর এলাকায় নাসির উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় প্রতিশোধমূলক হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওই ঘটনায় হাসান রাজুর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। পরে তাকে লক্ষ্য করেই সন্ত্রাসীরা নগরে আসে। তাদের ছোড়া গুলিতেই রেশমী আহত হয় বলে পুলিশের ধারণা।


ঘটনার পরদিন হাসপাতালে গিয়ে রেশমীর খোঁজ নেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ করছে।


বিবার্তা/জয়দেব/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com