
কালবৈশাখী ঝড় ও ভারী বৃষ্টির মধ্যে বজ্রাঘাতে দেশের ৯ জেলায় বজ্রাঘাতে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে পটুয়াখালীতে চার জন, জামালপুরে দুজন, গাজীপুরে একজন, ময়মনসিংহে একজন, রংপুরে একজন, শরীয়তপুরে একজন, বরগুনায় একজন, রাজবাড়ীতে একজন ও বাগেরহাটে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
পটুয়াখালী: বজ্রাঘাতে এক নারীসহ চার জনের মৃত্যু হয়েছে। কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী উপজেলায় এ চার জনের মৃত্যু হয়। তারা সবাই কৃষিকাজে জড়িত। ঘটনার সময় খোলা মাঠে অবস্থান করেছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১টার দিকে কলাপাড়া উপজেলার তারিকাটা গ্রামে ভুট্টাক্ষেতে কাজ করার সময় জহির উদ্দিনের (২৮), দুপুর ২টার দিকে মাঠে গরুকে ঘাস খাওয়াতে যাওয়ার সময় পূর্ব চাকামাইয়া গ্রামের সেতারা বেগমের (৫৫), একই সময় মাঠ থেকে গরু নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে শান্তিপুর গ্রামের খালেক হাওলাদারের (৫৫) এবং সকাল ৯টার দিকে মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলার চরগঙ্গা গ্রামের সৌরভ মজুমদারের (২২) মৃত্যু হয়। রাঙ্গাবালী থানার ওসি মো. জসিম উদ্দিন ও কলাপাড়া থানার ওসি নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জামালপুর: ইসলামপুর উপজেলায় পৃথক স্থানে বজ্রাঘাতে শামীম মিয়া (৩৭) ও সাগর ইসলাম (১৮) নামে দুই জনের মৃত্যু হয়। দুপুরে উপজেলার গাইবান্ধা ও সাপধরী ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। শামীম মিয়া গাইবান্ধা ইউনিয়নের মরাকান্দি উত্তর বাড়ি গ্রামের মোহাম্মদ আলী মেম্বারের ছেলে। আর সাগর ইসলাম দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চিনিয়াপাড়া এলাকার স্বাধীনের ছেলে। শামীম মিয়া নদীতে মাছ ধরতে যান। এ সময় হঠাৎ বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রাঘাত শুরু হলে ঘটনাস্থলেই মারা যান। অপরদিকে উপজেলার সাপধরী ইউনিয়নের ইন্দুল্লামারী এলাকায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) আওতায় একটি পাকা সড়কের নির্মাণকাজে কয়েকজন শ্রমিক একসঙ্গে কাজ করা অবস্থায় বজ্রাঘাত শুরু হলে অন্যরা দ্রুত সরে এলেও সাগর ইসলাম কিছুটা পেছনে পড়ে যান। ঠিক তখনই বজ্রাঘাত হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। ইসলামপুর থানার ওসি আব্দুল কাইয়ুম গাজী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গাজীপুর: কালীগঞ্জে জাকির হোসেন খান (৩২) নামের এক যুবক বজ্রাঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন। সকালে উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের বরাইয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জাকির উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের বারাইয়া গ্রামের সুলতান খানের ছেলে। কালীগঞ্জ থানার ওসি জাকির হোসেন বিষয়টি জানান।
ময়মনসিংহ: তারাকান্দায় মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রাঘাতে এক যুবক মারা গেছেন। নিহত যুবকের নাম সাদ্দাম হোসেন (৩২)। তিনি তারকান্দা উপজেলার গালাগাঁও ইউনিয়নের গাবরগাতি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর ছেলে। বাড়ির অদূরে রাংসা নদীতে সকাল ৭টার দিকে মাছ ধরতে যান সাদ্দাম। বৃষ্টি ও বজ্রাঘাতের সময় ঘটনাস্থলেই মারা যান। তারাকান্দা থানার ওসি তানবীর আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রংপুর: তারাগঞ্জে বজ্রাঘাতে মারা গেছেন সাহেরা বেগম (৫০) নামের এক নারী। তার একটি গরু বাড়ির উঠানে আমগাছে বাঁধা ছিল। বেলা ১১টার দিকে বৃষ্টি শুরু হলে সেই গরু গোয়ালে নিতে বের হন। গরুটি আনতে গিয়ে বজ্রাপাতে মারা যান। সাহেরার বাড়ি তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের কাজীপাড়া গ্রামে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সয়ার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল-ইবাদত হোসেন।
শরীয়তপুর: নড়িয়া উপজেলায় বজ্রাঘাতে রাজিব শেখ (৩২) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার জপসা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজপাড়ায় তার বাড়ি। তিনি পেশায় জেলে ও কৃষক ছিলেন। জপসা ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য দুলাল মকদম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বরগুনা: আমতলীতে বজ্রাঘাতে নুর জামাল (৫৪) নামেন এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। তার বাড়ি উপজেলার পুজাখোলা গ্রামে। পেশায় কৃষক নুরুজামাল দুপুরে মাঠে বৃষ্টির পানিতে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলে মারা যান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বিষয়টি জানিয়েছেন।
রাজবাড়ী: সদর উপজেলায় বজ্রাঘাতে সুমন মণ্ডল (৩৪) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ সময় তার কোলে থাকা সাড়ে তিন বছরের মেয়ে ছিটকে পড়ে প্রাণে বেঁচে গেছে। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের মজ্জৎকোল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সুমন মণ্ডল সদর উপজেলার মজ্জৎকোল গ্রামের সিদ্দিক মন্ডলের ছেলে। তিনি আগে রাজবাড়ীর সাগর অ্যাগ্রো মিলে শ্রমিকের কাজ করতেন। সম্প্রতি চাকরি ছেড়ে বাড়িতে ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে আকাশে মেঘের ঘনঘটা ছিল। সুমন তার সাড়ে তিন বছর বয়সী মেয়ে সাফিয়াকে কোলে নিয়ে বাড়ির পাশের একটি মুদি দোকানের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে হঠাৎ বজ্রাঘাত হলে শিশুটি কোল থেকে ছিটকে দূরে পড়ে যায় এবং সুমন ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্বজনরা সুমনকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স রওশনয়ারা আক্তার জানান, সকাল ৭টার দিকে সুমনকে হাসপাতালে আনা হয়। তার সঙ্গে ওই শিশুকেও আনা হয়েছিল। সুমন মারা গেছেন। শিশুটিকে সুস্থ আছে।
বাগেরহাট: সদর উপজেলার সরকারডাঙ্গা গ্রামে বিকালে মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রাঘাতে রবিন হাওলাদার (৫৩) নামের এক দিনমজুর মারা গেছেন। তিনি ওই গ্রামের জগদীশ হাওলাদারের ছেলে। তার এক স্ত্রী ও দুই ছেলে রয়েছে। বাগেরহাট মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম বিষয়টি জানান।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]