সার সঙ্কটে বোরো ধান উৎপাদনে বাড়ছে খরচ
প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০২৬, ০২:০৪
সার সঙ্কটে বোরো ধান উৎপাদনে বাড়ছে খরচ
হাসানুজ্জামান হাসান (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

গত এক মাস আগে জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণ শেষ হয়েছে। রংপুর অঞ্চলের কৃষকরা এখন ব্যস্ত বোরো ধানের জমিতে সেচ দিতে, আগাছা নিড়ানি দিতে আর সার ছিটাতে। তবে গেল বছরের তুলনায় ধান উৎপাদনে খরচ বেড়েছে। কৃষকরা চাহিদামত সারের সরবরাহ পাচ্ছেন না। অনেকসময় তাদেরকে চাহিদামত সার পেতে সরকারের নির্ধারিত মুল্যের চেয়ে বেশি ব্যয় করতে হচ্ছে।


কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্র জানায়, চলতি মৌসুমে রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলা লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর, নীলফামারী ও গাইবান্ধায় বোরো ধান চাষ হয়েছে ৫ লাখ ৯ হাজার ৯৫ হেক্টর জমিতে। তন্মধ্যে হাইব্রিড ২,৩০,৩১৬ হেক্টর, উচ্চফলনশীল ২,৭৭,৭৫৩ হেক্টর এবং স্থানীয় জাত ১,০২৫ হেক্টর। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৪ লাখ ৩৬ হাজার টন ধান। গেল বছর বোরো ধান আবাদ হয়েছিল ৫ লাখ ৮ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে।


লালমনিরহাট সদর উপজেলার হারাটি ইউনিয়নের কৃষক জিতেন চন্দ্র জানান, তিনি এবছর ১২ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন। একমাস আগে জমিতে চারা রোপণ শেষ করেছেন। গেল বছর জমির পরিমান ছিলো ১১ বিঘা। গেল বছর এক বিঘা জমিতে ধান উৎপাদনে খরচ হয়েছিল ১৩-১৪ হাজার টাকা কিন্তু এবছর খরচ বৃদ্ধি পাবে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা। এবছর সেচের পানি খরচ ও সার-কীটনাশকে ব্যয় বেড়েছে। ‘আমরা সার ডিলারদের কাছে চাহিদামত সার সরবরাহ পাচ্ছি না। চাহিদামত সার যোগাতে আমাদের সরকারি নির্ধারিত মুল্যের চেয়ে বেশি ব্যয় করতে হচ্ছে। তবে আগের বছরগুলোতে সারের জন্য আমাদের কোন ভোগান্তি ছিলো না। এখন পযর্ন্ত আবহাওয়া অনুকুলে আছে। এরকম আবহাওয়া শেষ পযর্ন্ত থাকলে ধানের আশানুপুর ফলন পাবো। প্রতি বিঘা জমিতে ২২-২৩ মণ ধানের ফলন পাওয়ার আশা করছি।


আদিতমারী উপজেলার ভাদাই গ্রামের কৃষক মোজাম্মেল হক জানায়, এবছর বিঘা প্রতি সেচের পানির খরচ বেড়েছে ২০০ টাকা। গেল বছর এ খরচ ছিলো ১৭০০ থেকে ১৮০০ টাকা। সার ও কীটনাশক কিনতে বাড়তি খরচ লাগছে। বীজ, সার, কীটনাশক, পানি সেচ ও শ্রমিক খরচ হিসেবে প্রতি মণ ধান উৎপাদন করতে খরচ হয় ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকা। ‘আমি চলতি মৌসুমে ৮ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছি। এখন ধানের জমিতে পানি সেচ দিচ্ছি, সার ছিটাচ্ছি ও আগাছা নিড়ানি দিচ্ছি। আগামি কয়েকদিন পর কীটনাশক স্প্রে করতে হবে। ’আমরা সার ডিলারের কাছে চাহিদামত সারের সরবরাহ পাচ্ছি না। তবে বাড়তি দাম দিলে সার পাওয়া যাচ্ছে। বাড়তি দরে সার কেনার জন্য এবছর ধান উৎপাদনের খরচ আরো বাড়তে পারে,’ তিনি বলেন।


কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের সার ডিলার মঞ্জু মিয়া জানায়, তারা যে পরিমান সার সরবরাহ পাচ্ছেন তা সরকারি নির্ধারিত দরে কৃষকদের কাছে বিক্রি করছেন। তবে সরকারিভাবে চাহিদার তুলনায় কম সার সরবরাহ পাচ্ছেন। দেশের যেসকল অঞ্চলে বোরো ধানের চাষ কম হয় সেখান থেকে কিছু সার কিনে এনে কৃষকদের কাছে বিক্রি করতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কৃষকদের সরকারি নির্ধারিত দরের চেয়ে বেশি দরে সার কিনতে হচ্ছে।


লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাইখুল আরেফিন বলেন, সরকারিভাবে সার সরবরাহে কোন ঘাটতি নেই। তবে এ অঞ্চলে তামাকচাষের প্রবণতা থাকায় কিছুটা সার সঙ্কট দেখা দেয়। অসাধু সার ডিলাররা এটাকে পুঁজি করে বাড়তি দরে সার বিক্রি করেন। এ ব্যাপারে কৃষি বিভাগ স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করছে।


রংপুর অঞ্চল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম দাবি করেন, এ অঞ্চলে সারের কোন সঙ্কট নেই এ কারনে বোরো ধানের চাষ কোনভাবেই সার সঙ্কটের হুমকিতে পরবে না। এ বছর আবহাওয়ায় যতেষ্ট অনুকেুলে আছে এবং গেল বছরের তুলনায় ধানের ফলন বাম্পার হবে।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com