
সিলেটে অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি সেবার সক্ষমতা বাড়াতে সিলেট সদর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের নির্মাণকাজ আগামী ১৫ মাসের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি। একই সঙ্গে সিলেটকে দেশের অন্যতম প্রধান সবজি উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্রে পরিণত করতে কৃষির আধুনিকায়ন, উন্নত সংরক্ষণব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে কৃষিপণ্য রপ্তানির সুযোগ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সিলেটে পৃথক দুটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সিলেটের ক্রমবর্ধমান নগরায়ণ ও জনসংখ্যার চাপে অগ্নিনিরাপত্তা এবং জরুরি সেবার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। এ প্রকল্পের সঙ্গে একটি বিস্তৃত জনপদের নিরাপত্তা জড়িত। তাই নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার পাশাপাশি সেবার মান ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নাগরিক সেবার মান উন্নত করা সময়ের দাবি। সিলেটের সঙ্গে দেশের বাইরের বহু মানুষের নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। দ্রুত নগরায়ণ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির বাস্তবতায় এ অঞ্চলে অগ্নিনিরাপত্তাসহ জরুরি নাগরিক সেবাকে আরও আধুনিক, কার্যকর ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করা প্রয়োজন।
ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ বাহিনীর সদস্যরা শ্রম, নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করেন। বিপদের সময় তাঁদের নিরলস প্রচেষ্টায় সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা ও স্বস্তি পায়। জননিরাপত্তায় তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার যথাযথ মূল্যায়ন প্রয়োজন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, জরুরি সেবার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে হবে। সেবাগ্রহীতারা যাতে সহজে কাঙ্ক্ষিত সেবা পান এবং অনিয়মের সুযোগ বন্ধ হয়, সে বিষয়ে সরকার কাজ করছে। সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা গেলে সেবার মান ও জনআস্থা আরও বাড়বে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক লে. কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী ওয়াসিফ আহমদ।
এ সময় সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালক বদরুজ্জামান সেলিম, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, ফায়ার সার্ভিসের সদস্য এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সিলেট সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিলেট সদরের উদ্যোগে ‘ফ্লাড রিকনস্ট্রাকশন ইমার্জেন্সি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রজেক্ট’-এর আওতায় ভর্তুকিমূল্যে কৃষিযন্ত্র (ট্রাক্টর) ও বিনামূল্যে এলএলপি বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, কৃষির আধুনিকায়ন, বছরজুড়ে পরিকল্পিত সবজি উৎপাদন, উন্নত সংরক্ষণব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে সিলেটকে দেশের অন্যতম প্রধান সবজি উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্রে পরিণত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি, সেচ ও জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসন এবং সিলেট বিমানবন্দর এলাকায় আধুনিক প্যাকেজিং হাউস ও কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, সিলেটের কৃষিকে আরও আধুনিক, উৎপাদনমুখী ও লাভজনক করে তুলতে সরকার কাজ করছে। পরিকল্পিতভাবে সবজি উৎপাদন, আধুনিক প্যাকেজিং ও সংরক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী কৃষিপণ্য উৎপাদন করা গেলে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালিসহ বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসীদের কাছে সিলেটের শাকসবজি পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সিলেট সদর উপজেলার প্রতিটি কৃষিজমি সারা বছর চাষাবাদের আওতায় নিয়ে আসা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। কোথাও পানির অভাবে, আবার কোথাও জলাবদ্ধতার কারণে কৃষিজমি অনাবাদি পড়ে থাকে। এসব সমস্যা সমাধানে খাল খননসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে সেচের পানির প্রাপ্যতা বাড়বে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং আরও বেশি জমি চাষাবাদের উপযোগী হবে।
কৃষিতে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এবং শারীরিক শ্রম ও উৎপাদন ব্যয় কমাতে আধুনিক কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। ভর্তুকিমূল্যে বিতরণ করা কৃষিযন্ত্রের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারি সহায়তায় পাওয়া যন্ত্রপাতি কৃষিকাজেই ব্যবহার করতে হবে। সরকারি ভর্তুকির অপব্যবহার রোধে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সিলেটের কৃষিপণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা তুলে ধরে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের জন্য শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না; কৃষিপণ্যের মান বজায় রাখা, যথাযথ প্যাকেজিং, সংরক্ষণ এবং সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়নও জরুরি। এ লক্ষ্যে সিলেট বিমানবন্দর এলাকায় প্যাকেজিং হাউস ও কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে সিলেটের কোন অঞ্চলে কোন মৌসুমে কোন ধরনের সবজি ভালো উৎপাদিত হয়, তা চিহ্নিত করে উৎপাদন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে। মৌসুমভিত্তিক পরিকল্পিত উৎপাদনের মাধ্যমে সারা বছর বাজারে সবজির সরবরাহ বজায় রাখার পাশাপাশি রপ্তানির পরিমাণও বাড়ানো সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
কৃষিযন্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াৎ, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন এবং সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব সিদ্দিকুর রহমান পাপলু। এ সময় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে মন্ত্রী সিলেট সদর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে পানি বিশুদ্ধকরণ ফিল্টার (বৈদ্যুতিক/আরও) বিতরণ করেন।
বিবার্তা/জাহিদুল/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]