
বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক থেকে বিসিবির অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতির দায়িত্বে আসা তামিম ইকবাল দেশের ক্রিকেটকে নতুন ধারায় ফেরাতে এক বিস্তৃত পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন।
সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বর্জনের নেতিবাচক প্রভাব এবং ঘরোয়া ক্রিকেটের সংকট নিরসনে নিজের সুষ্পষ্ট অবস্থান ব্যক্ত করেন।
ভারতের সঙ্গে ক্রিকেটীয় সম্পর্কের টানাপোড়েন মেটানোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন তামিম। বিসিসিআই সভাপতি মিঠুন মানহাসের সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিসিসিআই সভাপতির সঙ্গে আমি প্রচুর ক্রিকেট খেলেছি, আইপিএলে আমরা একই দলে ছিলাম। আমাদের মধ্যে চমৎকার বোঝাপড়া রয়েছে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘বাংলাদেশে বর্তমানে চমৎকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে এবং ভারতীয় দলের জন্য এখানে কখনোই কোনো নিরাপত্তা হুমকি ছিল না।
আমি মনে করি না বিসিবি এবং বিসিসিআই-এর মধ্যে এখন আর কোনো প্রকৃত সমস্যা আছে। এখানে একটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজন হতে পারে আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ।’
গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে চরম ভুল হিসেবে দেখছেন তামিম। তিনি বলেন, ‘আগের বিসিবি প্রশাসন বিষয়টি যেভাবে সামলেছিল, তা সঠিক ছিল না। আইসিসি যথেষ্ট নমনীয় ছিল, সেখানে একটি সমাধান বের করার সুযোগ ছিল।’
গভীর আক্ষেপের সঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কোনো সঠিক আলোচনা ছাড়াই একটি বিশ্বকাপ ছেড়ে দিলাম। সেই স্কোয়াডে এমন অনেক খেলোয়াড় থাকতে পারে যারা হয়তো আর কখনোই বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে না।’
বিসিবির ব্যাংকে পড়ে থাকা ১৩০০ কোটি টাকা প্রসঙ্গে তামিম বলেন, এই অর্থ অলস ফেলে রাখার জন্য নয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘আমি চাই আমার খেলোয়াড়রা ভারত, পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে খেলুক। কিন্তু যদি আমি তাদের সেরা সুযোগ-সুবিধা না দিই, তবে তাদের কাছে ভালো ফল চাওয়া কি ঠিক হবে?’
তিনি স্পষ্ট জানান যে, আইসিসি বা স্পন্সররা টাকা অলস বসিয়ে রাখতে দেয় না, বরং এই অর্থ উন্নয়ন, অবকাঠামো এবং ক্রিকেটের প্রকৃত বিনিয়োগে ব্যয় করা উচিত।
ক্রিকেটকে কলঙ্কমুক্ত করতে বেটিং ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ১০ বছরের জেলের বিধান রেখে আইন করার প্রস্তাব দিয়েছেন তামিম। তিনি জানান, ‘আমি স্পিকার, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। বর্তমানে দুর্নীতিবাজরা জানে যে ধরা পড়লে বড়জোর একটি নিষেধাজ্ঞা আসবে। তাদের বুঝতে হবে যে ধরা পড়লে তাদের জেলে যেতে হবে।’
তামিম কথা বলেছেন বিসিবির বর্তমান অ্যাডহক কমিটি নিয়েও। আগের নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া এবং ঘরোয়া ক্রিকেটের স্থবিরতার কারণেই অ্যাডহক কমিটির প্রয়োজন ছিল বলে তামিম ব্যাখ্যা করেন।
তিনি জানান, ঢাকার লিগগুলোর অচলাবস্থার কারণে অনেক ক্রিকেটার মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন, কেউ রিকশা চালাচ্ছিলেন বা ফুচকা বিক্রি করছিলেন। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে তাকে ৯০ দিন সময় দেওয়া হলেও, তিনি আগামী ৬০ দিনের মধ্যেই স্বচ্ছ নির্বাচন সম্পন্ন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
পরিশেষে তামিম বলেন, ‘আমার মানসিকতা খুব পরিষ্কার ছিল, চলুন এটি করি। এটি হয় সফল হবে অথবা ব্যর্থ হবে। আমি সেই ব্যর্থতা মেনে নিতেও প্রস্তুত, কারণ অন্তত আমি মঙ্গলের জন্য চেষ্টা তো করছি।’
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]