
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম হিলি স্থলবন্দরের স্থানীয় বাংলাহিলি বাজারে দীর্ঘ দিনের পুরনো কয়েকটি রেইনট্রি গাছের বড় বড় ডাল শুকিয়ে ঝুলে রয়েছে। যা এখন মৃত্যুর ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। বাজারের প্রধান সড়কের পাশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা এসব ডাল যেকোনো সময় ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা। দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে প্রাণহানির শঙ্কাও রয়েছে বলে জানান তারা।
প্রতিদিন হাজারো মানুষের ও যানবাহনের চলাচলের মধ্যে এই সড়ক দিয়ে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, নারী-শিশু, ক্রেতা-বিক্রেতাসহ সাধারণ মানুষ চলাচল করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা শুকনো ডালগুলো এখন বাজার জুড়ে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামান্য বাতাস উঠলেই ডালগুলো দুলতে থাকে, এতে যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে স্থানীয়দের আশঙ্কা।
বাংলাহিলি বাজারের ব্যবসায়ী মাহবুব হোসেন জানান , রেইনট্রি গাছের ডাল গুলো অনেক আগেই শুকিয়ে গেছে। যে কোন সময় বড় ধরনের বিপদ ঘটতে পারে। আমার কাছে মনে হয় শুকনো ডাল গুলো এখন মরণ ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ এই বাজারে মানুষের চলাচল বেশি। দ্রুত কাটার ব্যবস্থা না করলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
হিলি বাজারের দোকানি হুমায়ুন জানান, প্রতিদিন বাজারে আসা ক্রেতা, পথচারী, যানবাহন ও স্কুল গামী ছোট বড় শিক্ষার্থী সহ শত শত মানুষ এর নিচ দিয়ে চলাচল করে। শুকনো ডাল গুলো দ্রুত সময়ে কাটার ব্যবস্থা না করলে যে কোনো সময় দোকানের ওপরে বা রাস্তায় শুকনো ডাল পড়ে গেলে বড় ক্ষতি হতে পারে।
পথচারী মিজানুর রহমান জানান, প্রতি নিয়ত বাজারে চলাচল করতে হয়। পুরাতন গাছ গুলোতে শুকনো ডাল রয়েছে। কখন ভেঙে পড়ে কে জানে। আতঙ্ক নিয়েই আমাদের চলতে হয়।
বাংলাহিলি পাইলট স্কুল ও সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, জানি না কি কারণে এসব শুকনো গাছের ডাল কাটা হয় না। তবে আমরা প্রতি দিন আতঙ্ক নিয়ে ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে থাকি। কি করবো কোন উপায় নাই।
বাংলাহিলি বাজারের পল্লী চিকিৎসক (দন্ত) এহসান জানান, আজ থেকে ১০ বছর আগে অর্থাৎ ২০১৬ সালে একটি রেইনট্রি গাছের ডাল ভেঙে তার চেম্বারের ওপর পড়ে যায়। ওই ঘটনায় অল্পের জন্য তিনি প্রাণে রক্ষা পান। তবে সেই ঘটনার পরও বাজারের ঝুঁকিপূর্ণ শুকনো ডাল অপসারণে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে ওনি সহ স্থানীয়দের অভিযোগ।
বাংলাহিলি হাট ও বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আরমান আলী প্রধান জানান, বাজার এলাকায় মানুষের চলাচল বেশি হওয়ায় ডাল গুলো দ্রুত অপসারণ করা জরুরি। না হলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু আমরা চাইলে অপসারণ করা বা কাটতে পারি না। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর মাধ্যমে বন বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে এসব শুকনো গাছের ডাল কাটতে হবে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। জন নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
বিবার্তা/রববানী/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]