
পঞ্চগড়ের সদর উপজেলার বড়বাড়ি সীমান্তে এখন শুধু সীমান্ত নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়, সামনে এসেছে এক গভীর মানবিক সংকট। নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১০ জন মানুষ দু'দিন ধরে সীমান্তের জিরো লাইনে অনিশ্চয়তার মধ্যে অবস্থান করছেন। তারা কোন দেশের নাগরিক, তাদের ভবিষ্যৎ কী হবে—এই প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। তবে সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হলো, খোলা আকাশের নিচে মানবেতর পরিস্থিতিতে দিন কাটছে তাদের।
শুক্রবার (৫ জুন) ভোরে হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি সীমান্তের মেইন পিলার ৭৫৮-এর ৫ নম্বর সাব-পিলার এলাকা দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ১০ জন নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে । নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের বড়বাড়ি ক্যাম্পের সদস্যরা বাধা দিলে তারা সীমান্তের জিরো লাইনের ভারতীয় অংশে অবস্থান নেয়।
জানা গেছে, ওই ১০ জনের মধ্যে রয়েছে ৩ জন শিশু, ২ জন নারী ও ৫ জন পুরুষ। সীমান্তে অবস্থানরত এসব মানুষের মাথার ওপর নেই কোনো ছাউনি। বর্ষাকালের বৈরী আবহাওয়া, ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের ঝুঁকির মধ্যেই খোলা জায়গায় দিন-রাত কাটছে তাদের।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সীমান্ত ও নাগরিকত্বের বিষয়টি রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন। তবে শিশু ও নারীদের এমন অনিশ্চিত অবস্থায় খোলা আকাশের নিচে রেখে দেওয়া কোনোভাবেই মানবিক নয়। তারা বলছেন, যে দেশের নাগরিকই হোক না কেন, দুই দেশের সরকারের উচিত দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো।
তারা আরও বলেন, “শিশুদের নিয়ে ঝড়-বৃষ্টি আর বজ্রপাতের মধ্যে খোলা জায়গায় থাকা খুবই কষ্টকর। মানবিক দিক বিবেচনা করে দ্রুত সমাধান হওয়া দরকার।
ঘটনার পর থেকে সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। স্থানীয়রাও পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন। এদিকে বিষয়টি নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
নীলফামারী ব্যাটালিয়ন (৫৬ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আমরা বিএসএফকে জানিয়েছি, তারা যদি বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে থাকে তাহলে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশে পাঠাতে হবে। অবৈধভাবে কাটাতারের বেড়া পার করে পুশইনের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। আইন ও নিয়ম মেনেই বিষয়টির সমাধান হতে হবে।
সীমান্তে নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় নীতির প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হলেও, জিরো লাইনে অবস্থানরত ১০ জন মানুষের অনিশ্চিত জীবন এখন বড় হয়ে উঠেছে মানবিক বিবেচনায়। বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা ও মৌলিক চাহিদার বিষয়টি স্থানীয়দের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিলে এই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটতে পারে বলে মনে করছেন সীমান্তবাসী।
বিবার্তা/বিপ্লব/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]