বাংলাদেশের প্রথম ন্যানো সাটেলাইট ও প্রাসঙ্গিক কথা (পর্ব-৩)
প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০১৭, ১৭:০০
বাংলাদেশের প্রথম ন্যানো সাটেলাইট ও প্রাসঙ্গিক কথা (পর্ব-৩)
নাজির হোসেন
প্রিন্ট অ-অ+

সৌর জগতে একটি গ্রহ অন্য গ্রহকে প্রদক্ষিণ করে। যে গ্রহটি অন্য গ্রহকে প্রদক্ষিণ করে সেই গ্রহটিকে অপর গ্রহের উপগ্রহ বলে। যেমন : চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে তাই চাঁদ হচ্ছে পৃথিবীর উপগ্রহ। আবার পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে তাই পৃথিবী হচ্ছে সূর্যের উপগ্রহ।


কিন্ত বর্তমানে মানব তৈরি হাজার হাজার কৃত্রিম উপগ্রহ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে, সেই সব কৃত্রিম উপগ্রহকে স্যাটেলাইট বলা হয়। এসব কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট মানবজাতির সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছে। এজন্য এসব উপগ্রহ সর্ম্পকে ধারণা থাকা দরকার। তবে এ মূহুর্তে কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট আবিষ্কারের ইতিহাস সম্পর্কে একটু জেনে নেয়া ভালো।


স্যাটেলাইট এর ইতিহাস


স্যাটেলাইটের মাধমে যোগাযোগের বৈপ্লবিক পরির্বতনের কথা প্রথম চিন্তা করেন ব্রিটিশ বিজ্ঞানী, কথাসাহিত্যক, সাইন্সফিকশন লেখক (বিজ্ঞান কল্পকাহিনী) এবং উদ্ভাবক আর্থার সি ক্লার্ক (1917-2008)। তবে গ্রীক দার্শনিক সক্রেটিস ও বৈজ্ঞানিক আইজাক নিউটনের চিন্তায় স্যাটেলাইটের ধারণার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।


"মানুষ যে পৃথিবীতে বাস করছে তাকে পুরোপুরি বুঝতে হলে মানুষকে অবশ্যই ভূ-পৃষ্ঠের উর্ধ্বে বায়ুমন্ডল ও তার চেয়েও উঁচুতে উঠতে হবে" সক্রেটিস (প্রায় ৩৯৯ বিসি) ।


(Man must rise above Earth, to the top of the atmosphere and beyond, for only thus will he fully understand the world in which he lives” Socrates (circa 399 BC).


সক্রেটিস ওই সময় উপগ্রহ বা মহাকাশযান সম্পর্কে চিন্তা করেনি, তবে তাঁর চিন্তা বা মন্তব্যটি বর্তমান স্যাটেলাইট ধারণার সাথে সংগতি পূর্ণ।


আইজাক নিউটনের ক্যাননবল হাইপোথিসিসেও স্যাটেলাইট ধারণার ইঙ্গিত আছে (Famous cannonball hypothesis of Isaac Newton, 1729).


সে যাই হোক, ১৯৪৫ সালে আর্থার সি ক্লার্ক তাঁর লেখা ওয়্যারলেস ওয়াল্ড (Wireless World) গ্রন্থে মানুষ নির্মিত যোগাযোগ স্যাটেলাইটের বিস্তারিত তুলে ধরেন। এ ধরণের স্যাটেলাইট কিভাবে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করবে এবং টেলিভিশন প্রোগ্রাম সমূহ কিভাবে পৃথিবীর বিরাট এলাকা জুড়ে প্রেরণ করা যাবে সে সম্পর্কে সুস্পস্ট ধারণা প্রদান করেন। আর্থার সি ক্লার্ক এর কল্পনামূলক লেখার উপর ভিত্তি করে জন আর প্রিয়ার্স নামক এক ব্যক্তি যিনি ১৯৫৪ সালে আন্তরিকতার সাথে স্যাটেলাইটের টেকনিক্যাল ও ফিনান্সিয়্যাল বিষয়াবলীর মূল্যায়ন করেন। ১৯৫৪ সালের ৪ অক্টোবর রাশিয়া সর্ব প্রথম পৃথিবী প্রদক্ষিণকারী মানব নির্মিত স্পুটনিক-১ নামের স্যাটেলাইটি মহাকাশে উৎক্ষেপন করে। সুচনা হয় নতুন যুগের, আরম্ভ হয় মহাকাশ যাত্রা। শুরু হয় মহাকাশ নিয়ে গবেষণা এবং মানবজাতির সার্বিক উন্নয়নে স্যাটেলাইটের ব্যবহার নিয়ে মানুষের এগিয়ে যাওয়া।


হয়ত আর্থার সি ক্লার্কের কল্পনায় ছিল না স্যাটেলাইট মানব সভ্যতার উন্নতিতে কী অবদান রাখবে। বর্তমান পৃথিবী এক মূহূর্তও স্যাটেলাইট ছাড়া চলতে পারবে না। (চলবে)


লেখক : ডি জি এম, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমুনিকেশনস ডিপার্টমেন্ট, জনতা ব্যাংক লিমিটেড


ইমেইল : [email protected]


বিবার্তা/মৌসুমী


>>বাংলাদেশের প্রথম ন্যানো সাটেলাইট ও প্রাসঙ্গিক কথা (পর্ব-২)

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com