
শিক্ষার নিরাপদ পরিবেশ গড়ার প্রত্যয়ে প্রয়াত জাফরুল্লাহ চৌধুরীর হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল গণ বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক র্যাগিং, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, হামলা ও ভয়ভীতির ঘটনায় সেই ক্যাম্পাস এখন শিক্ষার্থীদের কাছে আতঙ্কের আরেক নাম। অভিযোগ উঠেছে, বিচার চেয়ে আন্দোলনে নামা শিক্ষার্থীদের কণ্ঠ রোধে উল্টো প্রশাসনিক চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও ট্রাস্টি বোর্ডের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষার্থীরা।
২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ সামনে আসে। একই সময়ে র্যাগিংয়ের ঘটনাও আলোচনায় আসে। এসব ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে আন্দোলনে নামেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
তবে অভিযোগ রয়েছে, বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার বদলে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধেই অবস্থান নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সম্প্রতি বোর্ড অব ট্রাস্টিজ, উপাচার্য ও শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অশালীন ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ এনে এক নারীসহ চার শিক্ষার্থীকে আর্থিক জরিমানার নোটিশ দেওয়া হয়। যদিও নোটিশে কোন বিধি ভঙ্গের দায়ে শাস্তি দেয়া হয়েছে কিংবা জরিমানার পরিমাণ কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, তার কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা ছিল না।
বিষয়টি জানতে গত ৪ মে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে যান ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। কিন্তু কোনো সদুত্তর না পেয়ে প্রশাসনিক ভবন থেকে বের হওয়ার পর প্রক্টরিয়াল টিমের সামনেই হামলার শিকার হন কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ক্যান্টিন সম্পাদক মনোয়ার হোসেন অন্তর। তার অভিযোগ, ধর্ষণ মামলার অভিযুক্তদের ঘনিষ্ঠরা তাকে মারধর করে।
এদিকে, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার সেই ছাত্রীও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অভিযুক্তরা জামিনে বের হওয়ার পর থেকে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সম্প্রতি হামলারও শিকার হয়েছেন বলে জানান ওই শিক্ষার্থী।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এর আগেও ক্যাম্পাসে একাধিক সহিংস ঘটনার বিচার হয়নি। ফলে অপরাধীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে এক ধরনের দায়মুক্তির সংস্কৃতি। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা ও ট্রাস্টি বোর্ডে থাকা সাবেক কয়েকজন উপদেষ্টার প্রভাবকেই এসব ঘটনার পেছনে দায়ী করছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবুল হোসেন। মুঠোফোনে তিনি দায় চাপান ট্রাস্টি বোর্ডের ওপর।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর প্রভাব পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতিতেও। হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে সেখানে। আর ছাত্র সংসদের এক প্রতিনিধির ওপর হামলার পরও নীরব রয়েছেন শীর্ষ নেতৃত্ব। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—শিক্ষার্থীদের জন্য কবে নিরাপদ হবে এই ক্যাম্পাস, আর কবে ফিরবে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]