শিশু নন্দিনী রানী হত্যা: বিশ্বাসের নির্মম বলি শিশু নন্দিনী
প্রকাশ : ২০ জুন ২০২৬, ০০:৪৬
শিশু নন্দিনী রানী হত্যা: বিশ্বাসের নির্মম বলি শিশু নন্দিনী
লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় ৭ বছরের অবুজ শিশু নন্দিনী রানীকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় বেরিয়ে এসেছে গা শিউরে ওঠা তথ্য। ভালোবেসে ঘরে ডেকে বিস্কুট খাইয়ে শেষ পর্যন্ত নিজের হাতে গলা টিপে শিশুটিকে হত্যা করেছে প্রতিবেশী পাষণ্ড বিধান চন্দ্র। শুধু তাই নয়, নিজের পাপ আড়াল করতে লাশ বস্তাবন্দি করে সেটিকে ‘মৃত ছাগল’ বলে প্রচার করে দিনের আলোতেই ভুট্টা খেতে মাটিচাপা দেয় সে। আদালতে ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বিধান নিজেই এই হাড়হিম করা ঘটনার বিবরণ দিয়েছে।


গত সোমবার বিকেলে বাড়ির উঠান থেকে নিখোঁজ হয় প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির শিক্ষার্থী নন্দিনী। পরদিন মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টা ক্ষেত থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় তার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই খবরে এলাকায় শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। উত্তেজিত জনতা সন্দেহভাজন ঘাতক বিধানের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে এবং তাকে ও তার বাবা রণজিৎ কুমারকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে।


পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, বিক্ষুব্ধ জনতা ঘাতককে ছিনিয়ে নিতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও বিজিবি অধিনায়কসহ প্রশাসনের বিশাল বহরকে প্রায় তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। এ সময় পুলিশের ওপর দফায় দফায় হামলা চালায় জনতা, যাতে এসপি ও ওসিসহ প্রায় ৪০ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়তে বাধ্য হয়।


আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বিধান জানায়, এক বছর আগে তার মাকে নিয়ে সামাজিক ও পারিবারিক বিরোধের জেরে নন্দিনীর বাবার ওপর তার তীব্র প্রতিহিংসা ছিল। গত সোমবার বিকেলে মোবাইলে টিকটক দেখানোর কথা বলে নন্দিনীকে ঘরে ডেকে নেয় বিধান। শিশুটি বিস্কুট খেতে চাইলে তাকে বিস্কুট খাইয়েই গলায় গামছা পেঁচিয়ে ও হাত দিয়ে গলা টিপে হত্যা করে সে। লাশটি সরিয়ে নেওয়ার সময় প্রতিবেশীরা বাধা দিলে সে সেটিকে ‘মারা যাওয়া ছাগল’ বলে মিথ্যা দাবি করে ভুট্টা খেতে নিয়ে মাটিচাপা দেয়। তবে নন্দিনীর পরিবারের দাবি, মূলত কানের সোনার দুল ছিনতাই করতেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।


এই ঘটনায় নিহতের বাবা নলিনী মোহন বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছেন। অন্যদিকে পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা প্রায় ৩ হাজার জনের বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা করেছে পুলিশ ও প্রশাসন। বিশাল সংখ্যক অজ্ঞাত আসামি থাকায় পুরো গ্রাম এখন পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে, বিরাজ করছে চরম গ্রেপ্তার আতঙ্ক।


বৃহস্পতিবার দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে যান দুর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি দ্রুততম সময়ে ঘাতকের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন। লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, সর্বোচ্চ ৭ দিনের মধ্যে এই মামলার চার্জশিট দাখিল করার চেষ্টা চলছে। ফরেনসিক রিপোর্ট পেলেই দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া শেষ করা হবে।
বিবার্তা/হাসানুজ্জামান/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com