সৌদি আরবে নিহত বাংলাদেশির মরদেহ ফেরাতে পরিবারের আকুতি
প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৫৬
সৌদি আরবে নিহত বাংলাদেশির মরদেহ ফেরাতে পরিবারের আকুতি
শেরপুর প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

সৌদি আরবের রিয়াদ শহরে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার মো. রনি মিয়া নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি গত ২১ এপ্রিল সৌদি আরবের রিয়াদে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। রনি উপজেলার সদর ইউনিয়নের দিঘীরপাড় গ্রামের মো. আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। বর্তমানে সৌদি আরবের আল-হায়াত মেডিকেল হাসপাতালে তার মরদেহ সংরক্ষিত আছে। এদিকে এক সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও নিহতের লাশ দেশে আনার কোন উপায় না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে তার পরিবার।


গতকাল ২৮ এপ্রিল (মঙ্গলবার) ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক বরাবর মরদেহ বাংলাদেশে আনার জন্য একটি আবেদনও করেছেন নিহতের বড় ভাই মো. মনিরুজ্জামান।


অপরদিকে নিহত রনির গ্রামের বাড়িতে তার বাবা-মা, ভাই-বোন, স্ত্রী–সন্তানেরা শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন। দ্রুত এ প্রবাসীর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের কাছে আকুতি জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।


রনির বড় ভাই প্রভাষক মো. মনিরুজামান বলেন, তার ছোট ভাই (রনি) গ্রামের বাড়িতে নির্মাণশ্রমিকের কাজ করতেন। আবার কখনও ব্যাটারিচালিত রিকশা চালাতেন। উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখে ২০২৪ সালে ফুড ডেলিভারি কাজে সৌদিতে যান রনি। কিন্তু মাস দুয়েকের মাঝে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন। পরবর্তীতে গত ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে শ্রমিক ভিসায় একই কাজে সৌদিতে যান রনি। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস; ফের ওই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাতেই গত ২১ এপ্রিল সৌদি আরবের রিয়াদে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান তিনি।


মনিরুজ্জামান আরও বলেন, উন্নত জীবন গঠনের স্বপ্ন দেখেন রনি। পরে ছোট ভাইকে (রনি) সৌদি যাওয়ার জন্য প্রথমে দেন পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা। যাওয়ার কিছু দিনের মধ্যে আহত হয়ে ফেরত আসায় এক টাকাও দিতে পারেননি রনি। পরবর্তীতে আবারও যাওয়ার জন্যে পরিবারের সদস্যরা আরও দেন চার লাখ টাকা। বর্তমানে রনির মরদেহ দেশে আনার জন্যে, যে কোম্পানি নিয়ে গিয়েছিল তাদের সুপারভাইজারের সাথে এবং যিনি সৌদি থেকে লাশ হস্তান্তরের দায়িত্ব নিয়েছেন মো. আফতাব উদ্দিন নামের এক ব্যক্তির সাথে তাদের যোগাযোগ চলছে । পরিবারের প্রিয় জনের লাশের জন্য অপেক্ষার মতো কষ্টকর কিছু নেই বলে জানান তিনি।


নিহতের বাবা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ছেলের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অনেক কষ্টে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম আমরা। আজ তার মৃত্যুর খবর শুনতে হলো। আমরা আমাদের ছেলেকে আর জীবিত ফিরে পাব না, তবে তার মরদেহটি যেন দেশে এনে নিজের হাতে দাফন করতে পারি, সেই ব্যবস্থা চাই। সন্তানের মরদেহ শেষবারের মতো দেখতে আকুতি জানিয়েছেন তিনি। নিজ জন্মভূমিতে তাকে দাফন করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রকিব বাদশা বলেন, রনির মরদেহ শেষবারের মতো দেখার জন্য তার মা–বাবা, তার স্ত্রী ও দুই সন্তান অপেক্ষায় আছেন। তার মৃত্যুতে পুরো পরিবারে এখন অন্ধকার নেমে এসেছে। তারা শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন।


শেরপুর জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. লেহাজ উদ্দিন বলেন, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে নিহতের মরদেহ দেশে আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা হতে পারে বলে জানান এ কর্মকর্তা।


এ বিষয়ে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বার্তা পাঠানো হবে।


শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, সৌদি প্রবাসীর মরদেহ দ্রুত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে আনতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রালয়ে যোগাযোগ করবেন। এছাড়া নিহতের রূহের মাগফিরাত কামনা এবং তার পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।


বিবার্তা/মনির/এসএম

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com