হঠাৎ খলিল (পর্ব- ৯)
প্রকাশ : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৬:৫৪
হঠাৎ খলিল  (পর্ব- ৯)
পলাশ মাহবুব
প্রিন্ট অ-অ+

পরপর দুদিন বৃষ্টিতে ভেজার ফল ভালো হলো না।খলিল এখন সেটা টের পাচ্ছে।তার গা ভর্তি জ্বর আর গলাভর্তি কাশি।

 

আগে কাশলে গায়ে লাগত না। এখন মনে হয় গলা ছিঁড়ে যাবে। তবে ব্যাপারটা সে অন্যদের বুঝতে দিচ্ছে না। বুঝতে দিয়ে লাভও নেই।

 

খলিলের অসুস্থতার সংবাদে কলিগদের মধ্যে খুব একটা প্রতিক্রিয়া এখন আর হয় না। শুনতে শুনতে সহনীয় হয়ে গেছে সবার। এসব সংবাদে তাদের প্রতিক্রিয়া ‘ও আচ্ছা’য় সীমাবদ্ধ। এক কলিগ হয়তো আরেক কলিগকে বললো,

জানেন, খলিল না অসুস্থ।

 

ও পাশ থেকে উত্তর আসবে, ও আচ্ছা।

 

খুব জ্বর।

 

ও, আচ্ছা!

 

ডেস্ক থেকে উঠে এসে ক্যান্টিনে বসেছে খলিল।মাথা তুলে রাখতে পারছে না। টেবিলে মাথা রেখে ঝিম মেরে আছে সে। পাশেই চা বানাচ্ছে ইদ্রিস।

 

ম্যানেজার স্যারের চায়ের অর্ডার। তার রুমে কাউছার সাহেবও আছেন। ইদ্রিস কাউছার সাহেবের ঝাড়ি খেয়ে এসেছে।

 

এজন্য তার মেজাজ খারাপ।

 

এই লোকটার কোনও কাইজ-কাম নাই। পকেটের মধ্যে খালি মাইনসের দোষ নিয়া ঘোরে। একটা না একটা দোষ বাইর করবোই। লেবু থিকা যদি রস না বাইর হয় তাইলে লেবুরে জিগান। আশয়-বিষয় লেবু ভালো জানে। তা না। দোষ হবে ইদ্রিসের।

 

আবার লেবু যদি চায়ের ওপর ভাইসা থাকে সেই দোষও পড়বে এই ইদ্রিসের কান্ধে। আইচ্ছা, ভাসা-ডোবা লেবুর ইচ্ছা-অনিচ্ছা! নাকি আমি লেবুর লগে বেলুন বাইন্ধা দিছি ভাসনের লাইগ্যা? গরিব মাইনষের সবকিছুতেই দোষ।

 

পিস পিস করে লেবু কাটে ইদ্রিস।কাটছে লেবু, কিন্তু শব্দ করছে গাছ কাটার। গরিব মানুষ এটুকুই পারে। তাদের ক্ষোভ বেশির ভাগ সময় জড়বস্তুর ওপর ঝাড়ে।

 

সর্বশক্তি দিয়ে কাটা লেবুতে চাপ দেয় ইদ্রিস। লেবু থেকে রস বের হয় না।

এই যে লেবুর মইধ্যে রসের নাম-গন্ধও নাই। এইবার নিয়া গেলে কইবো, কি লেবু চা বানিয়েছো? লেবুর গন্ধও তো পাচ্ছি না। আমি কই যাই!

 

চা নিয়ে যাওয়ার সময় খলিলের দিকে চোখ পড়ে ইদ্রিসের।

 

আরে খলিল ভাই। কি হইছে আফনের?

