সারের দাবিতে লালমনিরহাট- বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ
ডিলারের বিরুদ্ধে কালোবাজারির অভিযোগ
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:১১
সারের দাবিতে লালমনিরহাট- বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ
লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রিন্ট অঅ-অ+

সারের দাবিতে লালমনিরহাট- বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। এ সময় সার ডিলারের বিরুদ্ধে কালোবাজারে সার বিক্রি ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে সার বিতরণের অভিযোগ তোলেন তাঁরা। প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন কৃষকরা। এতে মহাসড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। পরে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের আশ্বাসে কৃষকরা অবরোধ তুলে নেন।


মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের পারুলিয়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।


কৃষকদের অভিযোগ, চর অঞ্চলে সাধারণত আগাম ভুট্টা বীজ রোপণ করতে হয়। কিন্তু সারের ডিলাররা সার দেওয়ার কথা বলে কৃষকদের দিনের পর দিন ঘোরাচ্ছেন এবং নানা টালবাহানা করছেন। কৃষকদের আরও অভিযোগ, কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে ডিলাররা নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছে সার বিক্রি না করে তা কালোবাজারে চড়া দামে বিক্রি করছেন। ফলে কৃষকরা যেমন ন্যায্যমূল্যে সার পাচ্ছেন না, তেমনি ক্ষুব্ধ কৃষকদের প্রশ্ন যদি সত্যিই সারের সংকট থেকে থাকে, তবে কীভাবে খোলা বাজারে চড়া দামে সার পাওয়া যাচ্ছে? ডিলারের লোকজন একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে গভীর রাতে নিজেদের পছন্দের লোকজনকে ১০-১২ বস্তা করে সার দিচ্ছেন। অথচ সাধারণ কৃষকরা দিনের পর দিন ঘুরেও প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মহাসড়ক অবরোধ করতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা।


খবর পেয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপ জন মিত্র এবং কৃষি বিভাগের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এ সময় তারা বিক্ষুব্ধ কৃষকদের তাৎক্ষণিকভাবে সার দেওয়ার জোরালো প্রতিশ্রুতি দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং কৃষকরা অবরোধ তুলে নেন।


কৃষক একরামুল বলেন, “যে সময়ে সারের প্রয়োজন, সেই সময়ে যদি সার না পাই, তাহলে কৃষক ও তাঁদের পরিবার কীভাবে বাঁচবে? প্রয়োজনে খোলাবাজারে ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেশি দিয়েও সার কিনতে রাজি আছি। তবুও যেন সঠিকভাবে চাষাবাদ করতে পারি। দীর্ঘদিন ঘুরেও সার না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে বাধ্য হয়ে আমরা মহাসড়কে নেমে অবরোধ করেছি।”


চরাঞ্চলের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক মমিনুর ইসলাম বলেন, “ডিলারের মাধ্যমে সার বিতরণ বন্ধ করে খোলাবাজারে সার সরবরাহ চাই। সার বিতরণে অনিয়ম বন্ধ করে প্রকৃত কৃষকদের কাছে ন্যায্যমূল্যে সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি কালোবাজারে সার বিক্রির অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”


স্থানীয় কৃষক আজিজুল ইসলাম বলেন, “ভুট্টার আগাম চাষের মৌসুমে সময়মতো সার না পেলে কীভাবে চাষাবাদ করব? সার ছাড়া জমিতে ঠিকমতো আবাদ করা যায় না। সময়মতো সার দিতে না পারলে ফসল লাল হয়ে যায়, ফলনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমাদের সারা বছর সংসার চলে ভুট্টা চাষের আয়ের ওপর। এই ফসলের ওপর নির্ভর করেই পরিবারের ভরণপোষণ করতে হয়। তাই সময়মতো সার সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।”


এ বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তা হারুন-অর রশিদ বলেন, “সার বিতরণের জন্য আমাদের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তবে বিতরণ সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় দিতে হবে। প্রয়োজনে আমরা আগামী মাসের বরাদ্দের সার দিতে পারব। বর্তমানে ছয়টি ওয়ার্ডে সার বিতরণ করা হচ্ছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে সার বিতরণ শেষ হবে। কালোবাজারে সার বিক্রির কোনো সুযোগ নেই।”


হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপন মিত্র বলেন, ‎কৃষক ভাইদের আমরা অনুরোধ জানিয়েছি যে আপনারা ধৈর্য ধারণ করবেন, আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ সার আছে। সার কার্ড যে কৃষক ভাইদের কাছে আছে, তারা সবাই সার পাবেন। এবিষয়ে আপনাদের দুশ্চিন্তা করার কোন কারণ নেই। ওনারা আমাদের কথা গুলো শুনেছেন, কার্ডগুলো আমাদের দিয়েছেন। পরবর্তীতে আমরা কার্ডের মাধ্যমে সার বিতরণের চেষ্টা করবো।


বিবার্তা/হাসানুজ্জামান/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com