দাবি বিশিষ্টজনদের
শুধু আইন করে শিশু নির্যাতন বন্ধ করা সম্ভব নয়, প্রয়োজন সচেতনতা
প্রকাশ : ০৬ জুন ২০২৬, ২১:০৬
শুধু আইন করে শিশু নির্যাতন বন্ধ করা সম্ভব নয়, প্রয়োজন সচেতনতা
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

দেশে শিশু নির্যাতনের ক্রমবর্ধমান ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অপরাধীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষায় শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে জাতীয় পর্যায়ে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন তারা।


শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে ‘বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। অরাজনৈতিক সেবামূলক সংগঠন ‘নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্য সহায়তা সেল’-এর উদ্যোগে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়।


অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী এবং বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম। বৈঠকে ডেপুটি স্পিকার, সরকারের বিভিন্ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ দেশের স্বনামধন্য আইনজীবী, চিকিৎসক, সমাজবিজ্ঞানী, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন।


অনুষ্ঠানের শুরুতে সম্প্রতি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা যখন তার মেয়ের ওপর হওয়া বর্বরতার বিবরণ দিচ্ছিলেন, তখন হলজুড়ে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তার বুকফাটা আর্তনাদে উপস্থিত অতিথিরাও চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। বক্তারা রামিসাসহ অতীতে ঘটে যাওয়া সব শিশু নির্যাতনের ঘটনার বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সম্পন্ন করার তাগিদ দেন।


গোলটেবিল বৈঠকে প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন এবং সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী।


জনপ্রতিনিধি ও আইনপ্রণেতারা তাদের বক্তব্যে বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ করে শিশু নির্যাতন বন্ধ করা সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা এবং পারিবারিক মূল্যবোধের জাগরণ। সরকার শিশু সুরক্ষায় আইনি কাঠামো আরও শক্তিশালী করতে কাজ করছে বলে তারা জানান।


বৈঠকে আলোচকরা বাংলাদেশে শিশু নির্যাতনের ভয়াবহ পরিসংখ্যান, এর পেছনের মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক কারণ এবং তা প্রতিরোধে করণীয়সমূহ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। অনুষ্ঠান শেষে দীর্ঘ আলোচনার ভিত্তিতে তৈরি হওয়া একটি খসড়া সুপারিশমালা উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম। উপস্থিত অতিথিরা এই সুপারিশগুলো দ্রুত সরকারের সংশ্লিষ্ট নীতি-নির্ধারণী মহলে পৌঁছে দেয়ার ওপর জোর দেন।
তারা বলেন, এই আলোচনা যেন শুধু এই বৈঠকেই সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং সরকার থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি স্তরকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন চলচ্চিত্র অভিনেতা আশরাফ উদ্দিন আহমেদ (উজ্জ্বল), ওরাকলের কান্ট্রি ডিরেক্টর রুবাবা দৌলা, প্রখ্যাত আইনজীবী ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম, ডব্লিউএইচও প্রতিনিধি ডা. তৌহিদ ইসলাম এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন।


এ ছাড়া বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা আকতার, কালের কণ্ঠের সম্পাদক হাসান হাফিজ, ওজিএসবির সভাপতি অধ্যাপক ফিরোজা বেগম, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্টসের মহাসচিব ডা. মো. নিজাম উদ্দিন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাহরীন আই খান, মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাইফুন নাহার, ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক কাজী গোলাম মোখলেসুর রহমান, ঢাবির বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানা, ডা. সাকলায়েন রাসেল এবং প্রবীণ সাংবাদিক মো. মাহতাব উদ্দিন।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com