
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় শসার বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল পরিবেশ ও পরিচর্যার ফলে শসার ভালো উৎপাদন হওয়ায় খুশি স্থানীয় কৃষকেরা। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় তাঁদের মুখে হাসি ফুটেছে। তবে সার নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটছে না চাষিদের। সময়মতো প্রয়োজনীয় সার পাওয়া এবং উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন তাঁরা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শসা চাষ করে লাভের আশা করছেন কৃষকেরা। শসা একটি স্বল্পমেয়াদি সবজি হওয়ায় অল্প সময়ে ফলন পাওয়া যায়। ফলে অনেক কৃষকই নিজেদের জমিতে শসা চাষে আগ্রহী হয়েছেন। জমিতে শসার গাছভর্তি ফল দেখে তাঁদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে।
কৃষকেরা জানান, শসা চাষে জমি প্রস্তুত করা, বীজ কেনা, সার প্রয়োগ, সেচ ও পরিচর্যাসহ বিভিন্ন খাতে খরচ করতে হয়। ফলন ভালো হলে এবং বাজারে ন্যায্য দাম পাওয়া গেলে এসব খরচ বাদ দিয়ে লাভের মুখ দেখা সম্ভব। বর্তমানে ভালো ফলন ও বাজারদর তাঁদের স্বস্তি দিলেও সার নিয়ে অনিশ্চয়তা তাঁদের ভাবিয়ে তুলছে।
চাষিদের মতে, শসা গাছের সঠিক বৃদ্ধি ও ফলন ধরে রাখতে নির্দিষ্ট সময়ে প্রয়োজনীয় সার প্রয়োগ করা জরুরি। সময়মতো সার না পেলে গাছের বৃদ্ধি ও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে কৃষকেরা সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং কৃষি উপকরণের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
কৃষকদের প্রত্যাশা, শসার বর্তমান বাজারদর বজায় থাকলে তাঁরা উৎপাদন খরচ পুষিয়ে ভালো মুনাফা অর্জন করতে পারবেন। পাশাপাশি কৃষি বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সার সরবরাহের বিষয়টি নজরদারিতে রাখলে চাষিরা আরও স্বস্তিতে উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবেন।
এদিকে, শসার বাম্পার ফলনের এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ, কৃষি উপকরণ সরবরাহ এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে একদিকে কৃষকেরা লাভবান হবেন, অন্যদিকে স্থানীয় সবজির বাজারেও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করবে।
শসা চাষি চর বাহাদুরাবাদ গ্রামের বদিউজ্জামাল জানান, শসার বাম্পার ফলন হয়েছে তবে সারের দাম বেশি হওয়ায় খরচ বেশি লোকসান হবে না তবে লাভ হবে।
আরেক চাষি আল আমিন জানান, প্রতি বছর আমি শসার আবাদ করি এবছর শসার আবাদ বাম্পার ফলন হয়েছে দামও ভালো লাভবান হব কিন্তু সার নিয়ে ভোগান্তি সার ঠিকমতো পাই নাই, কীটনাশক এর দাম বেশি খরচ বেশি হয়েছে ।
ঝালোরচর বাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় শসা মণ প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১২শ থেকে ১৪শ টাকা যা দাম পেয়ে খুশি কৃষক এবং এবছর শসার বাম্পার ফলন হয়েছে । দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রতন মিয়া জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় শসার ফলন আশানুরূপ হয়েছে। আমরা কৃষকের পাশে থেকে পরামর্শ দিয়ে আসছি। সারের কোন সংকট নেই , চাহিদা মত কৃষক সার পাচ্ছে বলে জানান তিনি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শসার উৎপাদন ভালো হলেও বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, পরিবহন ব্যয় ও মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কৃষকের লাভের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই কৃষকদের উৎপাদিত শসার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে বাজার তদারকি, কৃষক ও ক্রেতার মধ্যে সরাসরি বিক্রির সুযোগ এবং কার্যকর বিপণনব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
কৃষকদের প্রত্যাশা, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। এতে বাম্পার ফলনের সুফল কৃষকের ঘরে পৌঁছাবে এবং আগামী মৌসুমেও শসা চাষে আগ্রহ ধরে রাখা সম্ভব হবে। এবং সার কীটনাশকের দাম কমিয়ে যাতে কৃষক সহজে সার পায় সেই আশায় কৃষক।
বিবার্তা/রফিকুল/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]