
টাঙ্গাইলের গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলার দুই গ্রামের মধ্যে চলমান সংঘর্ষ ও উত্তেজনার অবসানে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আহ্বান জানানো হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টুর উদ্যোগে বিরোধপূর্ণ দুই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে।
শনিবার(৬ জুন) সকালে গুলিপেঁচা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য মো. গনি তালুকদার হ্যান্ড মাইকে গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে শান্তির বার্তা পৌঁছে দেন। তিনি মাইকিং করে গোলপেঁচা, জগৎপুরা, নলীন, শাখারিয়া ও আশপাশের গ্রামের বাসিন্দাদের উদ্দেশে বলেন, পূর্বের মতো সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে চলাফেরা করতে হবে এবং কোনো গুজব বা উসকানিতে কান দেওয়া যাবে না।
মাইকিংয়ে আরও বলা হয়, দুই উপজেলার পার্শ্ববর্তী গ্রামের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও সাম্প্রতিক সংঘর্ষের বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে। কেউ যেন নতুন করে ঝগড়া-বিবাদে না জড়ান। কোনো ব্যক্তি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটালে তার বিরুদ্ধে প্রশাসন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাইলাতুল হোসেন জানান, দুই গ্রামের পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মাইকিং করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দোকানপাট ও ব্যবসা-বাণিজ্য চালু হতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ইতিবাচক প্রতিবেদন পাওয়া গেলে জারি করা ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে এলাকায় পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব হাসান বলেন, শুক্রবার রাতে সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টু এবং প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর মধ্যস্থতায় বিরোধ নিষ্পত্তি হয়েছে। এর ফলে দুই গ্রামের মধ্যে এখন স্বাভাবিক পরিবেশ বিরাজ করছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে এখনো ১৪৪ ধারা বহাল রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার গোপালপুর উপজেলার গুলিপেঁচা ও ভূঞাপুর উপজেলার জগৎপুরা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে পুরোনো বিরোধকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে জগৎপুরা গ্রামের কালাম তালুকদার (৬৫) নিহত হন। সংঘর্ষের পর উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং শুক্রবার রাতে অস্ত্র নিয়ে জড়ো হওয়ার ঘোষণাও শোনা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে।
এর মধ্যেই শনিবার সকালে কয়েকটি স্থানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। জগৎপুরা গ্রামের কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগও ওঠে।
বর্তমানে গোপালপুর উপজেলার নলীন বাজার, গোলপেঁচা এবং ভূঞাপুর উপজেলার জগৎপুরা এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। প্রশাসনের দাবি, পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে এবং শান্তি বজায় রাখতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
বিবার্তা/বাবু/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]