খলিল মাথা তুলবে।কষ্ট হলেও একটা হাসি দেবে, নতুন কিছু না।

 

কি কন কিছু না! আফনের চক্ষু তো জবা ফুল হইয়া গেছে।

 

হুমম। জ্বরটা একটু বাড়ছে।

 

খাড়ান, আফনেরে কড়া কইরা একটা চা খাওয়াই।

 

খলিলের জন্য চা বানিয়ে আনবে ইদ্রিস। খুব বেশি ভালো হয় নাই। লেবুর মইধ্যে রসের নাম-গন্ধ বলতে নাই।

 

চায়ে চুমুক দেবে খলিল, বাহ! অনেক ভালো চা বানাইছো। শোনো ইদ্রিস, তোমারে একটা কথা বলি, লেবুর রসটা গুরুত্বপূর্ণ না। তুমি যে অন্তরের রস দিয়া চা টা বানাইছো, এইজন্যেই ভালো হইছে। অন্তরের রস আসল রস।

 

আফনে বেশি কথা কইয়েন না খলিল ভাই। চা ডা খাইয়া চুপ কইরা শুইয়া থাকেন। আমি যাই। গরু স্যার চায়ের অপেক্ষায় আছেন। গরু ছুটলে খবর আছে।

 

ইদ্রিস যাওয়ার পরপরই ক্যান্টিনে ঢোকে নুপূর। খলিলকে দেখে তার কাছে যায়।

 

কি ব্যাপার খলিল ভাই, এখানে এভাবে বসে আছেন কেন?

 

কেন, বসায় কোনও ভুল হইছে? অফিসে কি বসারও নিয়ম-কানুন আছে নাকি?

 

খলিল হাসে। নুপূর মেয়েটার সাথে সে কখনো সিরিয়াস কথা বলতে পারে না।

 

একি! আপনার চোখ তো পুরো লাল হয়ে গেছে!

 

হুমম। ইদ্রিস বললো রক্তজবা। কিন্তু রক্তজবা হলে তো লাভ নাই। জবার বদলে গোলাপ হলে আপনাকে দিতে পারতাম।

 

দেখি তো।

 

খলিলের কপালে হাত দিয়ে জ্বর বোঝার চেষ্টা করে নুপূর, আপনার গায়ে তো অসম্ভব জ্বর। এই জ্বর নিয়ে আপনি অফিসে বসে আছেন, হাসি-তামাশা করছেন!

 

আজকে বেশি হাসতে পারতেছি না। মাথা ভার হয়ে আছে। মাথার ওজন হইছে গরু স্যারের ভুড়ির ওজনের সমান। হা হা হা।

 

খলিলের হাসি এক পর্যায়ে কাশিতে পরিণত হয়। কাশতে কষ্ট হচ্ছে তার।

 

এত জ্বর কিভাবে বাঁধালেন?

 

রোগ তো পুরান। তার উপর পরপর দুইদিন বৃষ্টিতে ভিজছি। তাই শরীরের ভোল্টেজ বাইড়া গেছে। জ্বর আসলে বেশি না। জ্বর আসবে যাবে, কিন্তু চাকরি গেলে পাইতে খবর আছে।

 

তাই বলে এরকম শরীর নিয়ে আপনাকে অফিস করতে হবে? আমি যাচ্ছি স্যারের কাছে . . .

 

ওই কাম ভুলেও কইরেন না। তাইলে চাকরি আজকেই যাবে। স্যার মনে করবে আমি বগলে রসুন দিয়া শরীরের ভোল্টেজ বাড়াইছি। পারলে একটা কাজ করেন, আমার টেবিলে ওষুধ আছে। কাউরে দিয়া একটু আনানোর ব্যবস্থা করেন।

 

আচ্ছা খলিল ভাই, এই যে আপনি নিজে নিজে ডাক্তারি করে ওষুধ খান, এটা কি ঠিক? বলেন! প্লিজ, একজন ডাক্তারের কাছে যান।

আমি ডাক্তারি করি না তো। আমার রুমমেট মনির হচ্ছে অশিক্ষিত ডাক্তার। সব রোগেই ঘুমের ওষুধ দেয়। মনে করে ঘুম পাড়াইতে পারলেই সব রোগ পানি।

 

ধুর। একটু সিরিয়াস হন তো আপনি।

খলিলের কথায় বিরক্ত হয় নুপূর, আপনার এই সমস্যা তো একদিনের না। পণ্ডিতি না করে আজকে অফিস থেকে সোজা ডাক্তারের কাছে যাবেন। আজকেই। (চলবে)

 

বিবার্তা/মৌসুমী/হুমায়ুন

 

হঠাৎ খলিল (পর্ব-৮)

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com