
বিশ্বকাপ যত এগিয়ে আসছে, লিওনেল মেসি যেন ততই জ্বলে উঠছেন। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা তারকা আবার গোল করলেন, গোল করালেন এবং ম্যাচজুড়েই আতঙ্ক ছড়ালেন প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে। অধিনায়কের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে নিজেদের নতুন মাঠে প্রথম জয়ের স্বাদ পেল ইন্টার মায়ামি।
মেজর লিগ সকারের ম্যাচে পোর্টল্যান্ড টিম্বার্সকে ২-০ গোলে হারাল ইন্টার মায়ামি।
বাংলাদেশ সময় সোমবার ভোরের ম্যাচটিতে প্রথমার্ধেই গোল করেন মেসি ও হার্মান বের্তেরামে।
গত মাসে চালু হওয়া মায়ামির নতুন মাঠ নু স্টেডিয়ামে পঞ্চম ম্যাচে এসে প্রথম জয়ের দেখা পেল তারা। আগের চার ম্যাচের তিনটি ছিল ড্র, একটিতে ছিল হার।
এই ম্যাচে জয়ের ব্যবধান বড় হতে পারত আরও, যদি না অতিমানবীয় পারফরম্যান্স মেলে ধরতেন পোর্টল্যান্ডের গোলকিপার জেমস প্যান্টেমিস। সাতটি সেভ করেন কানাডিয়ান এই গোলকিপার, এর মধ্যে চারটি ছিল অসাধারণ।
ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই মেসির সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ান প্যান্টেমিস। বক্সের বাইরে লুইস সুয়ারেসকে বল দিয়েই মেসি চকিতে ঢুকে যান ভেতরে। সামনের ডিফেন্ডারদের জটলার ওপর দিয়ে সুয়ারেস নান্দনিকভাবে চিপ করেন একদম গোলমুখে। ছুটন্ত অবস্থায়ই পা বাড়িয়ে ভলির মতো করেন মায়ামি অধিনায়ক। তবে খুব কাছ থেকেও তা ফিরিয়ে দেন প্যান্টেমিস।
মিনিট দশেক পর আবার দলকে রক্ষা করেন প্যান্টেমিস। এবার রদ্রিগো দে পলের পাস থেকে সুয়ারেসেরে শট দুর্দান্ত রিফ্লেক্সে পা দিয়ে ঠেকিয়ে দেন পোর্টল্যান্ড গোলকিপার।
দুই মিনিট পরই সুয়ারেসের শট গোলবারে লেগে ঢুকে যায় ভেতরে। তবে অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ড ছিলেন অফসাইডে। এর তিন মিনিট পর মায়ামির ডিফেন্ডার ইয়ান ফ্রের প্রচেষ্টাও চমৎকারভাবে ফিরিয়ে দেন প্যান্টেমিস।
২৭তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে তেলাস্কো সেগোভিয়ার গড়ানো শট অল্পের জন্য বাইরে দিয়ে চলে যায়।
অবশেষে মায়ামির অপেক্ষার শেষ হয় ৩১তম মিনিটে। বক্সের ঠিক বাইরে মেসি বল দেন সুয়ারেসকে। তিনি প্রতিপক্ষের তিনজনের মাঝ দিয়ে বল বাড়ান বক্সে। সেখানে অপেক্ষায় থাকা সেগোভিয়া নান্দনিক ব্যাক হিলে খুঁজে নেন মেসিকে। তার ফিনিশিং তার জন্য ছিল একদমই সহজ।
৩৮তম মিনিটে মেসি পেয়েছিলেন আরেকটি সুবর্ণ সুযোগ। কিন্তু পোর্টল্যান্ড গোলকিপারের পাশ দিয়ে পাঠানো তার শট বাইরে চলে যায় অল্পের জন্য।
৪১তম মিনিটে ব্যবধান বাড়ায় মায়ামি। সেখানে গোলস্কোরার যদিও বের্তেরামে, কিন্তু সেটি আসলে ছিল মেসির জাদুর জাদুকরি ঝলক। বার্সেলোনায় তার সেরা দিনগুলিকে মনে করিয়ে দিতে বাধ্য তা।
সুয়ারেসের সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে বক্সে ঢুকে পড়েন মেসি। সেখানে তাকে ঘিরে ধরেন প্রতিপক্ষের চারজন। তাদের ভেতর দিয়েও ড্রিবল করে ঢুকে চোখধাঁধানো ছোঁয়ায় বল দেন বের্তেরামেকে। তার কাজ ছিল শুধু কাছ থেকে বল জাল পাঠানো।
৫৫তম মিনিটে সেগোভিয়ার শট বেশ ওপর দিয়ে চলে যায়। ৬৪তম মিনিটে মেসির শট অনায়াসে ধরে ফেলেন প্যান্টেমিস। পাঁচ মিনিট পর তার বাঁ পায়ের গতিময় শট চলে যায় পোস্টের বাইরে দিয়ে।
৯০তম মিনিটে ড্যানিয়েল পিন্টারের গোলা ঠেকিয়ে দেন পোর্টল্যান্ড গোলকিপার। ম্যাচের সেরা সেভটি করেন তিনি যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে। বক্সের একটু বাইরে থেকে মেসির মাপা ফ্রি কিক ঢুকে যাচ্ছিল জালে। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে লাফিয়ে শরীর বাঁকিয়ে হাত বাড়িয়ে বল বাইরে পাঠিয়ে দেন প্যান্টেমিস।
এই জয়ের পর ১৪ ম্যাচ ২৮ পয়েন্ট নিয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সের দ্বিতীয় স্থান ধরে রাখল মায়ামি। এক ম্যাচ কম খেলে দুই পয়েন্ট বেশি নিয়ে শীর্ষে ন্যাশভিল।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]