
রাজধানীর হাজারীবাগে ছুরিকাঘাতে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে ভাইয়ের সঙ্গে হাঁটতে বের হয়ে হামলার শিকার হন শাহরিয়ার শারমিন বিন্তি। একই স্কুলের আরেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এ হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় নিহতের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া, আর অভিযুক্তকে ধরতে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এক তরুণের সঙ্গে হেঁটে যাচ্ছিল বিন্তি। প্রথমে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও কিছুক্ষণ পরই পরিস্থিতি বদলে যায়। আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, রক্তমাখা ছুরি হাত দিয়ে মুছছে সেই তরুণ। একই সঙ্গে শোনা যায় এক কিশোরীর আর্তচিৎকার।
ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করে পাশের বাসার এক নারীর গায়ে ঢলে পড়েন বিন্তি। শেষ শক্তি দিয়ে হামলাকারীর নাম বলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। ওই নারী জানান, বিন্তিকে জড়িয়ে ধরলে সে বলে; সিয়াম ছুরি দিয়ে আঘাত করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আশেপাশে অনেক মানুষ থাকলেও কেউই এগিয়ে এসে মেয়েটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেনি।
পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত বিন্তির বাবার অভিযোগ, একই স্কুলের এক শিক্ষার্থী তাকে দীর্ঘদিন ধরে বিরক্ত করে আসছিল। তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
নিহত বিন্তির মা নাদিয়া বেগম বলেন, রাত ৮টার দিকে বিন্তি ও তার ভাই নাবিল একসঙ্গে বাসার বাইরে যায়। নাবিল বাজার থেকে তরকারি কিনে বোনের হাতে দিয়ে বাসার নিচে এগিয়ে দেয় এবং নিজে মসজিদে চলে যায়। এর কিছুক্ষণ পর হঠাৎ হইচই শুনে নিচে নেমে দেখি বিন্তিকে ঘিরে অনেক মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। স্থানীয় লোকজনের কাছে রক্তাক্ত অবস্থায় বিন্তি নিজেই জানিয়েছে, সিয়াম নামে এক যুবক তাকে কুপিয়েছে।
বিন্তির মা আরও বলেন, তিন-চার বছর আগে থেকে সিয়াম মোবাইলে আমার মেয়েকে ডিস্টার্ব করত। একদিন আমি নিজেই তাকে মোবাইলে বকাবকি করি। আজকে আমার মেয়েকে কুপিয়ে মেরে ফেলেছে। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই। খুনি সিয়ামের ফাঁসি চাই।
এদিকে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতের কাঁধ ও পিঠে একাধিক জখমের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে হাজারীবাগ থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মাসুদ আলম জানান, কিছু সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে। কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে আগে থেকে সঙ্গে আনা ছুরি দিয়ে মেয়েটিকে আঘাত করে অভিযুক্ত। এটি পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আশেপাশে অনেক লোকজন থাকলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। অপরাধীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
নিহত বিন্তি হাজারীবাগের হায়দার আলী হোটেলের পাশে ভাড়া বাসায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। তিনি রায়েরবাজার হাই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]