ব্যয় বেড়েছে তিনগুণের বেশি
১৫ বছরেও শেষ হয়নি প্রকল্পটি
প্রকাশ : ২৫ মে ২০১৬, ১২:৪৬
১৫ বছরেও শেষ হয়নি প্রকল্পটি
মৌসুমী ইসলাম
প্রিন্ট অ-অ+

সিলেট শহরে সুরমা নদীর উপর নির্মিত কাজিরবাজারে পিসি গার্ডার সেতুটিতে কয়েক মাস আগে শুরু হয়েছে যানবাহন চলাচল। তবে, ২০০১ সালে শুরু হওয়া ‘পিসি গার্ডার সেতু ও আম্বরখানা বাইপাস সড়ক নির্মাণ’ প্রকল্পে বার বার ঠিকাদার পরিবর্তন ও ভূমি অধিগ্রহণে স্বমন্বয়হীনতার কারণে ১৫ বছর কেটে গেলেও এখনও শেষ হয়নি এই প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ কাজ।
৫৫ কোটি টাকা ব্যয় নির্দিষ্ট করে নির্মাণ কাজ শুরু হলেও দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে খরচ বেড়ে পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮৯ কোটি টাকা। আর চার দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে নির্মাণ কাজে অগ্রগতি হয়েছে ৭১ দশমিক ২৪ শতাংশ। অন্যদিকে প্রকল্প পরিচালক পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে একাধিকবার। কাজ শেষ না হওয়ায় চতুর্থবারের মতো আবারও চলতি বছরের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে হরহামেশাই মিলবে এমন উদাহরণ। নানা উদ্যোগ নেয়ার পরও থমকে যাচ্ছে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপি। প্রকল্প পরিচালক বা পিডি পরিবর্তন আর বাড়তি বরাদ্দ দিয়েও সময়মত উন্নয়ন কাজ শেষ করা যাচ্ছে না।
চলতি অর্থবছরের দশ মাসে বাস্তবায়ন হয়েছে এডিপির মাত্র ৫১ দশমিক ৩৪ শতাংশ। গত চার বছরের মধ্যে এ হার সর্বনিম্ন।
আইএমইডির প্রতিবেদন বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে ২৫ ভাগ কাজ শেষ করতে পারেনি আটটি মন্ত্রণালয়। চলতি বাজেটে উন্নয়ন পরিকল্পনায় গতি সঞ্চারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। কিন্তু প্রত্যাশা আর বাস্তবতায় অনেক ফারাক। উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন চলছে পুরোনো ঢিমেতালে।
তবে উন্নয়ন কর্মসূচি নিয়ে এবার নড়েচড়ে বসেছে সরকার। নতুন বাজেটে আসছে এক লাখ ১০ হাজার কোটি টাকার এডিপি। সর্বোচ্চ বরাদ্দ পরিবহন ও শিক্ষাখাতে। কাজ শুরু হবে একাধিক নতুন মেগা প্রকল্পের। প্রকল্প পরিচালকদের নিয়োগ নিয়ে থাকবে নতুন নির্দেশ।
এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য শামসুল আলম বলেন, ‘বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূজি বাস্তবায়নে বেশ কিছু নীতিগত পরিবর্তনের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই আলোকেই কাজ শুরু হয়েছে। ঘন ঘন যাতে প্রকল্প পরিচালক পরিবর্তন না হয় সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হবে। পাশাপাশি একজন পিডি যাতে একটি প্রকল্প নিয়ে কাজ করেন সেদিকেও জোর দেয়া হচ্ছে। সার্বিকভাবে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ব্যাপক পরিবর্তন আনার জন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হবে।’
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, যথাসময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলে অনেক টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করতে হয়। অনেক সময় একসঙ্গে অনেক প্রকল্প নেয়া হলেও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ছাড় না হওয়ায় অর্থ সংকটের কারণে যথাসময়ে এগুলোর বাস্তবায়ন সম্ভব হয় না। আবার কোনো কোনো প্রকল্পে সময় কম হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে শেষ করা যায় না। বিগত বছরগুলোতে অধিকাংশ প্রকল্প কয়েক দফা সময় বাড়িযেও কাজ শেষ করা হয়নি। আবার অনেক ক্ষেত্রে বেশ কিছু কাজ অসমাপ্ত রেখে প্রকল্প সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। এতে ওইসব প্রকল্প গ্রহণের উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে।
বিবার্তা/ মৌসুমী/জিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com